“বাধ্য হয়েই আমি…” ক্ষো’ভ উগরে দিলেন দেবলীনা নন্দী! বিচ্ছেদের পরও পাইলট স্বামী প্রবাহর নন্দীর কাছ থেকে পাননি কোনও জিনিস! এবার পুলিশের বিরুদ্ধেও কী নিয়ে বি’স্ফোরক অভিযোগ গায়িকার?

গায়িকা দেবলীনা নন্দীকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সামনে এল। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় কাটানোর পর এবার নিজের জিনিসপত্র ফেরত পাওয়ার লড়াইয়ে সমস্যার মুখে পড়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে সোনারপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর সন্তু মণ্ডলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনেন দেবলীনা। কয়েক মাস আগে এক রাতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন গায়িকা। যদিও দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। সেই ঘটনার পর থেকেই পাইলট স্বামী প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং আইনি পথে এগোতে শুরু করেন দেবলীনা।

দেবলীনার দাবি, হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর তিনি রাজারহাটের সেই ফ্ল্যাট থেকে নিজের জিনিসপত্র ফেরত আনার উদ্যোগ নেন, যেখানে স্বামী প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে থাকতেন। তাঁর বক্তব্য, “হাসপাতাল থেকে আমি নিজের বাড়িতে ফেরার পর রাজারহাটে যে ফ্ল্যাটে প্রবাহর সঙ্গে থাকতাম, সেখানকার জিনিস আনার প্রক্রিয়া শুরু করি। আমার পোশাক থেকে শুরু করে নিত্য় প্রয়োজনীয় জিনিস ওখানেই ছিল।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশে ওই ফ্ল্যাটে যাওয়ার সময় সাব ইন্সপেক্টর সন্তু মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন। দেবলীনার কথায়, “তিনি এই জিনিস বের করার জন্য, ১৫,০০০ টাকা ক্যাশ পেমেন্ট দাবি করেন। তখন বাধ্য হয়ে সেটা দিই, বিষয়টা অনুচিত জেনেও।” এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গায়িকার দাবি, রাজারহাটের ফ্ল্যাট থেকে কিছু জিনিস আনার পর এবার চন্দননগরে তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে বাকি জিনিসপত্র ফেরত আনার চেষ্টা চলছে। সেখানে এখনও তাঁর বিয়ের গয়না, শাড়ি, বাসনপত্র এবং কিছু আসবাবপত্র রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে সেই জিনিসগুলি আনতে গেলেই নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ দেবলীনার। তাঁর বক্তব্য, “ওখানে আমার বিয়ের গয়না, বাসনপত্র, শাড়ি, কিছু ফার্নিচার রয়েছে। সেটা যখনই আনতে যেতে চাইছি, সন্তুবাবু সহযোগিতা করছেন না।” তিনি আরও জানান, কখনও অসুস্থতার কারণ দেখানো হয়েছে, কখনও আবার নির্বাচনী কাজের ব্যস্ততার কথা বলা হয়েছে। যদিও তাঁকে জানানো হয়েছে যে ৪ বা ৫ জুন সহযোগিতা করা হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সাহায্য চেয়েছেন দেবলীনা। তাঁর কথায়, “আমি বাধ্য হয়ে সমাজ মাধ্যমে জানতে চাই, এই পরিস্থিতিতে কী করা প্রয়োজন। কারণ আগে উনি যতবার ডেট ঠিক হওয়ার পর আসতে পারেননি, ততবার আগের দিন রাতে জানিয়েছেন।” অন্যদিকে এই অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে সাব ইন্সপেক্টর সন্তু মণ্ডল জানান, “ওঁর জিনিস আনার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছি। কিছু জিনিস আনার কাজ বাকি আছে।” তিনি বলেন, আদালত একটি নির্দিষ্ট তারিখও দিয়েছিল, কিন্তু বিভিন্ন সরকারি দায়িত্বের কারণে সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁর দাবি, নির্বাচন, নির্বাচন-পরবর্তী অশান্তি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে সোনারপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির কারণে তিনি ব্যস্ত ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ গাড়ির চাকায় পি’ষ্ট হয়ে ভাঙল শিরদাঁড়া! চিকিৎসার খরচ দিতেও অনীহা! ইনফ্লুয়েন্সার অনন্যা গুহর পরিবারের বিরুদ্ধে বি’স্ফোরক অভিযোগ! ‘একটা প্রাণের কি কোনও মূল্য নেই?’ ‘জনপ্রিয়তার জোরে, মানবিকতার সব সীমা লঙ্ঘন’ ক্ষুব্ধ নেটপাড়া!

সন্তু মণ্ডল আরও বলেন, “আমার ৪ বা ৫ জুন যাওয়ার কথা। তবে তার জন্য আদালতের নির্দেশ প্রয়োজন।” তবে ১৫ হাজার টাকা নগদ নেওয়ার অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। এ প্রসঙ্গে তাঁর পাল্টা বক্তব্য, “যে কেউ যে কোনও কিছু বলে দিলেই হবে না। তাঁকে প্রমাণ দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “উনি আগে প্রমাণ করুন, কাকে টাকা দিয়েছেন। এরকম কিছুই ঘটেনি।” ফলে একদিকে দেবলীনার গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে পুলিশের স্পষ্ট অস্বীকার, এই দুই বিপরীত দাবিকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এখন আদালতের পরবর্তী নির্দেশ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সকলের।

You cannot copy content of this page