ভারতীয় সংগীত জগতের এক অবিস্মরণীয় নাম কিশোর কুমার (Kishore Kumar)। ১৯২৯ সালে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী শুধু একজন গায়ক নন, তিনি ছিলেন এক বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। প্রায় চার দশকের দীর্ঘ সংগীত জীবনে তিনি প্লেব্যাক সিংগার হিসেবে যেমন সাফল্য পেয়েছেন, তেমনই সুরকার এবং গীতিকার হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাঁর কণ্ঠের বৈচিত্র্য এবং আবেগপূর্ণ উপস্থাপন তাঁকে সর্বকালের অন্যতম সেরা শিল্পীর আসনে বসিয়েছে।
কিশোর কুমারের গানের অন্যতম বিশেষত্ব ছিল ‘ইয়োডেলিং’ (Yodeling) শৈলী, যা তিনি নিজের চেষ্টায় রপ্ত করেছিলেন। শোনা যায়, তাঁর ভাই অনুপ কুমারের সংগ্রহে থাকা অস্ট্রিয়ান রেকর্ড শুনেই তিনি এই ভঙ্গি শিখেছিলেন। সেই সময়ের অন্যান্য গায়কদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এই স্টাইলই তাঁকে এনে দেয় আলাদা পরিচিতি। তাঁর কণ্ঠে যেমন ছিল খুশির উচ্ছ্বাস, তেমনই ছিল গভীর বেদনার ছোঁয়া এই দ্বৈত বৈশিষ্ট্যই তাঁকে কিংবদন্তি করে তুলেছে।
তবে এই সফলতার আড়ালে লুকিয়ে আছে একেবারে অন্যরকম শৈশব। ছোটবেলায় পড়াশোনার প্রতি খুব একটা আগ্রহ ছিল না কিশোরের। বাবা কুঞ্জলাল গাঙ্গুলী (Kunjlal Ganguly) তাকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও, কিশোরের মাথায় ঘুরত দুষ্টুমির বুদ্ধি। পরীক্ষার ফল খারাপ হলে মার্কশিটে নম্বর কাটছাঁট করে বাবাকে দেখানোর মতো ঘটনাও ঘটেছিল। প্রথমে হয়তো বিষয়টি ধরা পড়েনি, কিন্তু একদিন সেই ফাঁকি আর টিকল না।
সেই দিনটি কিশোরের জীবনে এক বড় শিক্ষা হয়ে আসে। কুঞ্জলাল গাঙ্গুলী আগেই স্কুল থেকে ছেলের আসল রেজাল্ট জেনে এসেছিলেন। বাড়িতে এসে গণিতের প্রশ্নপত্র বের করে ছেলেকে সামনে বসিয়ে অঙ্ক কষতে বলেন। কিশোর চেষ্টা করলেও ভুল ধরা পড়ে যায়। এরপর বাবার রাগ আর শাস্তি সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে। শুধু মার নয়, অপমানজনক শাস্তিও পেতে হয়েছিল তাঁকে। এই ঘটনা ছোটবেলার দুষ্টুমির মাঝেও জীবনের কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি করেছিল কিশোর কুমারকে।
আরও পড়ুনঃ “১০ টাকা কেটে নেওয়া হবে, অভিনয়টা ভালো হয়নি!” “এত করেও, নাটকের শেষ নেই!” মাতৃত্বের আশায় পঞ্চমবার বিয়ে, নতুন সুখের সংসার ছেড়ে ‘একা পথ চলা’র সিদ্ধান্ত কেন সুস্মিতার? শুনে হাসি থামছে না নেটপাড়ার!
শাস্তি পাওয়ার পরও কিশোরের স্বভাব কিন্তু খুব একটা বদলায়নি। তিনি ছোটবেলা থেকেই ভীষণ মজার মানুষ ছিলেন। দাদা অশোক কুমার মাঝেমধ্যে তাকে নিয়ে মজা করতেন, আর কিশোরও সরল মনে সেই মজায় জড়িয়ে পড়তেন। খাওয়ার প্রতি তার আলাদা টান ছিল মায়ের হাতের লুচি, তরকারি বা ক্ষীর পেলেই আর কিছু চাইতেন না। সুযোগ পেলেই চুপিচুপি রান্নাঘরে ঢুকে প্রিয় খাবার খেয়ে নিতেন। এইসব ছোট ছোট ঘটনাই দেখায়, বড় হয়ে তিনি যতই বিখ্যাত হন না কেন, ভেতরে ভেতরে তিনি ছিলেন একদম সাধারণ, হাসিখুশি আর দুষ্টু স্বভাবের মানুষ।






