ভালোবাসার মাসে সাত পাক ঘুরেছেন রণজয় এবং শ্যামৌপ্তি। স্বামীর থেকে বয়সে অনেকটাই ছোট, অভিনেত্রী স্ত্রী। কিন্তু মনের মিল সমান সমান। আজ, ২২ মার্চ রণজয় বিষ্ণুর জন্মদিন। বিয়ের পর স্বামীর প্রথম জন্মদিনকে ঘিরে বেশ ব্যস্ত সময় কাটছে অভিনেত্রীর। শনিবার থেকেই তিনি প্রয়োজনীয় বাজার ও প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে এ বছর জন্মদিনের আয়োজন করতে গিয়ে এক নতুন সমস্যার মুখে পড়েছেন তিনি। এখন একসঙ্গে থাকায় সবকিছু গোপনে পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। আগের বছরগুলিতে বিষয়টি এতটা কঠিন ছিল না, কারণ বাইরে থেকেই সব ব্যবস্থা করা যেত।
কিন্তু এবার ঘরের মধ্যেই সব আয়োজন করতে হচ্ছে, তাই বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে তাকে। তবুও এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে তুলতে কোনও খামতি রাখতে চান না তিনি। বিয়ের পর একসঙ্গে সংসার করার অভিজ্ঞতা এখনও তার কাছে অনেকটাই নতুন। তিনি জানান, এখনও অবধি বিশ্বাসই করতে পারেন না যে তাদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে এবং তারা একসঙ্গে জীবন কাটাচ্ছেন। ধারাবাহিকের কাজের সময় কখনও কখনও সহ-অভিনেতাকে রেগে যেতে দেখেছেন তিনি। যদিও এখন সেই স্বভাব অনেকটাই বদলেছে বলে মনে করেন।
বিয়ের মাত্র এক মাস হয়েছে, তাই খুব বড় পরিবর্তন চোখে পড়েনি এখনও। তবে একসঙ্গে থাকতে থাকতে একটা স্বস্তির অনুভূতি তৈরি হয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হচ্ছে বলে তার মত। তিনি আরও জানান, স্বামী হিসেবে নয়, পরিবারের ছেলে হিসেবে তার সঙ্গীর আচরণ তাকে বেশি মুগ্ধ করে। বাড়ির পরিবেশে তাকে অন্যভাবে দেখতে পান তিনি। যেমন তার নিজের মা-বাবা তাকে শাসন করেন, ঠিক তেমনই তার স্বামীও নিজের পরিবারের সদস্যদের ভালোবেসে শাসন করেন। মাসি, মামা সহ পরিবারের সবার সঙ্গে তার এই ব্যবহার খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করেন তিনি।
বাইরে থেকে একজন পর্যবেক্ষকের মতো সেই মুহূর্তগুলো উপভোগ করেন। এই বিষয়গুলোই তাকে আরও বেশি করে আকৃষ্ট করে। জন্মদিন উপলক্ষে নিজের হাতে রান্না করার পরিকল্পনাও করে ফেলেছেন তিনি। পাঁচ রকম ভাজা রাখার কথা ভাবছেন, যার মধ্যে ধোকা ভাজা অবশ্যই থাকবে, কারণ এটি স্বামীর প্রিয়। এছাড়া গয়নাবড়ি ভাজা, পায়েস এবং চিংড়ির মালাইকারিও বানাবেন বলে ঠিক করেছেন। সম্প্রতি বিয়ের অনুষ্ঠানে অনেক মাটন খাওয়া হয়েছে বলে এবার চিকেন রান্নার পরিকল্পনা করেছেন।
আরও পড়ুনঃ “কোন জায়গায় ক্ষমা চাওয়ার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না” ব্যান কালচারের চাপে কাজ হারিয়ে ঋদ্ধি সেনর ক্ষোভ! অনির্বাণ-রুদ্রনীলের পর তিনিও কি টলিউডে ‘অদৃশ্য নিষেধাজ্ঞার’ শিকার? শিল্পীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ!
সবকিছু নিজের হাতে করে স্বামীকে চমকে দিতে চান তিনি। উপহারটিও সারপ্রাইজ হিসেবে রাখার ইচ্ছা রয়েছে। তবে কাজের ব্যস্ততার কারণে দিনভর বড় কোনও আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। দু’জনেরই কাজ থাকায় বাইরে যেতে হবে। রাতে বন্ধুদের নিয়ে ছোট করে উদযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। খাওয়া-দাওয়া আর আড্ডার মধ্যেই কাটবে সময়। এই কয়েক বছরে স্বামীর চরিত্রে খুব বড় কোনও পরিবর্তন তিনি দেখেননি। বরং কাছের মানুষদের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি তিনি প্রতিদিন নতুন করে শিখছেন তার কাছ থেকে। জন্মদিনে তার একটাই প্রার্থনা, তার সঙ্গী যেন এমনই থাকেন সারাজীবন।






