টলিপাড়ায় নেপোটিজম নিয়ে বলিউডের মতো এত জোরালো আলোচনা না থাকলেও ‘ফেবারিটিজম’ বা পছন্দের মানুষকে সুযোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ মাঝেমধ্যে উঠে আসে। তবে এই ধারণার মধ্যেও অনেক ব্যতিক্রম রয়েছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী ‘সোহিনী সেনগুপ্ত’ (Sohini Sengupta)। সম্প্রতি তাঁর নতুন ছবি ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’-এর প্রচারে এসে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা খোলামেলাভাবে ভাগ করে নেন। অনেকেই মনে করেন তিনি হয়তো পারিবারিক সূত্রে সহজেই অভিনয় জগতে প্রবেশ করেছেন, কিন্তু তাঁর কথায় বাস্তবটা ততটা সরল ছিল না।
সোহিনীর বাবা বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত। সেই সূত্রেই অনেকের ধারণা ছিল, থিয়েটারের দায়িত্ব তাঁর হাতে সহজেই চলে এসেছে। কিন্তু অভিনেত্রীর দাবি, সেই পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। জীবনের অনেকটা সময় ধরে নিষ্ঠা আর কঠোর পরিশ্রমের প্রমাণ দেওয়ার পরেই তিনি নিজের এই জায়গা তৈরি করতে পেরেছেন। থিয়েটারের কাজের ক্ষেত্রেও বাবার আস্থা পেতে সময় লেগেছে, আর এখনও তিনি একইভাবে কাজ করে চলেছেন। অবশ্য বর্তমানে তাঁর বাবা অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর ওপর নির্ভর করেন।
বড়পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু হয় পরিচালক অপর্ণা সেনের হাত ধরে, ছবির নাম ছিল ‘পারমিতার একদিন’। এরপর একাধিক উল্লেখযোগ্য ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। ‘ইচ্ছে’, ‘অলীক সুখ’, ‘বেলাশেষে’র মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকের নজর কেড়েছে। পাশাপাশি থিয়েটারের জগতে তিনি ‘নান্দীকার’ নাট্যদলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। বড়পর্দা আর মঞ্চ, দুই জায়গাতেই নিজের দক্ষতার মাধ্যমে তিনি আলাদা করে পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।
প্রসঙ্গত, বড়পর্দার ক্ষেত্রেও সুযোগ খুব সহজে আসেনি বলে জানান তিনি। খুব অল্প বয়স থেকেই পরিচালক জুটি নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তাঁকে চিনতেন। তাই যখন তাঁদের ছবিতে কোনও চরিত্র তাঁর সঙ্গে মানানসই মনে হয়েছে, তখনই তাঁকে নেওয়া হয়েছে। এই নতুন ছবিতেও ‘ফুলপিসি’ চরিত্রটি এক ধরনের রহস্যের জট খুলতে চেষ্টা করে। মজার ছলে সোহিনী বলেন, শিবপ্রসাদকে তিনি এখনও একটু ভয় পান, যদিও তাঁদের সঙ্গে কাজের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।
আরও পড়ুনঃ “দেবের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত রাজনীতি চলছে”, “বনিকে হিরো বানাতে হল মালিকদের হু’মকি দিচ্ছেন মা” ইম্পা বৈঠকের পর, পিয়া সেনগুপ্তকে নিশা’না করে সমাজ মাধ্যমে একাধিক বি’স্ফোরক পোস্ট রাণা সরকারের! টলিপাড়ায় নতুন করে শুরু বিতর্ক!
অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজে নারীদের অবস্থান নিয়েও নিজের মতামত জানান তিনি। তাঁর মতে, নারীরা অনেকটা পথ এগোলেও এখনও আরও এগোনোর সুযোগ ও প্রয়োজন রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনেও পরিবারের সমর্থনকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। বাড়িতে বাবা, শ্বশুর এবং স্বামীর সহযোগিতা না পেলে পেশাগত জীবন এতটা সহজ হত না বলেই মনে করেন তিনি। প্রয়োজনে তাঁর স্বামী রান্না করে রাখেন, এইটুকু সহায়তাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি বলে মনে করেন।






