দীর্ঘ বিতর্ক, রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং অপেক্ষার পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেতে চলেছে বিবেক অগ্নিহোত্রীর ছবি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’। গত বছর দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি মুক্তি পেলেও বাংলায় তা দেখানো হয়নি। কলকাতায় ট্রেলার লঞ্চের সময়ও নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং একাধিক বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল নির্মাতাদের। এবার ১৫ মে রাজ্যের সিনেমা হলে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে। একই দিনে মুক্তি পাচ্ছে ‘মিঠুন চক্রবর্তী’র (Mithun Chakraborty) ছেলে নমশী চক্রবর্তীর নতুন ছবি ‘আখরি সাওয়াল’। এই দুই ছবির মুক্তিকে ঘিরে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আর সেই আবহেই শহরে সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন মিঠুন! রাজনীতি থেকে সিনেমা, সব বিষয়েই সোজাসাপ্টা মন্তব্য করেন তিনি। ছেলের নতুন ছবির প্রচারে এসে মিঠুন প্রথমেই বলেন, এই সময়টা তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদল এবং ছেলের ছবি মুক্তি, দুটো ঘটনাই একসঙ্গে ঘটছে। তিনি জানান, “দেখুন, গত পাঁচ বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। বিজেপির হয়ে নাগাড়ে প্রচার করেছি, মানুষকে বুঝিয়েছি। শেষমেশ পরিবর্তন হয়েছে একেবারে সঠিক সময়ে। খুব দরকার ছিল এই পরিবর্তনের।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে তিনি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।
দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় থাকার কথাও তিনি মনে করিয়ে দেন। একই সঙ্গে এই পরিবর্তনকে সময়োপযোগী বলেও দাবি করেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। টলিপাড়ায় বহুদিন ধরে চলা ছবি বন্ধ হওয়া বা শিল্পীদের কাজ না পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে জবাব দেন মিঠুন। তিনি স্পষ্ট বলেন, “আর কোনও ছবি ব্যান হবে না। প্রশ্নই নেই!” এরপর আরও যোগ করেন, “কোনও ছবিতে আর রাজনীতির রং লাগানো হবে না। সব সাফ করে দেওয়া হয়েছে।” তাঁর মতে, এবার থেকে ছবির ভাগ্য ঠিক করবেন দর্শকরাই।
সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এবার থেকে ছবি ভাল হলে দর্শক দেখবেন, খারাপ হলে দেখবেন না। ব্যস! সবটুকুই দর্শকের হাতে থাকবে।” এই মন্তব্যে টলিউডের ভবিষ্যৎ পরিবেশ নিয়ে বড় বার্তা দিয়েছেন তিনি বলে মনে করা হচ্ছে। শিল্পীদের কাজের স্বাধীনতার পক্ষেও অবস্থান নেন মিঠুন। ছেলে নমশী চক্রবর্তীর নতুন ছবি নিয়েও যথেষ্ট আশাবাদী দেখা যায় তাঁকে। সংবাদ মাধ্যমের সামনে ছেলের প্রশংসা করে মিঠুন বলেন, “ও খুব ভাল অভিনেতা। আর এই ছবির বিষয়ও যথেষ্ট সাহসী। দেখবেন আপনারা।” তিনি জানান, নমশীর নতুন কাজ নিয়ে তিনি গর্বিত।
একই সঙ্গে এই সময় ছেলের ছবি মুক্তি পাওয়ায় তাঁর আনন্দ আরও বেড়েছে বলেও জানান অভিনেতা। পারিবারিক আবেগ এবং পেশাগত সাফল্য, দুয়ের মিশ্রণই ছিল তাঁর কথায়। নতুন প্রজন্মের অভিনেতা হিসেবে নমশীকে দর্শক কীভাবে গ্রহণ করেন, সে দিকেও নজর রয়েছে বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি। ফলে ‘আখরি সাওয়াল’ ছবির মুক্তিও এখন বিশেষ আলোচনায়। এদিন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাইকোর্টে উপস্থিত হওয়া নিয়েও মন্তব্য করেন মিঠুন।
আরও পড়ুনঃ “যে অন্যায় আমার সঙ্গে হয়েছিল, তা আর হতে দেব না…কারও পেটের ভাত মে’রে দেওয়া চলবে না” পদ্ম শিবিরে নাম লেখাতেই বন্ধ হয়েছিল সব দরজা, দিতে হয়েছিল চরম মাশুল! বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই, অতীত নিয়ে বি’স্ফোরক লকেট চট্টোপাধ্যায়!
ভোট-পরবর্তী অশান্তি সংক্রান্ত মামলায় সওয়াল করতে বৃহস্পতিবার সকালে আইনজীবীর পোশাকে আদালতে পৌঁছন তৃণমূল নেত্রী। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই কটাক্ষের সুরে মিঠুন বলেন, “উনি এতদিন যা খুশি তাই করে এসেছেন, ওঁকে তাই-ই করতে দিন। যা খুশি করুক। আমাদের কিচ্ছু যায় আসে না!” এরপর আরও যোগ করেন, “আর ওঁকে আমার কোনও প্রশ্ন করার নেই। যেখানে আছেন উনি, সেখানেই থাকুন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সিনেমার প্রচারমঞ্চ থেকেই রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এমন মন্তব্য করে ফের শিরোনামে এলেন মিঠুন চক্রবর্তী।






