“সেদিন জলে মৃ’ত্যু হতে পারত আমারও, বেঁচে গিয়েছি ভাগ্যবশত” রাহুল অরুণোদয়ের অকাল মৃ’ত্যুর শো’কে ভাসছে টলিপাড়া, এবার আউটডোর শুটিংয়ে শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন মাধবী মুখোপাধ্যায়! কী ঘটেছিল বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর সঙ্গে?

টলিপাড়া শোকের ছায়ায়। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের আউটডোর শুটিং চলাকালীন ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তরুণ অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু শিল্পীদের মধ্যে শোকের ছাপ ফেলেছে। অনেকেই এখনো জানতে চাইছেন, ধারাবাহিকের ভবিষ্যত কী হবে। ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবিতেও শিল্পীরা জোর দিচ্ছেন। রাহুলের সঙ্গে অভিনয় করা কিংবদন্তি অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায় সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তিনি বাড়িতেই রয়েছেন এবং শুটিং স্থগিত রয়েছে। কারণ তাঁর ধারাবাহিকের নায়ক মারা গেছেন।

মাধবী মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমি সেই সময় শুটিং স্পটে উপস্থিত ছিলাম না, তাই ঘটনার সঠিক কারণ আমার জানা নেই। তবে রাহুল ছিলেন খুবই প্রতিভাবান ও শিক্ষিত। নিয়মিত পড়াশোনা করতেন এবং অভিনয়েও খুব দক্ষ ছিলেন। এত অল্প বয়সে তাঁর চলে যাওয়া সত্যিই মর্মান্তিক।” তিনি আরও জানান, শুটিং চলাকালীন নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে শিল্পী সমাজে এখন প্রশ্ন উঠছে। রাহুলের দুর্ঘটনা এ ধরনের সতর্কতার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বর্ষীয়ান অভিনেত্রী জানান, বহু বছর ধরে তিনি পাহাড় ও সমুদ্র, নদীর তীরে শুটিং করেছেন। সেই সময়েও দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা সবসময় থাকে। তিনি বলেন, “নিরাপত্তা থাকলেও কখনও দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমারও আগে এমন একটি অভিজ্ঞতা হয়েছে। পুরীর সমুদ্রে শুটিং চলাকালীন ঢেউ আমাদের পায়ের তলার বালি সরিয়ে দিয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী অঞ্জনা ভৌমিক। আমি জলের মধ্যে শক্ত করে অঞ্জনার হাত ধরে ছিলাম। নুলিয়ারা এসে আমাদের উদ্ধার করেছিলেন। সেদিন আমাদের ভাগ্য ভালো, বেঁচে গিয়েছি।

মাধবী মুখোপাধ্যায় আরও বললেন, “অ্যাক্সিডেন্টের কথা কেউ বলতে পারে না, কখন হবে, কোথায় হবে, তা কেউ জানে না। কেউ বেঁচে যায়, কেউ বাঁচে না। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হলে সতর্ক থাকা ছাড়া উপায় নেই। আমি বুঝতে পারি শিল্পীরা কতটা ঝুঁকিতে থাকেন শুটিংয়ের সময়। এই দুর্ঘটনা আমাদের সতর্ক করার মতোই।” তাঁর নিজের জীবনের এমন অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে শুটিং সময় নিরাপত্তার গুরুত্ব।

আরও পড়ুনঃ পর্দার বাইরে, ‘কথা’ জুটির প্রেম নিয়ে চর্চা পুরনো, সুস্মিতাকে নিয়ে অবশেষে বিয়ের পরিকল্পনা জানালেন সাহেব! প্রকাশ্যে আনলেন দিনক্ষণ? কবে বসছেন পিঁড়িতে?

শেষে তিনি রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। “মন খারাপ খুব, রাহুলের এমন আকস্মিক মৃত্যু সত্যিই খুব কষ্টদায়ক। তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আমি সমবেদনা জানাই। আমরা প্রত্যেকেই চাই এই ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে যেন আর না ঘটে। শিল্পীরা যাতে নিরাপদে কাজ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা খুব জরুরি।” মাধবীর কথায় প্রতীয়মান হয়, টলিপাড়ায় শোকের ছায়া এখনও ঘন।

You cannot copy content of this page