সময়ের সঙ্গে বদলে যায় মানুষের অভ্যাস, বদলে যায় বিনোদনের ধরনও। একসময় সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখা ছিল অনেকের সপ্তাহ শেষের বড় আনন্দ। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সেই অভ্যাসে এসেছে বড় রদবদল। এখন হাতে স্মার্টফোন থাকলেই কয়েক সেকেন্ডে পাওয়া যায় অসংখ্য ভিডিও, সিরিজ কিংবা গান। এই পরিবর্তনের মধ্যেই শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন অনেক শিল্পী। সম্প্রতি এমনই কিছু কথা সামনে আনলেন টলিউড অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়, যা শুনে অনেকেই নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন বর্তমান বিনোদন জগতের অবস্থান নিয়ে।
প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০৮ সালে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘চিরদিনি তুমি যে আমার’ ছবির মাধ্যমে তিনি দর্শকের কাছে বিশেষভাবে পরিচিতি পান। এরপর বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন—দুই ক্ষেত্রেই কাজ করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন নাট্যমঞ্চের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রায় ১৮ বছরের ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে ইন্ডাস্ট্রি ও সমাজের পরিবর্তন নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন অভিনেতা।
রাহুলের মতে, এখন মানুষের মনোযোগের সময় ক্রমশ কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আজকের দর্শক দীর্ঘ সময় ধরে কোনো শিল্পকে গ্রহণ করার বদলে মাত্র এক মিনিটের ভিডিও বা রিলেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাঁর কথায়, এই প্রবণতা শুধু সিনেমা নয়, সাহিত্য, সংগীত কিংবা চিত্রকলার মতো অন্যান্য শিল্পকেও প্রভাবিত করছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, পৃথিবীর বিখ্যাত ভ্যান গগের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানোর মতো ধৈর্য এখন খুব কম মানুষের মধ্যেই দেখা যায়।
বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের পরিস্থিতি নিয়েও সরাসরি মত প্রকাশ করেছেন অভিনেতা। তাঁর মতে, বাংলা সিনেমার বাজার তুলনামূলক ছোট হওয়া, দর্শকদের উদাসীনতা, হিন্দি ছবির প্রবল প্রভাব এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব—এই সবকিছু মিলেই ইন্ডাস্ট্রিকে পিছিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এখন আমরা এক ধরনের ট্রানজিশনাল ফেজে রয়েছি। যাত্রার মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পও আগের সেই স্বতন্ত্র রূপ ধরে রাখতে পারেনি। অনেক ক্ষেত্রে ৮০ বা ৯০-এর দশকের বাংলা ছবির গল্পই নতুনভাবে মঞ্চে তুলে ধরা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ পা’র্কিনসন্সে ভুগছেন, অভাবে কাটছে দিন! একটা সিরিয়ালেই আজ তারকাদের বাড়ি-গাড়ি, শঙ্কর ঘোষালের মতো বর্ষীয়ান অভিনেতা লড়ছেন অর্থকষ্টে! উঠছে প্রশ্ন, একসময় যাঁদের অভিনয়ে সমৃদ্ধ হয়েছিল, কেন সেই শিল্পীদের পাশে নেই বাংলা ইন্ডাস্ট্রি?
তবে এই পরিবর্তনের মধ্যেও কিছু জায়গায় শিল্প টিকে থাকবে বলেই মনে করেন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, লাইভ অভিজ্ঞতার আকর্ষণ—যেমন ক্রিকেট ম্যাচ—মানুষকে সবসময় টানবে। কিন্তু সিনেমা দেখার অভ্যাস ধীরে ধীরে বদলে যাবে। ভবিষ্যতে হয়তো অনেকেই নিজের পছন্দমতো কনটেন্ট বাড়িতে বসেই, হেডফোনে আলাদা করে দেখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। ইউরোপের মতো দর্শকের হাতে থাকবে চ্যানেল বদলানোর স্বাধীনতা। আর সেই পরিবর্তনের মধ্যেই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে পুরো চলচ্চিত্র শিল্পকে।






