“ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা নতুনদের পারিশ্রমিক দিচ্ছে না, পুরনোদেরও সুযোগ মিলছে না” মৃ’ত্যুর আগেই টলিউড ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ প্রকাশ রাহুল অরুণোদয়ের! জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কোন আক্ষেপ নিয়ে চলে গেলেন তিনি?

হঠাৎ করেই থমকে গেল বাংলা বিনোদন জগৎ। জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee) অকালপ্রয়াণ যেন এক ধাক্কায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে টলিউডে। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়া এই শিল্পীর চলে যাওয়া মানতে পারছেন না কেউই। তাঁর সহকর্মী থেকে শুরু করে অনুরাগীরা, সবাই আজ একটাই প্রশ্নে স্তব্ধ, এত তাড়াতাড়ি কেন বিদায় নিলেন অভিনেতা? তবে শুধু তাঁর মৃত্যু নয়, মৃত্যুর আগে বলা কিছু কথা আজ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

মৃত্যুর কিছুদিন আগেই বাংলা ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছিলেন অভিনেতা। সেখানে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছিলেন চারপাশের অনিশ্চয়তা এবং অস্থিরতার কথা। তাঁর মতে, শুধু অভিনয় জগৎ নয়, গোটা সমাজই এখন এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে ছাত্র ও যুব সমাজের মধ্যে এই অনিশ্চয়তা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

অভিনেতা তাঁর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জানান, বাংলা বিনোদন জগতে এখন এক ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, এই অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে অনেক ক্ষমতাবান ব্যক্তি নতুনদের পারিশ্রমিক কমিয়ে দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের কাজের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধাও ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। তিনি বলেন, “এখন এমন একটা সময়, যেখানে বেকারত্ব ও আর্থিক চাপে মানুষ এতটাই অসহায় যে খুব কম টাকায়ও কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।” তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, শিল্পীদের জীবনে কতটা অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ কাজ করছে।

শুধু ইন্ডাস্ট্রি নয়, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বিশেষ করে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দীর্ঘদিন না হওয়া নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, বহু ছাত্রছাত্রী বছরের পর বছর পড়াশোনা করে, টাকা খরচ করে প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু পরীক্ষার সুযোগই পাচ্ছে না। ফলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলে থাকছে। একইসঙ্গে অপর্ণা সেনের মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে যে পরিবর্তন চাওয়া হয়েছিল, তা হয়তো আরও গভীরভাবে ভাবা উচিত ছিল। পাশাপাশি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য ছিল, “আমরা হয়তো তাঁকে ঠিকভাবে বুঝতে পারিনি।” এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ প্রেম ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধনে, টিআরপির সিংহাসনে ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’! সময় বদলেও জিত ‘জোয়ার ভাঁটা’র! জি বাংলার দাপটে ম্লান ‘ও মোর দরদিয়া’, ‘পরশুরাম’! তালিকা থেকেই বাইরে, ‘রাঙামতি’? ‘পরিণীতা’র জায়গা কোথায়?

সবশেষে ছাত্র-যুব সমাজের উদ্দেশ্যে কোনও বড় বড় উপদেশ না দিয়ে তিনি বাস্তবতার কথাই তুলে ধরেন। তিনি স্বীকার করেন, তিনি নিজে কোনও নেতা নন, তাই দিশা দেখানোর দাবিও রাখেন না। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব প্রতিভা আছে, সেটাকে চিনে নিয়ে এগোনোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যেও তিনি বলেন, সন্তানদের এক ছাঁচে ফেলার চেষ্টা না করে তাদের স্বতন্ত্রতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাঁর কথায় বারবার উঠে এসেছে একটাই বিষয়, গভীর অনিশ্চয়তা। আর সেই অনিশ্চয়তার মাঝেই লড়াই করে টিকে থাকতে হবে আগামী প্রজন্মকে।

You cannot copy content of this page