“ভাল শিল্পী মানেই ভালো মানুষ নয়, পৃথিবীর সকল সফল শিল্পীরা ভীষণ খারাপ”, বি*স্ফোরক মন্তব্যে রূপঙ্কর বাগচী! বাংলার শিল্পীদের মধ্যে, ‘খারাপ মানুষ’ হিসেবে কার দিকে ইঙ্গিত করলেন পুরস্কারজয়ী গায়ক?

জাতীয় পুরস্কারজয়ী বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী রূপঙ্কর বাগচী—নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে যার সুরের জাদু বাঙালি শ্রোতাদের মন জয় করে চলেছে। ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের পরিবেশে বেড়ে ওঠা, বাবা ঋতেন্দ্রনাথ বাগচীর কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এবং মা সুমিত্রা বাগচীর কাছে রবীন্দ্রসঙ্গীত শেখার মধ্য দিয়েই তাঁর ভিত্তি তৈরি। পরবর্তীতে সুকুমার মিত্র ও জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের কাছে তালিম নিয়ে নিজেকে আরও শানিত করেন তিনি। এই দীর্ঘ পথচলায় আধুনিক বাংলা গান ও নেপথ্য কণ্ঠে নিজের স্বতন্ত্র জায়গা গড়ে তুলেছেন রূপঙ্কর।

তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই সঙ্গীত জীবনে তিনি ৩১০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন। ‘ও চাঁদ’, ‘এ তুমি কেমন তুমি’, ‘ভোকাট্টা’, ‘রুবি রায়’, ‘প্রিয়তমা’—একাধিক জনপ্রিয় গানে তাঁর কণ্ঠ শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে। বিশেষ করে সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘জাতিস্মর’ ছবিতে ‘এ তুমি কেমন তুমি’ গানটির জন্য ২০১৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য। ২০২৪-২৫ সালে তিনি পূর্ণ করেছেন তাঁর সঙ্গীত জীবনের ৩০ বছর—যা নিজেই এক বড় মাইলফলক।

সংগীতশিল্পী কেকে-র মৃত্যুর সময় রূপঙ্কর বাগচীর করা একটি মন্তব্য ঘিরে বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সেই সময় তাঁর বক্তব্য অনেকের কাছেই অসংবেদনশীল বলে মনে হয়েছিল, বিশেষ করে যখন গোটা দেশ শোকস্তব্ধ। সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত সেই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের একাংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন। সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়, যার জেরে প্রবল কটাক্ষ, ট্রোলিং এবং সমালোচনার মুখে পড়তে হয় রূপঙ্করকে। এই ঘটনাই তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটেই সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রূপঙ্করের মন্তব্য আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন—“ভালো শিল্পী মানেই ভালো মানুষ নয়।” তাঁর কথায়, তিনি নিজের চারপাশে এমন বহু মানুষকে দেখেছেন যারা শিল্পী হিসেবে অসাধারণ—কেউ নামী ডিরেক্টর, কেউ সংগীত পরিচালক, কেউ গায়ক বা অভিনেতা—কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তারা ততটা ভালো মানুষ নন।

আরও পড়ুনঃ “ছোট বয়সে পালিয়ে বিয়ে, তারপর বেঙ্গালুরুতে, প্রোডিউসারের সঙ্গে সম্পর্ক, একাধিক বিয়ে-ডিভোর্সের পরেই ফের নতুন সংসার!” সুস্মিতাকে নিয়ে সামনে আসছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য! তবে কেন এমন একজন মহিলার সঙ্গেই দাদার বিয়ে ঠিক করেছিলেন সায়ক? “শুধুমাত্রই কি টাকার জন্য”, প্রশ্ন তুলছে সমাজ মাধ্যম!

রূপঙ্করের এই বক্তব্য শিল্পীজগতের এক চিরন্তন বিতর্ককে আবার সামনে এনে দিয়েছে। শিল্প আর ব্যক্তিত্ব—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য কতটা? একজন মানুষের কাজ কি তার চরিত্রকে ঢেকে দিতে পারে? তাঁর এই মন্তব্যে যেমন অনেকেই সহমত পোষণ করছেন, তেমনই অনেকে আবার প্রশ্ন তুলছেন তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও বক্তব্যের প্রেক্ষাপট নিয়ে। সব মিলিয়ে, তিন দশকের অভিজ্ঞতায় ভর করে রূপঙ্করের এই মন্তব্য এখন আলোচনার কেন্দ্রে—আর সেই আলোচনাই যেন আবার প্রমাণ করছে, তিনি শুধু গানে নয়, মতামতেও সমানভাবে প্রভাব ফেলতে জানেন।

You cannot copy content of this page