বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কোনও ঘটনাই আর সীমাবদ্ধ থাকে না নির্দিষ্ট কোনও জায়গায়। ফেসবুক, ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে একটি ভিডিও বা একটি মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। অনেক সময় ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনাও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জনসমক্ষে চলে আসে এবং তা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা, সমালোচনা কিংবা বিতর্ক। ঠিক এমনই এক ব্যক্তিগত ঘটনাকে ঘিরেই গত বছর ব্যাপক আলোচনায় উঠে এসেছিলেন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সোহিনী গাঙ্গুলী।
২০২৫ সালের আগস্ট মাসে সোহিনী গাঙ্গুলীর জীবনে নেমে আসে এক ভয়াবহ বিপর্যয়। ২২ আগস্টের পর প্রসবের কিছু সময়ের মধ্যেই তার নবজাতক সন্তানের মৃত্যু ঘটে বলে জানা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগ ওঠে এবং খুব দ্রুত বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় অনেকেই তার পাশে দাঁড়ালেও, আবার অনেকের তরফে সমালোচনাও শুরু হয়। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল তৈরি করা বা বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করা নিয়ে নানা মন্তব্য দেখা যায় নেটমাধ্যমে।
সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করেছেন সোহিনী। চলতি বছরে আবার নতুন করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হয়েছেন তিনি। বিভিন্ন পডকাস্ট ও সাক্ষাৎকারেও নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে শুরু করেছেন। সেখানে তিনি শুধু নিজের কষ্টের কথাই বলেননি, বরং সেই সময়ে একজন মায়ের মানসিক অবস্থা কতটা কঠিন হতে পারে সেটাও বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। তার কথায়, জীবনের এই অভিজ্ঞতা তাকে অনেক কিছু নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের সন্তানকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সোহিনী বলেন, তিনি এমন একটি সন্তানের মা হতে পেরেছিলেন যে নাকি “খুবই পবিত্র” ছিল। তার কথায়, শিশুটির জীবনে কোনও পাপ স্পর্শই করতে পারেনি। আসলে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, যে ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না, অনেক সময় তার মধ্যেই এক ধরনের গভীর পবিত্রতা থাকে। সেই অনুভূতি থেকেই তিনি তার সন্তানের স্মৃতিকে এভাবেই দেখেন বলে জানান।
আরও পড়ুনঃ ৭ই মার্চের সেই ম’র্মান্তিক দুর্ঘ’টনা, থামিয়ে দিয়েছিল কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের কন্ঠ! বাউলদের আখড়ায় গান শেখা থেকে ‘দোহার’ গঠন, বাংলার লোকসঙ্গীতকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছানোর নিরলস সাধকের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি!
তবে সোহিনীর এই বক্তব্য ঘিরেই আবার নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যদি তার সন্তানকে ‘সবচেয়ে পবিত্র’ বলা হয়, তাহলে পৃথিবীতে থাকা অন্য শিশুরা কি পবিত্র নয়? এমন মন্তব্য ঘিরে নানা কটাক্ষ ও সমালোচনাও দেখা যাচ্ছে। যদিও অনেকেই আবার মনে করছেন, একজন মায়ের ব্যক্তিগত শোক ও আবেগ থেকেই এই কথাগুলো বলেছেন তিনি। তবুও সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে একটি মন্তব্য কীভাবে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, সোহিনী গাঙ্গুলীর ঘটনাই তার সাম্প্রতিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।






