নব্বইয়ের দশকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ামক মনীষা মুখোপাধ্যায়ের রহস্যজনক অন্তর্ধান আজও বহু প্রশ্নের জন্ম দেয়। সেই অমীমাংসিত ঘটনার সূত্র ধরেই তৈরি হয়েছে অরিন্দম শীলের নতুন ছবি ‘কর্পূর’ (Korpur)। রাজনৈতিক থ্রিলার এই ছবিটি নিয়ে শুরু থেকেই আগ্রহ ছিল দর্শক এবং টলিপাড়ার অন্দরে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে অন্ধকারে চাপা বাস্তব ঘটনার ছায়া যে ছবির গল্পে রয়েছে, তা প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি ঘিরে আলোচনার ঝড় ওঠে। ছবির পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই তৈরি হয়েছিল কৌতূহল, আর সম্প্রতি প্রথম ঝলক সামনে আসতেই সেই আগ্রহ যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
এই ছবির অন্যতম আকর্ষণ হল একেবারে নতুনভাবে দেখা যাবে কয়েকজন পরিচিত মুখকে। মনীষা মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ‘ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত’ (Rituparna Sengupta)। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন ব্রাত্য বসু, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাহেব চট্টোপাধ্যায়। এমনকি দেখা যাবে পরিচালক অরিন্দম শীলকেও। তবে সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে আরও একটি দিক। এই ছবির মাধ্যমেই অভিনেতা হিসেবে বড়পর্দায় অভিষেক হচ্ছে কুণাল ঘোষের। তিনি এখানে অনিল বিশ্বাসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
প্রসঙ্গত, ছবির মুক্তির আগেই এক আলোচনায় মুখোমুখি হয়েছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং অরিন্দম শীল। সেই আলাপচারিতায় সহ-অভিনেতা ‘ব্রাত্য বসু’কে (Bratya Basu) নিয়ে ঋতুপর্ণা বেশ প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “ব্রাত্য বসু তো নিজেই একটা ইনস্টিটিউশন। ওর মতো এত ভালো অভিনয় খুব কম মানুষ পারে। আমি এর আগেও অনেক কাজ করেছি ওনার সঙ্গে এবং আমরা একটা দুর্দান্ত ছবি করেছিলাম, যেটার নাম বারান্দা। ব্রাত্যদার সঙ্গে আমার খুব সুন্দর রসায়ন ছিল। আমাদের প্রথম কাজ ছিল মুক্তধারা ছবিতে।
তখনই বুঝেছিলাম যে থিয়েটার আর্টিস্ট হিসেবে একটা প্রভাব ওনার চরিত্রে সব সময় থাকে। কিন্তু সিনেমার মধ্যে কখনোই সেটা পাওয়া যায় না। যারা মূলত থিয়েটার থেকে আসে, তারা খুব একটা সাচ্ছন্দ্যবোধ করে না ক্যামেরার সামনে। খুব কম শিল্পী আছেন, যারা দুটো মিডিয়ামকে সমান ব্যাবহার করতে পারেন। ওনার একটা অসম্ভব খিদে রয়েছে ভালো চরিত্রের। পাগলের মতন করেন অভিনয় করার জন্য। এই ছবিতে ব্রাত্যদাকে যেমন একদম নতুনভাবে পেলাম।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা। কেউ কেউ ঋতুপর্ণার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন।
তাদের কথায়, “ব্রাত্য বসু সত্যিই একজন শক্তিশালী অভিনেতা। থিয়েটার এবং সিনেমা, দুই মাধ্যমেই তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন।” আবার অনেকেই আপত্তি তুলেছেন ‘ইনস্টিটিউশন’ শব্দটি ব্যবহার করা নিয়ে। একজন লিখেছেন, “ব্রাত্য বসু যদি ইনস্টিটিউশন হবে, তাহলে শিশির ভাদুরী, উৎপল দত্ত, শম্ভু মিত্র, অজিতেশ বন্দোপাধ্যায় এনারা কি?” আরেকজন সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, “উনি কি উত্তম কুমার নাকি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়?” এছাড়াও নেটমাধ্যমে আরও কিছু সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে।
আরও পড়ুনঃ “বিশ্বাসঘাতক কেউ যদি চলে যায়, আমার কেন ক্ষতি হবে?” হঠাৎ কেন এমন কড়া মন্তব্য অঞ্জনা বসুর? ব্যক্তিগত জীবনে, নাকি ইন্ডাস্ট্রিতেই তিক্ত অভিজ্ঞতা? কীসের ইঙ্গিত দিতে মুখ খুললেন বাস্তববাদী অভিনেত্রী?
কেউ মন্তব্য করেছেন, “ব্রাত্য বসু ভালো অভিনেতা হলেও তাঁকে কিংবদন্তিদের সঙ্গে একই সারিতে বসানো ঠিক নয়।” আবার কেউ লিখেছেন, “থিয়েটারে তাঁর অবদান স্বীকার করলেও সিনেমায় তাঁর কাজ নিয়ে এখনও বিতর্ক আছে।” অন্য একজনের কথায়, “অনেক সময়ই প্রচারের জন্য এই ধরনের বড় শব্দ ব্যবহার করা হয়।” তবে এসব মতভেদের মধ্যেই ‘কর্পূর’ ছবিটি নিয়ে কৌতূহল যে বাড়ছে, তা বলাই যায়। বাস্তবের রহস্যময় ঘটনার প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ছবিটি মুক্তির পর দর্শকদের সামনে কতটা নতুন প্রশ্ন বা উত্তর তুলে ধরতে পারে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।






