গতকাল বরানগরের রাজনৈতিক পরিবেশে হঠাৎ করেই তাপমাত্রা বেড়ে যায় ভোট (West Bengal Election 2026) প্রচার ঘটনাকে ঘিরে। মূলত ফ্লেক্স ও পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিবাদ দ্রুতই দুই দলের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনায় রূপ নেয়। এলাকায় অভিযোগ ওঠে, এক পক্ষ অন্য পক্ষের পোস্টার খুলে নিজেদের প্রচারের সামগ্রী বসানোর চেষ্টা করছিল। এই নিয়েই প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নামতে হয়।
প্রসঙ্গত, এই উত্তেজনার মধ্যেই মুখোমুখি হন ‘সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Sayantika Banerjee) এবং সজল ঘোষ। রাস্তায় দাঁড়িয়েই শুরু হয় স্লোগান-পালটা স্লোগান, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। বিজেপি কর্মীদের তরফে ‘সায়ন্তিকা গো ব্যাক’, ‘চো’র এমএলএ গো ব্যাক’ স্লোগান শোনা যায়, অন্যদিকে তৃণমূলও পালটা প্রতিবাদে সরব হয়। সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও এর প্রভাব পড়ে, রাস্তা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায় দলীয় কর্মীদের ভিড়ে।

ঘটনার সবচেয়ে বিতর্কিত দিকটি সামনে আসে যখন অভিযোগ ওঠে, সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনেই সজল ঘোষ তাঁর প্রতিপক্ষ সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে অশা’লীন ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেন! সেই ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তৃণমূল শিবির এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে তুলে ধরে, এবং এটিকে কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং নারীদের প্রতি অসম্মানের উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করে।
এই ঘটনার পর সায়ন্তিকা প্রকাশ্যে নিজের ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, এমন ভাষা শুধু তাঁকে নয়, সমাজের প্রতিটি নারীকে অপমান করে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, যাঁরা নারীদের সম্মান করতে জানেন না, তাঁদের জনজীবনে থাকা উচিত নয়! পাশাপাশি বরানগরের মহিলা ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আবেদন করেন, যেন তাঁরা এই ধরনের আচরণের যথাযথ জবাব ভোটের মাধ্যমে দেন। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক আক্রমণ যেমন ছিল, তেমনই ছিল সামাজিক বার্তাও।
আরও পড়ুনঃ ‘তাহলে স্কলারশিপ পেলাম কেন?’ গানের গলা নিয়ে দীর্ঘদিনের কটাক্ষে ক্ষোভ উগরে দিলেন হৈমন্তী শুক্লা! ‘সব গান এক গলায় গাওয়া যায় না’, ধরনের সঙ্গে নিজেকে বদলানোর বার্তায় সমালোচকদের কড়া জবাব গায়িকার!
অন্যদিকে, বিজেপির তরফে এই ঘটনাকে তুলনামূলকভাবে হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করা হয় এবং বলা হয়, মন্তব্যটি নাকি ‘মুখ ফস্কে’ বেরিয়ে গিয়েছিল। তবে, এর মধ্যেই দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অশান্তি তৈরির অভিযোগ আনতে থাকে। তৃণমূলের দাবি, বহিরাগতদের এনে হাম’লার চেষ্টা হয়েছে, আর বিজেপির অভিযোগ, তাদের প্রচারে বাধা দেওয়া হয়েছে। বরানগরের এই ঘটনায় স্পষ্ট, ভোটের আগে রাজনৈতিক সংঘাত কীভাবে দ্রুতই ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিতর্কে পরিণত হতে পারে।






