বাংলা সঙ্গীতের আকাশে এমন কিছু নাম আছে, যাদের ছাড়া ইতিহাস যেন অসম্পূর্ণ—তেমনই এক উজ্জ্বল নাম হৈমন্তী শুক্লা (Haimanti Shukla)। প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর সুরেলা কণ্ঠ শ্রোতাদের মুগ্ধ করে আসছে। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ভিত মজবুত হলেও আধুনিক বাংলা গানেও তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ তাঁকে আলাদা করে চিনিয়েছে।
১৯৪৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় জন্ম নেওয়া এই শিল্পী প্রথমে তাঁর পিতা পণ্ডিত হরিহর শুক্লার কাছেই সঙ্গীত শিক্ষা শুরু করেন। পরে চিন্ময় লাহিড়ীর কাছে তালিম নিয়ে নিজের গায়কীকে আরও পরিপূর্ণ করেন। ১৯৭২ সালে ‘এ তো কান্না নয় আমার’ গান দিয়ে রেকর্ডিং জগতে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই তিনি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে যান।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের গায়কী নিয়ে বহুদিনের সমালোচনার প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন তিনি। অনেকেই তাঁকে প্রশ্ন করেছেন—“বাবার কাছে গান শিখে কি শিবঠাকুরের গলায় গান গাও?” এই মন্তব্যের জবাবে স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, সব ধরনের গান গাইতে চান তিনি। তাঁর মতে, “যে গান গাইবো, তার সঙ্গে নিজেকেও বদলাতে হবে।” অর্থাৎ, প্রতিটি গানের আবহ অনুযায়ী কণ্ঠস্বর ও উপস্থাপনাকে মানিয়ে নেওয়াই তাঁর কাছে আসল শিল্প।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, যদি প্রতিটি গান একই গলায় গাওয়া হয়, তবে তা শ্রোতার কাছে একঘেয়ে হয়ে যাবে। উদাহরণ হিসেবে বলেন, ভিন্ন ঘরানার গান গাইতে গেলে কণ্ঠে আলাদা আবেগ ও টোন দরকার—না হলে তা মানানসই হয় না। তাঁর কথায়, এই দক্ষতা তিনি কীভাবে পেয়েছেন তা তিনি নিজেও জানেন না—একে তিনি ঈশ্বরের আশীর্বাদ বলেই মনে করেন। এই স্বাভাবিক ভোকাল মড্যুলেশনই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
আরও পড়ুনঃ “মানুষ এত নিচে নামছে, নর্দমার চেয়েও খারাপ!” “ব্যক্তিগত বিষয়গুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় বেচা হচ্ছে” কাঞ্চনের ‘কচি বউ’, শ্রীময়ী চট্টরাজের ক্ষোভ! কাজের অভাবের প্রসঙ্গ টেনে, তীব্র সমালোচনা করলেন সুস্মিতার নতুন বিয়ের ঘটনার!
হৈমন্তী জানান, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রশিক্ষণই তাঁকে এই আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। খেয়াল গাওয়ার জন্য স্কলারশিপ পাওয়া, এমনকি রেডিওতে অডিশন পাস করার স্মৃতিও তিনি শেয়ার করেন। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিনের সাধনা থেকেই এই স্বাভাবিক গায়কী তৈরি হয়েছে। সমালোচনার জবাবে তাই তিনি স্পষ্ট করে দিলেন—নিজেকে বদলে নিতে পারাই একজন প্রকৃত শিল্পীর সবচেয়ে বড় শক্তি।






