বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার টলিউডের অন্দরেও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে হারিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়েছে বিজেপি। আর ফল প্রকাশের পর থেকেই নজরে এসেছে একাধিক তারকার আচরণে বদল। যাঁরা কিছুদিন আগেও প্রকাশ্যে রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় ছিলেন, তাঁদের অনেককেই এখন আবার পুরনো পেশায় ফেরার কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই অভিনেতা ও সঞ্চালক মীর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন। পোস্টে তাঁকে জোকারের সাজে দেখা যায়। তবে মুখে হাসি নয়, বরং বিভ্রান্তিকর অভিব্যক্তি ছিল তাঁর।
সেই ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, “আমার মুখের ভাব, যখন কাউকে বলতে শুনি: আমি আর রাজনীতি করব না। নিজের আসল কাজে ফিরতে চাই।” আর ছবির নীচে বড় অক্ষরে লেখা ছিল, “ধুরন্ধর”। মীরের এই পোস্ট সামনে আসতেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। যদিও কোথাও কোনও নাম উল্লেখ করেননি তিনি, তবু অনেকের ধারণা এই কটাক্ষ নির্দিষ্ট কিছু তারকাকে উদ্দেশ্য করেই করা হয়েছে। বিশেষ করে পরিচালক ও অভিনেতা রাজ চক্রবর্তীর নাম ঘুরে ফিরে আসছে আলোচনায়। কারণ ভোটের ফল প্রকাশের পর রাজ নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি আর সক্রিয় রাজনীতিতে থাকতে চান না।
বরং এবার পুরোপুরি কাজে মন দিতে চান। সেই বক্তব্য সামনে আসার কিছু সময়ের মধ্যেই মীরের এই পোস্ট হওয়ায় অনেকেই দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজছেন। তবে মীরের পোস্ট শুধুই রাজকে ঘিরে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন নেটিজেনদের বড় অংশ। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ব্যাখ্যা উঠে আসতে শুরু করেছে। শুধু রাজ চক্রবর্তী নন, আরও কয়েকজন পরিচিত তারকার নামও এই আলোচনায় উঠে এসেছে। অনেকের মতে, “ধুরন্ধর” শব্দটি হয়তো একাধিক অভিনেতা ও অভিনেত্রীকে উদ্দেশ্য করেই ব্যবহার করেছেন মীর। সেই তালিকায় রয়েছেন দেব, কাঞ্চন মল্লিকের মতো নামও।
আবার অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্রকেও নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। কিছুদিন আগে তিনি এমন কিছু পোস্ট করেছিলেন, যা দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তাঁকে “পাল্টিবাজ” বলে কটাক্ষ করেছিলেন। পরে রূপাঞ্জনা নিজেই জানান, তিনি আর রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন না। ফলে মীরের পোস্টের সঙ্গে সেই ঘটনাকেও মিলিয়ে দেখছেন অনেকে। যদিও এই বিষয়ে এখনও সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি মীর। এদিকে বিধানসভা ভোটের পর অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যও যথেষ্ট চর্চায় উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ১৫ বছর আগে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এত রাজনৈতিক প্রভাব ছিল না।
তাঁর এই বক্তব্যও অনেকের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়মিত শরীরচর্চার ভিডিও পোস্ট করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তা দেখে অনেকের অনুমান, তিনি হয়তো আবার অভিনয়ের জগতে পুরোপুরি মন দিতে চলেছেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই ধরনের নানা ইঙ্গিত ও মন্তব্য এখন বিনোদন জগতের অন্দরে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে যারা আগে রাজনৈতিকভাবে খুব সক্রিয় ছিলেন, তাঁদের সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। শুধু রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত নয়, ভোটের ফলের পর আরও একটি বিষয় চোখে পড়েছে।
আরও পড়ুনঃ দু’বছর রোল ক্যামেরা অ্যাকশন থেকে দূরে! দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে ধারাবাহিকে ফিরছেন পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায়! ছোটপর্দা থেকে দূরে থাকলেও ছাড়েননি অভিনয়, এতদিন কাজ না করার কী কারণ জানালেন অভিনেত্রী?
অনেক অভিনেতা ও অভিনেত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির জয়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ফলে তারকাদের অবস্থান বদল নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই পুরো পরিস্থিতিকেই যেন অন্যভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন মীর তাঁর পোস্টে। সরাসরি কাউকে আক্রমণ না করেও তিনি এমন একটি বার্তা দিয়েছেন, যা নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা চলছে। “আমি আর রাজনীতি করব না, নিজের আসল কাজে ফিরতে চাই” এই লাইন এবং “ধুরন্ধর” শব্দটি ঘিরেই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে নানা ব্যাখ্যা, সমালোচনা ও জল্পনা। তবে পোস্টের আসল লক্ষ্য কারা, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।






