বলিউডের ইতিহাসে কিছু মুখ চিরকাল দর্শকদের মনে গেঁথে থাকে। এমনই এক মুখ ছিলেন ছোট্ট নায়ক মাস্টার লাড্ডু। যার মিষ্টি চেহারা আর অনবদ্য অভিনয় মনে করে দেয় সত্তরের দশকের এক উজ্জ্বল সময়ের কথা। অমিতাভ বচ্চনের ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের হৃদয় জয় করেছিলেন। কিন্তু এই উজ্জ্বল প্রতিভার জীবন যেন হঠাৎ করেই নৃশংস চক্রে পড়ে যায়।
১৯৭৬ সালে ‘দো আনজানে’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চন ও রেখার সঙ্গে লাড্ডু অভিনয় করে সবার নজর কেড়েছিলেন। পরের বছর ‘মিস্টার নটবরলাল’-এ ছোটবেলার অমিতাভের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি যেন দর্শকদের মনে চিরস্থায়ী ছাপ ফেলেছিলেন। জিতেন্দ্র, ধর্মেন্দ্র, হেমা মালিনী থেকে শুরু করে সঞ্জয় দত্ত, মাধুরী দীক্ষিত—সবার সঙ্গে তিনি স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন। টলিপাড়ার আড্ডায় বলতো, বড় হয়ে লাড্ডুই হবেন নতুন সেনসেশন।
কিন্তু ১৯৮৯ সালের একটি রাত, মুম্বইয়ের আন্ধেরি এলাকায় ঘটে যায় তার নৃশংস মৃত্যু। তখন লাড্ডু কেবল ১৮ বছর বয়সী। শিশুশিল্পী থেকে বড় পর্দার নায়ক হিসেবে তিনি পদার্পণ করতে চলেছিলেন। ঠিক সেই সময় ফ্ল্যাট ভাড়ার বিবাদের জেরে তিন ব্যক্তি লাড্ডুর উপর নৃশংস হামলা চালায়। রিপোর্ট অনুযায়ী তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে নাম জড়ায় আহমেদ বাবাজান শেখ।
আজও দর্শকরা ‘নটবরলাল’ বা ‘দো আনজানে’ দেখলে মাস্টার লাড্ডুর সরলতা ও প্রাণবন্ত অভিনয়ে মুগ্ধ হন। কিন্তু সেই পর্দার পেছনের করুণ বাস্তবতা খুব কম মানুষই জানে। একটি সম্ভাবনাময় নক্ষত্রের জীবন এমন নৃশংসভাবে শেষ হওয়া পুরো বলিউডের জন্য এক গভীর শোকের মুহূর্ত হয়ে রয়ে গেছে।
আরও পড়ুনঃ “বাংলাতেই পুলিশের হাতে অপমানিত বঙ্গ শিল্পীরা!” — ‘পয়লা পার্বণ’-এর মঞ্চে পুলিশের চরম অপমানের শিকার শিলাজিৎ মজুমদার! “ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের বো’মাগুলো কেমন ভাবে সামলান দেখব!” পুলিশকে তোপ গায়কের!
মাস্টার লাড্ডুর নাম আজও ছোটবেলার তারকা হিসেবে স্মরণীয়। তার মিষ্টি চেহারা, জীবন্ত অভিনয় এবং উজ্জ্বল প্রতিভা দর্শকদের মনে আজও জায়গা করে রেখেছে। কিন্তু তার জীবন যে এত নৃশংসভাবে শেষ হয়েছিল, তা বলিউডের ইতিহাসে এক গভীর কলঙ্কের অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।






