‘বিজেপি জিতেছে বলে, এবার তৃণমূল জিতলে আমিই ব্যান হয়ে যেতাম!’ যাঁরা মাথা উঁচু করে ছিল, আজ তাঁদের মুখে হাসি! স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর বি’স্ফোরক দেব!

বৃহস্পতিবার রাতে টলিউডে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠেন স্বরূপ বিশ্বাস। তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করার পর থেকেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। তবে সবার নজর ছিল অভিনেতা ও সাংসদ দেবের দিকে। অবশেষে মুখ খুলে দেব জানালেন, তিনি ইচ্ছে করেই এতক্ষণ কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর কথায়, “গতকাল রাত থেকেই প্রচুর ফোন পেয়েছি। একটা কারণেই উত্তর দিতে চাইনি। কী বলব এক জন হেরে যাওয়া মানুষকে নিয়ে! হেরে যাওয়া মানুষের সঙ্গে লড়াই করব?” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “এখন প্রচুর কথা বলতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু কী লাভ! যে যার কর্মের ফল ভুগবে।”

দেবের মতে, কারও খারাপ সময়ে আক্রমণ করা তাঁর স্বভাবে নেই, যদিও অতীতে অনেকেই কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে টলিউডে নানা অভিযোগ শোনা গিয়েছে বলেও দাবি করেন দেব। তিনি জানান, তাঁর নিজের জীবনেও এর প্রভাব পড়েছিল। অভিনেতার কথায়, “আমি প্রথম বার বলছি কথাটা, আমাকেও সমাজ মাধ্যমে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিল! না হলে আমাকে আর কাজ করতে দেওয়া হবে না, এমনও বলা হয়েছিল।” তিনি জানান, সেই চাপের সামনে মাথা নত না করে নিজের লড়াই নিজেই লড়েছেন। দেবের কথায়, “আজ তিনি তাঁর কর্মের ফল পেয়েছেন।” শুধু তাঁর কাছেই নয়, বহু শিল্পী ও টেকনিশিয়ানের কাছ থেকেও স্বরূপের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে বলে দাবি করেন অভিনেতা।

তিনি আরও বলেন, “আমার কাছেই ঝুড়ি ঝুড়ি অভিযোগ এসেছে ওঁর বিরুদ্ধে।” একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি তখন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেনি। দেব জানান, শিল্পীদের পাশাপাশি বহু টেকনিশিয়ানও দীর্ঘদিন কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, অনেকের রুজি-রুটি বিপদের মুখে পড়েছিল এবং মানসিক চাপও বেড়েছিল। অভিনেতা বলেন, “আমি অনেক টেকনিশিয়ানের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। বলেছি, ভাল দিন আসবে।” তিনি আরও দাবি করেন, অনেকেই ভয় ও হতাশার মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। এক রূপটানশিল্পীর অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে দেব বলেন, তাঁকে দীর্ঘদিন কাজ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল।

সেই খবর পেয়ে তিনি ওই ব্যক্তিকে এফআইআর করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। দেবের মতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করলে সেই অন্যায় আরও বাড়তে থাকে। তাই তিনি সবসময় শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। নির্বাচনের ফল এবং তার প্রভাব নিয়েও সরব হন দেব। তাঁর বক্তব্য, “যদি দল জিতত, স্বরূপকে আটকানো মুশকিল হয়ে যেত। আমিই ব্যান হয়ে যেতাম।” তিনি জানান, গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই নানা বিষয়ে চাপের মুখে ছিলেন। “স্ক্রিনিং কমিটি হয়েছে, আমি ভোট দিইনি। আমার নামে অভিযোগ দিতে লালবাজারে পৌঁছে গিয়েছিলেন অনেকে। তার মুখও ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস।” দেব আরও বলেন, “দেশু ৭-এর ঘোষণা করার পর আমাকে বলা হয়েছিল, আমি ছবি রিলিজ করতে পারব না।”

তাঁর দাবি, পুজোর সময় তাঁর ছবি মুক্তি আটকানোরও চেষ্টা হয়েছিল। তবে তিনি মনে করেন, “ক্ষমতা আজ আছে, কাল নেই। ভালবাসা সব সময় থাকে। অন্যায় করলে প্রতিবাদ তো হবেই।” ভবিষ্যতে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প কোন পথে এগোবে, তা নিয়েও নিজের মত স্পষ্ট করেছেন দেব। তিনি বলেন, “আমার অনুরোধ, তাঁরা যেন স্বরূপ বিশ্বাসের মতো ভুল না করেন।” তাঁর মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিভার কোনও অভাব নেই, বরং শিল্পীদের আরও ভালোভাবে কাজের সুযোগ করে দেওয়া দরকার। তিনি সেমিনার ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও উন্নত কাজের পরিবেশ তৈরির কথা বলেন। পাশাপাশি জানান, অতীতেও তিনি শিল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে অবহিত করেছিলেন।

আরও পড়ুনঃ ‘একটাই নাম লম্পট!’ ৮০ হাজার টাকার সিঙাড়ার বাজেট, প্রতিনিয়ত মহিলাদের যৌ’ন হেন’স্থা! অরিন্দম শীলকে ঘিরে বি’স্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় টলিপাড়া!

দেবের কথায়, “আমাকে বলা হয়েছিল, আমার ছবিতে মিঠুন চক্রবর্তী আছেন বলে নন্দনে শো দেওয়া হয়নি।” পরে প্রতিবাদস্বরূপ তিনি নিজের প্রযোজনা সংস্থার কোনও ছবিই নন্দনে চালাননি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “রুদ্রনীল, হিরণ তো প্রতিবাদ করে অন্য দলে চলে গিয়েছিলেন। তাঁদের প্রতি আজ সম্মান বেশি মানুষের।” শেষে তাঁর মন্তব্য, “আমার অরূপ বিশ্বাস, স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে কারণ, তাঁরা আরও ভাল ভাবে ইন্ডাস্ট্রি চালাতে পারতেন, ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি হতে পারত। তাঁরা তা করলেন না।”

You cannot copy content of this page