অভিনয় দিয়ে শুরু, অন্য পথেই খুঁজে পেলেন নিজের পরিচয়! সমকামী ও অভিবাসী আন্দোলন নিয়ে সরব, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও প্রশংসিত! মিঠুন চক্রবর্তীর মেজো ছেলেকে চেনেন? কী করেন জানেন তিনি?

বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় নাম মিঠুন চক্রবর্তী। বহু দশক ধরে তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিগত জীবন এবং সম্পর্ক নিয়ে মানুষের আগ্রহ কখনও কমেনি। স্ত্রী যোগিতা বালি ও চার সন্তানকে নিয়ে তাঁর পরিবারও প্রায়ই আলোচনায় থাকে। তিন ছেলের পাশাপাশি মিঠুনের দত্তক কন্যা দিশানীকেও নিয়ে চর্চা কম নয়। বড় ছেলে মহাক্ষয় চক্রবর্তী ইতিমধ্যেই অভিনয়ে পরিচিত মুখ। ছোট ছেলে নমশি চক্রবর্তী-ও এখন সিনেমার জগতে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি নতুন ছবির প্রচারে ছেলেকে সঙ্গে নিয়েই কলকাতায় সংবাদমাধ্যমের সামনে এসেছিলেন মিঠুন। তবে এই দুই পরিচিত মুখের আড়ালেই রয়েছেন আরও এক পুত্র, উষ্মে চক্রবর্তী, যাঁকে নিয়ে খুব বেশি আলোচনা শোনা যায় না।

মিঠুন ও যোগিতা বালির মেজো ছেলে উষ্মে চক্রবর্তী বরাবরই ক্যামেরার সামনে থেকে কিছুটা দূরে থাকতে পছন্দ করেন। এক সাক্ষাৎকারে মিঠুন জানিয়েছিলেন, তাঁর এই ছেলে দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকায় থাকেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসেই থাকেন উষ্মে। যদিও অভিনয়ের পরিবারের সদস্য, তবুও তাঁর মূল আগ্রহ সিনেমা নির্মাণে। নিউইয়র্ক ফিল্ম অ্যাকাডেমি থেকে ফিল্ম মেকিংয়ের উপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। সিনেমা তৈরি, গল্প লেখা এবং পরিচালনাকেই নিজের ভবিষ্যৎ হিসেবে বেছে নিয়েছেন উষ্মে। আন্তর্জাতিক বিষয় এবং সমাজের নানা দিককে কেন্দ্র করে কাজ করতেই বেশি স্বচ্ছন্দ তিনি। বিশেষ করে পরিচয় সংকট, অভিবাসী জীবন ও সমকামী সমাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর আগ্রহ আলাদা করে নজর কেড়েছে।

উষ্মের তৈরি অন্যতম আলোচিত স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘গে, এশিয়ান, ইমিগ্রান্ট’। এই ছবির বিষয় ছিল আমেরিকায় বসবাসকারী এক সমকামী এশীয় যুবকের দ্বৈত সংকট। সমাজে নিজের পরিচয় নিয়ে যে মানসিক চাপ ও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, সেই বাস্তবতাই তুলে ধরা হয়েছিল ছবিতে। শুধু পরিচালনা নয়, ছবির প্রধান চরিত্র রবির ভূমিকাতেও অভিনয় করেছিলেন উষ্মে নিজেই। তাঁর এই কাজ আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রশংসা পেয়েছিল। সমকামী পরিচয় ও অভিবাসী জীবনের মতো বিষয় নিয়ে এত খোলামেলা ভাবে কাজ করায় অনেকেই তাঁর সাহসী ভাবনাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। মূলধারার বাণিজ্যিক ছবির বাইরে গিয়ে অন্য ধরনের গল্প বলার চেষ্টা বরাবরই দেখা গিয়েছে তাঁর কাজে। সেই কারণেই বলিউডের প্রচলিত ছকের বাইরে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন উষ্মে।

তবে উষ্মের বিনোদন জগতের সফর শুরু হয়েছিল অভিনেতা হিসেবেই। দুই হাজার আট সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ফির কভি’ ছবিতে প্রথমবার অভিনয় করেন তিনি। মজার বিষয় হল, সেই ছবিতে নিজের বাবা মিঠুন চক্রবর্তীর তরুণ বয়সের চরিত্রেই দেখা গিয়েছিল তাঁকে। অভিনয় দিয়ে শুরু করলেও পরে পরিচালনার দিকেই বেশি মন দেন উষ্মে। দুই হাজার দশ সালে তাঁর লেখা, প্রযোজিত এবং পরিচালিত ছবি ‘লাইফ, সামহয়্যার’ মুক্তি পায়। ছবিটি আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসা কুড়োয়। পরে কানাডা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে মর্যাদাপূর্ণ ‘রয়্যাল রিল অ্যাওয়ার্ড’ও জেতে সেই ছবি। এরপর দুই হাজার তেরো সালে তাঁর দ্বিতীয় পরিচালিত ছবি ‘লাকি ম্যান’ মুক্তি পায়। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী অমৃতা সুভাষ।

আরও পড়ুনঃ “আমার মুখের ভাব…” জোকারের সাজে মীরের পোস্ট ঘিরে তোলপাড়! ফের চর্চায় টলিউডের রাজনৈতিক সমীকরণ! কাদের উদ্দেশে ‘ধুরন্ধর’ কটাক্ষ তাঁর?

পরিচালক হিসেবে নিজের আলাদা ভাবনা নিয়ে কাজ চালিয়ে গিয়েছেন উষ্মে। দুই হাজার সতেরো সালে তিনি তৈরি করেন আরও একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘হোলি স্মোক!’। এই ছবির বিশেষ আকর্ষণ ছিল, সেখানে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তাঁর ভাইবোনেরা। মহাক্ষয়, নমশি এবং দিশানী গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছিল ছবিতে। পারিবারিক উপস্থিতির কারণে ছবিটি আলাদা করে নজর কাড়ে দর্শকদের মধ্যে। পরে জনপ্রিয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ভিমিওতে মুক্তি পায় সেই ছবি। যদিও মিঠুনের অন্য দুই ছেলের মতো উষ্মে খুব বেশি প্রচারের আলোয় থাকেন না, তবুও চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে ধীরে ধীরে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। অভিনয়ের চেয়ে পরিচালনা এবং সমাজমুখী গল্প বলার দিকেই তাঁর ঝোঁক সবচেয়ে বেশি, সেটাই বারবার স্পষ্ট হয়েছে তাঁর কাজের মাধ্যমে।

You cannot copy content of this page