“এখন বিয়ের আগেই একত্রবাস, একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া…আগের মতো অপেক্ষা করার উত্তেজনা আর নেই” “সব কিছু আগেই হয়ে যাচ্ছে তাই দাম্পত্যে টান দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে” ২৫তম বিবাহবার্ষিকীতে আধুনিক সম্পর্ক ও ভাঙন নিয়ে নতুন প্রজন্মকে কড়া বার্তা শতাব্দী রায়ের!

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শতাব্দী রায় ও তাঁর স্বামী মৃগাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাম্পত্য জীবন পেরিয়েছে ২৬ বছর। এত দীর্ঘ পথ চলার পরও তাঁদের সম্পর্ক কীভাবে টিকে রয়েছে, তা নিয়েই সম্প্রতি খোলামেলা কথা বললেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে তিনি তুলে ধরলেন বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্ক ভাঙনের কারণও। শতাব্দীর কথায়, সময় বদলেছে, সম্পর্কের ধরনও বদলেছে। আগে যেভাবে মানুষ সম্পর্ককে গুরুত্ব দিত, এখন সেই জায়গায় এসেছে স্বাধীনতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত আর সহজে দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা। তাই এখন অনেক সম্পর্ক শুরু হওয়ার মতো দ্রুত শেষও হয়ে যাচ্ছে বলে মত তাঁর।

অভিনেত্রী জানান, বিয়ের ২৬ বছর পর সম্পর্কের রং অনেকটাই বদলে যায়। শুরুতে যে উচ্ছ্বাস, আবেগ আর নতুনত্ব থাকে, সময়ের সঙ্গে তার জায়গা নেয় মায়া, দায়িত্ব, অভ্যাস আর পারিবারিক বন্ধন। তাঁর কথায়, এখন তাঁদের সম্পর্ক অনেকটাই সন্তানকেন্দ্রিক। পরিবারের প্রয়োজন, সন্তানের ভবিষ্যৎ, একে অপরের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়াই এখন মূল বিষয়। তিনি বলেন, “ভালবাসা শুধু প্রকাশ্যে দেখানোর বিষয় নয়, দীর্ঘদিন পাশে থাকার মধ্যেই তার আসল মানে লুকিয়ে থাকে।”

শতাব্দী আরও বলেন, দীর্ঘ সম্পর্কে মান অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি বা অশান্তি না থাকাটা স্বাভাবিক নয়। তাঁদের জীবনেও এমন সময় এসেছে। তবে তখন হুট করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ঠান্ডা মাথায় ভাবার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, নতুন সম্পর্কে গেলেই সুখ নিশ্চিত হবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। বরং যে মানুষটিকে এতদিন ধরে চেনা, যার সঙ্গে জীবনের এত স্মৃতি জড়িয়ে আছে, তাকে বুঝে চলার চেষ্টা করাই বেশি বাস্তবসম্মত। এই বোঝাপড়াই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখে।

স্বামীর ভূমিকাও আলাদা করে উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, অভিনয় জীবন হোক বা রাজনৈতিক ব্যস্ততা, সব সময় স্বামী পাশে থেকেছেন। বহু অনুষ্ঠান, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা সামাজিক সম্পর্ক সামলে দিয়েছেন মৃগাঙ্ক। শতাব্দীর কথায়, “একজন মানুষ যখন অন্যজনের ঢাল হয়ে দাঁড়ায়, তখন সম্পর্ক শক্ত হয়।” শ্বশুরবাড়ির সমর্থনও তাঁর কর্মজীবনে বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে জানান তিনি।

বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শতাব্দী বলেন, আগে প্রেমের সময় খুব কম ছিল, দেখা করার সুযোগও সীমিত ছিল। ফলে একসঙ্গে থাকার ইচ্ছা আরও বেশি থাকত। বিয়ে মানেই ছিল কাছাকাছি আসার স্বপ্ন। এখন পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। প্রেমের সময়ই একসঙ্গে থাকা, ভ্রমণে যাওয়া, স্বাধীনভাবে সময় কাটানো খুব সাধারণ বিষয় হয়ে গিয়েছে। তাঁর মতে, “সব কিছু আগে থেকেই পেয়ে গেলে অনেক সময় নতুনত্বের আকর্ষণ কমে যায়।”

আরও পড়ুনঃ “আমি তো দিনমজুর…এই অসম লড়াই আর পারছি না, অভিনয় করব না” দাদা-দিদিদের ঠিক মতো তুষ্ট করতে পারছেন না, অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্তে বি’স্ফোরক গুলশনারা খাতুন! মঞ্চ দিয়ে যাত্রা শুরু, ছোটপর্দায় কোন তিক্ত অভিজ্ঞতার জেরে অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত অভিনেত্রীর?

নারীদের বদলে যাওয়া অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, আগে অনেক নারী সংসারের জন্য অনেক কিছু চুপচাপ মেনে নিতেন। এখন মেয়েরা শিক্ষিত, উপার্জনক্ষম এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারেন। তাই অযথা কষ্টের সম্পর্কে থাকার বদলে স্বাধীন জীবন বেছে নিচ্ছেন অনেকে। শতাব্দীর মতে, সম্পর্কে সমস্যা এলে যদি সঙ্গীর ভাল দিকটাও মনে রাখা যায়, তাহলে সম্পর্ক টিকে যেতে পারে। আর সেই চেষ্টাই তাঁরা ২৬ বছর ধরে করে চলেছেন।

You cannot copy content of this page