ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক কিংবদন্তি অভিনেত্রী, চিত্রনাট্যকার এবং পরিচালক হলেন অপর্ণা সেন (Aparna Sen)। তিনি প্রধানত বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অসাধারণ কাজের জন্য পরিচিত। অভিনয় থেকে পরিচালনা—দুই ক্ষেত্রেই সমান দক্ষ এই বর্ষীয়ান শিল্পী বরাবরই সমাজের নানা জটিল বিষয় নিয়ে স্পষ্ট ও সাহসী মতামত দিয়েছেন। এবারও ব্যতিক্রম হল না। বর্তমান সমাজে প্রেম, পরকীয়া এবং সম্পর্কের বদলে যাওয়া ধারণা নিয়ে মুখ খুলে নতুন করে আলোচনা উসকে দিলেন তিনি।
র কথায়, আজকের দিনে “পর’কীয়া” বলে আলাদা করে কিছু বোঝা কঠিন। কারণ সম্পর্কের ধরনই বদলে যাচ্ছে দ্রুত। তিনি মনে করেন, মানুষের জীবনে যেকোনো সময় প্রেম আসতেই পারে, এটা খুব স্বাভাবিক একটি অনুভূতি। তবে সেই প্রেমকে টিকিয়ে রাখতে গেলে পরিশ্রম এবং দায়বদ্ধতা জরুরি। শুধুমাত্র আবেগ দিয়ে সম্পর্ক টেকে না, বাস্তবের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় প্রতিটি সম্পর্ককেই।
বিয়ে প্রসঙ্গে তিনি বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, একসময় বিবাহ প্রতিষ্ঠানটি তৈরি হয়েছিল মূলত সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রয়োজন থেকে। সম্পত্তির উত্তরাধিকার, পরিবার কাঠামো বজায় রাখা, এসবই ছিল তার প্রধান উদ্দেশ্য। কিন্তু এখন সমাজ অনেকটাই বদলেছে। বিশেষ করে নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা বেড়েছে, ফলে বিয়ের উপর নির্ভরশীলতা কমছে। এই কারণেই বহু বছর একসঙ্গে থাকার পরও অনেক দম্পতি আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা এখন “গ্রে ডিভোর্স” হিসেবে পরিচিত।
এছাড়াও তিনি বর্তমান সময়ের সম্পর্কের নতুন দিকগুলির কথাও তুলে ধরেন। লিভ-ইন সম্পর্ক, সমলিঙ্গের বিয়ে, এমনকি সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, এসবকেই তিনি সমাজের স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। তার মতে, মানুষ এখন নিজের মতো করে বাঁচতে চাইছে, এবং সেটাই হওয়া উচিত। অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিচার করা বা মন্তব্য করা ঠিক নয়, কারণ প্রত্যেকের পরিস্থিতি আলাদা।
আরও পড়ুনঃ “আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি অ্যাংজাইটি অ্যা’টাকে…অ্যাম্বুলেন্স ডাকে” শন ব্যানার্জির সঙ্গে প্রেমের জল্পনায় মুখ খুললেন সৃজলা গুহ! ট্রোলিংয়ের তীব্র চাপ থেকে ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন, আচমকা অসুস্থতা! কী ঘটছে অভিনেত্রীর জীবনে? এখন কেমন আছেন তিনি?
সবশেষে ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ভাষা নদীর মতো—নিজের পথ নিজেই তৈরি করে।” ঠিক তেমনই সম্পর্কও সময়ের সঙ্গে নিজের নতুন রূপ খুঁজে নেয়। তাই পুরনো ধারণা আঁকড়ে না থেকে, নতুন প্রজন্মের ভাবনা ও বাস্তবতাকে বোঝার চেষ্টা করাই সবচেয়ে জরুরি। তাঁর এই বক্তব্যই যেন স্পষ্ট করে দেয়, সময় বদলাচ্ছে, আর সেই সঙ্গে বদলাচ্ছে ভালোবাসার সংজ্ঞাও।






