মা-বাবার বিচ্ছেদ থেকে মাত্র ১২ বছরে চিরতরে বাবাকে হারানো! নাম ‘সহজ’ হলেও বড্ড কঠিন হয়ে উঠল রাহুল পুত্রের জীবন!

২০০৮ সালের পুজোর আগে পরিচালক রাজ চক্রবর্তী রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রিয়াঙ্কা সরকার-কে নিয়ে তৈরি করেছিলেন চলচ্চিত্র ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’। প্রথম ছবিতেই রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটি দর্শকের মনে দারুণ স্থান করে নেয়। পর্দার প্রেম বাস্তবে রূপ নেয় ২০১০ সালের ১৮ নভেম্বর, যখন তারা সাত পাকে বাঁধা পড়েন। তিন বছর পর দম্পতি দাম্পত্য জীবন আরও সম্পূর্ণ হয় তাঁদের একমাত্র সন্তান সহজ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর জন্মের মাধ্যমে।

শুধু এক বছর পরই দাম্পত্যে অশান্তি শুরু হয়। ছোট্ট সহজ তখন মাত্র এক বছর। রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কার মধ্যে নানা মনোমালিন্য জন্মায় এবং তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন। সহজ তখন প্রায়ই মায়ের সঙ্গেই থাকে। সন্তানের প্রতি দায়িত্ব একাই নিতে হতো প্রিয়াঙ্কাকে। ২০১৮ সালে বিচ্ছেদ মামলা পর্যন্ত দম্পতির মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সেই সময় সহজ মাত্র পাঁচ বছরের। শিশুমনে অনেক কিছু বোঝা সম্ভব নয়, তবে মা-বাবার অশান্তি এবং আলাদা থাকার পরিস্থিতি সহজের ওপর প্রভাব ফেলে।

বিচ্ছেদের সময় রাহুল টলিউডের কিছু অভিনেত্রীর সঙ্গে জড়িত থাকায় খবরের শিরোনামে আসেন। অন্যদিকে, প্রিয়াঙ্কার কথিত ঘনিষ্ঠতা এবং স্বামীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগও সংবাদে উঠে আসে। তবু সহজের জন্য রাহুল নিয়মিত দেখা করতে আসতেন। তিনজন মিলে একসঙ্গে কিছু সময় কাটাতেন, যাতে সন্তানের মনোবল বজায় থাকে। ছোট্ট সহজ হয়তো সেই সময় বুঝতে পারত না, কিন্তু তার উপস্থিতি দুইজনকে একত্র রাখত। সহজ মুখে কিছু প্রকাশ না করলেও, তার জীবনের উপর মা-বাবার ভাঙা-গড়ার প্রভাব স্পষ্ট ছিল।

২০২২ থেকে ধীরে ধীরে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা পরস্পরের কাছে ফিরে আসেন। একসঙ্গে বিভিন্ন উৎসব উদযাপন, পুজো এবং দোল পালিত হয়। প্রিয়াঙ্কার জন্মদিনে রঙিন পোশাকে রাহুলও হাজির হন। এই ছোট্ট আনন্দের মুহূর্ত সহজের জন্যও বড় খুশি। শেষে তারা ডিভোর্স মামলা প্রত্যাহার করে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে একসাথে থাকার পথে ফেরেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা। ছোট্ট সহজের জন্য এই মিলন মুহূর্ত ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ লীনার ধারাবাহিক মানেই মৃ’ত্যুর অভি’শাপ? পীযূষ গাঙ্গুলী থেকে রনি চক্রবর্তী, অভিষেক চ্যাটার্জি! আর এবার রাহুল! একাধিক মৃ’ত্যু! তবে কি ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’ বন্ধ হওয়া উচিত?কি চাইছে দর্শকমহল?

২০২৬ সালে সহজের বয়স এখন মাত্র ১২ বছর। এই বয়সেই সে মা-বাবার সম্পর্কের ভাঙা-গড়া এবং পিতৃবিয়োগের যন্ত্রণা সহ্য করেছে। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর মতো পর্দার হ্যাপি এন্ডিং বাস্তব জীবনে পুরোপুরি মিলতে পারেনি। তবে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার একসাথে থাকার সিদ্ধান্ত সহজকে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ দিতে সাহায্য করছে। রাহুলের প্রিয়জনেরা মনে করছেন, জীবনের বাস্তবতা কখনও পুরোপুরি মিষ্টি নয়, কিন্তু ছোট্ট সহজের জন্য মা-বাবা ফের একত্রে থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

You cannot copy content of this page