বর্তমান সময়ে বিনোদন জগতের শিল্পীরা শুধুমাত্র অভিনয়, গান বা অন্যান্য সৃজনশীল কাজের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখছেন না। সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও তাঁরা নিয়মিত নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন। সামাজিক সমস্যা, নারী নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নানা বিষয়েই এখন শিল্পীদের বক্তব্য জানতে আগ্রহী সাধারণ মানুষ। কারণ, জনপ্রিয় মুখদের মন্তব্য অনেক সময় সমাজে নতুন আলোচনার সূত্রপাত ঘটায়। সম্প্রতি টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলীকেও এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করতে দেখা গেল।
খুব শীঘ্রই মুক্তি পেতে চলেছে বাংলা ছবি ‘অভিমান’। এই ছবিতে শুভশ্রী গাঙ্গুলীর সঙ্গে অভিনয় করেছেন টলিউডের দুই জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং যিশু সেনগুপ্ত। ছবির প্রচার উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রীর সামনে উঠে আসে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিচ্ছেদ এবং ডিভোর্স নিয়ে প্রশ্ন। বিশেষ করে শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জনমানসে যে কৌতূহল তৈরি হয়, সেই প্রসঙ্গেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভশ্রী।
এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এগুলো খুব পার্সোনাল বিষয় এবং সম্পূর্ণটাই নিজেদের ওপর ডিপেন্ড করে। এটা সম্পূর্ণই জীবন দর্শনের উপর নির্ভর করে।” শুভশ্রীর মতে, কোনও সম্পর্কের ভাঙন বা বৈবাহিক জীবনের ইতি টানা এমন একটি বিষয়, যার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সেই সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত মানুষরাই নিতে পারেন। বাইরের কেউ সেই পরিস্থিতির গভীরতা বা বাস্তবতা পুরোপুরি বুঝতে পারেন না। তাই কোনও সম্পর্কের বিচ্ছেদকে বিচার করার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোই উচিত বলে মনে করেন তিনি।
শুধু তাই নয়, ডিভোর্স নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা বা চর্চার বিরুদ্ধেও নিজের মতামত জানান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, “এগুলো আমার কাছে খুব স্বাভাবিক বিষয়। এগুলো নিয়ে আমি বেশি ভাবতে চাই না বা ভাবিও না।” শুভশ্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, সম্পর্কের শুরু এবং শেষ দুটোই জীবনের স্বাভাবিক অংশ। এক সময় দু’জন মানুষ একসঙ্গে ভালো থাকার আশায় সম্পর্ক তৈরি করেন। কিন্তু যদি পরবর্তীতে দেখা যায় সেই সম্পর্কে সুখ বা মানসিক শান্তি নেই, তাহলে আলাদা হয়ে যাওয়াও একটি বাস্তব এবং গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত হতে পারে। সেই কারণেই তিনি ডিভোর্সকে অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত আলোচনার বিষয় বলে মনে করেন না।
আরও পড়ুনঃ “বাধ্য হয়েই আমি…” ক্ষো’ভ উগরে দিলেন দেবলীনা নন্দী! বিচ্ছেদের পরও পাইলট স্বামী প্রবাহর নন্দীর কাছ থেকে পাননি কোনও জিনিস! এবার পুলিশের বিরুদ্ধেও কী নিয়ে বি’স্ফোরক অভিযোগ গায়িকার?
সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বরং আলোচনায় না গিয়ে দেশে কতগুলো রেপ হচ্ছে সেগুলো নিয়ে আমি আলোচনা করব।” শুভশ্রীর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙাগড়ার চেয়ে সমাজের বৃহত্তর সমস্যাগুলিকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, নারী নিরাপত্তা, অপরাধ এবং সমাজের অন্যান্য গুরুতর বিষয় নিয়ে মানুষের আরও বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তাই ডিভোর্স বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে অযথা বিতর্কে জড়ানোর পরিবর্তে সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার পক্ষেই সওয়াল করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর এই স্পষ্ট ও বাস্তবধর্মী বক্তব্য ইতিমধ্যেই অনেকের নজর কেড়েছে।






