বাংলা গানের ইতিহাসে এমন কিছু কণ্ঠ আছে, যারা খুব অল্প সময়ের জন্য আলোয় থেকেও শ্রোতাদের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলে যান। ‘রানু মুখোপাধ্যায়’ (Ranu Mukherjee ) সেই তালিকারই এক পরিচিত নাম। কিংবদন্তি ‘হেমন্ত মুখোপাধ্যায়’-এর (Hemanta Mukhopadhyay) কন্যা হওয়ার পরিচয় ছাড়াও, নিজের প্রতিভার জোরেই তিনি একসময় সঙ্গীত জগতে আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছিলেন। ছোটবেলা থেকেই গান ছিল তাঁর চারপাশের পরিবেশের অংশ। বাড়িতে নিয়মিত গানবাজনা, বাবার সহকর্মীদের আনাগোনা মিলিয়ে সুরের মধ্যেই বড় হওয়া।
শৈশব থেকেই তাঁর এক বিশেষ ক্ষমতা ছিল, কোনও গান একবার শুনলেই দ্রুত রপ্ত করে নেওয়া। খুব অল্প বয়সেই রেকর্ডিংয়ের সুযোগ আসে, আর ১৯৬০ সালে বাবার সুরেই প্রথমবার প্লেব্যাক করেন ‘মাসুম’ ছবিতে। পরে ১৯৬৩ সালে বাদশা ছবিতে তাঁর গাওয়া একাধিক গান জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ‘লালঝুঁটি কাকাতুয়া’ গানটি এতটাই জনপ্রিয় হয় যে, বহু প্রজন্ম ধরে তা বাঙালি ঘরের শিশুসঙ্গীতের অংশ হয়ে আছে।
শুধু শিশুসঙ্গীতেই নয়, পরবর্তী সময়েও তিনি নিজের কণ্ঠের স্বকীয়তা প্রমাণ করেন। প্রয়াত অভিনেত্রী মহুয়া রায় চৌধুরী অভিনীত, আশীর্বাদ ছবিতে ‘ফুলের গন্ধের মতো তোমায় জড়িয়ে আমি রাখব’ গানটি তাঁকে এনে দেয় ১৯৮৬ সালের বিএফজেএ পুরস্কার। এই গানটি ছিল অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরীর লিপেই এবং সুর করেছিলেন তাঁরই বাবা। যদিও এই জুটি পরবর্তীতে আর একসঙ্গে কাজ করতে পারেনি, কারণ সেটিই হয়ে ওঠে মহুয়ার শেষ ছবি!
প্রসঙ্গত, রানুর জীবনে মোড় ঘোরানো সময় আসে ১৯৮৯ সালে, যখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যু হয়। সেই সময়ের পর ধীরে ধীরে গানের জগতে তাঁর কাজের সুযোগ কমতে থাকে। অনেকেই মনে করেন, বাবার প্রভাব ছাড়া ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও পরে তিনি এ আর রহমান-এর সুরে ‘দাউদ’ ছবিতে গান গেয়েছিলেন, তবুও সেই সাফল্য আর স্থায়ী হয়নি। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানান কথা শোনা যায়।
বিয়ের পর তিনি খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে, এবং তার ফলে পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলেও খবর। যদিও এই বিষয়গুলি নিয়ে তিনি কখনও প্রকাশ্যেঅভিনয় নয়, গান দিয়েই শুরু! রজতাভ দত্তের জীবনে ‘কুইনাইন’! জেনে নিন সেই অজানা অধ্যায়!
খুব বেশি কিছু বলেননি। তাঁর স্বভাবও ছিল কিছুটা আলাদা। প্রচারবিমুখতা, নিজের মতো করে চলা, এসবই তাঁকে আরও বেশি করে লাইমলাইট থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। অনেকেই জানেন না, শুধু গায়িকা হিসেবেই নয়, ছোটবেলায় তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ও করেছিলেন।
আরও পড়ুনঃ “আমাদের জীবন বা পারিবারিক বিষয় কনটেন্ট নয় আর হতেও পারে না, মেয়েকে বোঝাই রোজ!” সন্তানকে স্বাধীনতা দিয়ে সচেতন করার কথায় জোর মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের! বিতর্কের যুগে, সামাজিক মাধ্যমের ভালো-মন্দ নিয়ে কীভাবে শিক্ষা দেন অভিনেত্রী?
উল্লেখ্য, ‘অনুরাধা’, ‘বিশ সাল বাদ’ বা ‘বন্ধন’-এর মতো ছবিতে তাঁর উপস্থিতি ছিল। পরবর্তীতে নায়িকা হওয়ার প্রস্তাবও এসেছিল, কিন্তু সেই পথে এগোননি তিনি। বরং গানকেই বেছে নিয়েছিলেন নিজের প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে। বর্তমানে প্রায় ৭২ বছর বয়সী রানু মুখোপাধ্যায় মুম্বইয়ে থাকেন, নিজের জগতেই। বহু জনপ্রিয় গান, ‘শোন শোন মজার কথা’, ‘কুহেলি রাত একা একা’, ‘না বলে যায় পাছে সে’, ‘আমিও শ্রাবণ হয়ে’, এসব আজও সঙ্গীতপ্রেমীদের মনে রয়ে গেছে। তবুও নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি প্রায় অচেনা।






