বাংলা চলচ্চিত্র জগতে ‘ব্যান কালচার’ (Ban Culture) নতুন কিছু নয়। বহুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে কিছু শিল্পী, পরিচালক বা টেকনিশিয়ানকে নির্দিষ্ট কারণে কাজ থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। এর সঙ্গে জুড়েছে রাজনীতির প্রভাব নিয়ে নানা জল্পনা। ইন্ডাস্ট্রির একাংশের দাবি, শাসক দলের ছায়া নাকি ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলছে কাজের সুযোগ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে। যদিও এই অভিযোগ প্রমাণিত নয়, তবুও আলোচনা থামছে না। আর এই আবহেই সামনে এল এমন এক মন্তব্য, যা আবারও বিতর্ক উসকে দিল।
এই পরিস্থিতির মাঝেই মুখ খুললেন প্রবীণ পরিচালক ও অভিনেত্রী অপর্ণা সেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও স্পষ্টভাষী মনোভাবের জন্য তিনি বরাবরই পরিচিত। একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হয়, ইন্ডাস্ট্রি কি এখন রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে চলছে? তখনই তিনি জানান, এই বিষয়ে তিনি নিজেই কিছু প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন।
অপর্ণা সেন সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই এবং ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্সের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে। তাঁর বক্তব্য, যিনি মূলত ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত নন, তিনি কীভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থার প্রধান হলেন? তাঁকে জানানো হয়েছিল, স্বরূপ বিশ্বাসের কাছে নাকি অ্যাসিস্ট্যান্ট গিল্ডের কার্ড রয়েছে। কিন্তু এখানেই সন্দেহ প্রকাশ করেন অপর্ণা সেন।
অপর্ণা সেন দাবি করেন, কিছুদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন চিঠিতে পড়ছিলেন কিছু মানুষকে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এই অভিযোগই তাঁকে বিষয়টি নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি স্বরূপ বিশ্বাস সত্যিই অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করে থাকেন, তাহলে তাঁর কার্ডের মেয়াদ কীভাবে ১৩ মাস ধরে বৈধ থাকে? কারণ সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের কার্ডের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে।
আরও পড়ুনঃ “৪ এপ্রিল‘Justice for Rahul’ মিছিলের ডাক”! যীশু সেনগুপ্ত, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, শুভশ্রী গাঙ্গুলী-সহ প্রমুখদের উপস্থিতিতে একজোট টলিউড! রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যুর নেপথ্যের সত্য কি এবার সামনে আসতে চলেছে?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অপর্ণা সেন জানতে চান যে দু’টি ছবিতে স্বরূপ বিশ্বাস কাজ করার দাবি করেছেন, সেই ছবিগুলির নাম কী? কিন্তু তাঁর দাবি, এই প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর তিনি পাননি। এই উত্তরহীনতা এবং তথ্যের অসঙ্গতিই এখন নতুন করে বিতর্ক বাড়াচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে আবারও উঠছে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্ন, যা ভবিষ্যতে আরও বড় আলোচনার জন্ম দিতে পারে।






