বাংলা টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ অঞ্জনা বসু। দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয়ের জগতে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। কখনও কঠোর, কখনও দাপুটে চরিত্র—এ ধরনের ভূমিকায় তাকে দেখতেই অভ্যস্ত দর্শক। পর্দায় যেমন তিনি শক্তিশালী উপস্থিতি রাখেন, বাস্তব জীবনেও তেমনই স্পষ্টভাষী বলেই পরিচিত এই অভিনেত্রী। ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করতেও কখনও পিছপা হন না তিনি।
২০০৩ সালে একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকের মাধ্যমে দর্শকের নজরে আসেন অঞ্জনা বসু। এরপর একের পর এক ধারাবাহিক এবং সিনেমায় অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। টেলিভিশনের পাশাপাশি বড় পর্দাতেও কাজ করেছেন সমান দক্ষতায়। বর্তমানে অভিনেত্রী কে জি বাংলার কুসুম ধারাবাহিকে দেখা যাচ্ছে। তার অভিনয়ের গম্ভীরতা এবং সংলাপ বলার ভঙ্গি তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দিয়েছে বলেই মনে করেন অনেকেই।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে শোনা গেল অঞ্জনা বসুকে। অভিনেত্রীর কথায়, অনেক সময় তিনি ইচ্ছা করেই চুপ থাকেন। কারণ, মুখ খুললে হয়তো এমন কিছু বলে ফেলতে পারেন যা বলা উচিত নয়। তাই অনেক বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না তিনি। তার মতে, সব কথা সব সময় বলা দরকার হয় না।
অঞ্জনা বসু আরও বলেন, জীবনের পথে চলতে গিয়ে অনেক মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, আবার অনেকেই চলে যায়। কেউ যদি বিশ্বাসঘাতকতা করে চলে যায়, তাতে তার বিশেষ কিছু যায় আসে না বলেই মনে করেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, “বিশ্বাসঘাতক কেউ যদি জীবন থেকে চলে যায়, তাতে কেন আমার ক্ষতি হবে?” তবে যদি কেউ সত্যিই ক্ষতি করে দিয়ে যায়, তখন সেই পরিস্থিতি কতটা প্রভাব ফেলবে তা নির্ভর করে সময় এবং পরিবেশের উপর।
আরও পড়ুনঃ “কৌশাম্বী এত সুন্দর ও মিষ্টি মেয়ে, কেনও খলনায়িকা বানায় প্রতিটা ধারাবাহিকে?” “সব গল্পে নায়িকার চেয়ে কৌশাম্বীকেই বেশি ভালো লাগে!” ‘গঙ্গা’র প্রথম পর্বেই চর্চায় কৌশাম্বী চক্রবর্তী, অর্জুন-অহনার রসায়ন দেখেই নতুন জুটি নিয়ে সরব দর্শক!
এই ধরনের স্পষ্ট এবং বাস্তববাদী কথাবার্তার জন্যই অঞ্জনা বসুকে আলাদা করে চেনেন দর্শকরা। পর্দায় যেমন তিনি শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করেন, বাস্তব জীবনেও তার চিন্তাভাবনায় সেই দৃঢ়তার ছাপ দেখা যায়। জীবনের নানা অভিজ্ঞতা থেকেই হয়তো এমন ভাবনার জন্ম হয়েছে। তবে তার এই সোজাসাপ্টা কথা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার মতো শোনায়—কারণ জীবনের কঠিন সত্যকে এভাবেই মেনে নেওয়ার কথা বলেন তিনি।






