গতকাল রাতে, ইন্ডাস্ট্রিতে তো’লাবাজি, খু’নের চেষ্টা এবং যৌ’ন হেন’স্থার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে নতুন করে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। শুধু এই অভিযোগই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা থাকার কথাও সামনে এসেছে। তোলাবাজি এবং অস্ত্র আইনের ধারাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। রিজেন্ট পার্ক এলাকার এক মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতারি হয়েছে। অভিযোগের সূত্রপাত চলতি বছরের ৪ এপ্রিলের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। যদিও অভিযোগকারিণীর দাবি, ঘটনার পরপরই তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। পরে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ার পরই তদন্তে গতি আসে এবং তার ভিত্তিতেই স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযোগকারিণী পেশায় টেকনিশিয়ান স্টুডিওর কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিয়মিত কাজ পাচ্ছিলেন না বলে দাবি করেছেন। সেই পরিস্থিতিতে স্বরূপ বিশ্বাসের এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে গত ২৯ মার্চ তিনি স্বরূপ বিশ্বাসের কাছে একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে তিনি কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন বলে জানা যায়। অভিযোগকারিণীর বক্তব্য, চিঠি পাঠানোর কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাপ্রবাহ অন্য দিকে মোড় নেয়। তাঁর দাবি, ২৯ মার্চ চিঠি পাঠানোর পর ৩ এপ্রিল রাতে তাঁর কাছে একটি ফোন আসে। এক পরিচিত ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান বলে জানান। এরপরই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।
মহিলার অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে আগে থেকেই কিছু নির্দিষ্ট শর্তের কথা জানানো হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, “আমাকে স্বরূপেরই ঘনিষ্ঠ বাপি বলেছিল কাজ পেতে গেলে প্রিয় মানুষ হতে হয়। আমি সেটাই জানিয়ে স্বরূপ বিশ্বাসকে চিঠি লিখেছিলাম।” অভিযোগকারিণী আরও দাবি করেন, ৪ এপ্রিল তাঁকে ভয় দেখানোর জন্য একজনকে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর কথায়, “৪ এপ্রিল যাকে পাঠিয়েছিল থ্রেট দিতে, উনি এসে বলেছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস ও বাপি মালাকার আমাকে জানে মেরে দেবে, দেখানো হবে আত্মঘাতী হয়েছি।” শুধু তাই নয়, আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “বলা হয়েছিল, তুমি স্বরূপ বিশ্বাসের বেড পার্টনার হও। মেয়ে সাপ্লাই করে কাজ করো।” এই অভিযোগ ঘিরেই বর্তমানে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, ঘটনার পর তিনি গল্ফগ্রিন থানায় লিখিত অভিযোগও করেছিলেন। তবে সেই সময় পুলিশ তাঁর অভিযোগ নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগ গ্রহণ না হওয়ায় তিনি ভীত হয়ে পড়েন এবং কয়েকদিন আত্মগোপন করে থাকতে বাধ্য হন বলে জানান। তাঁর কথায়, ঘটনার পর টানা দুই থেকে তিন দিন তিনি এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়িয়েছেন নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও বিষয়টির কোনও সমাধান হয়নি। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার তিনি ফের অভিযোগ দায়ের করেন। তারপরই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হয় এবং তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে জানা যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও, রাজনৈতিক চাপের মুখেই বাংলা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন ‘মেমবউ’ খ্যাত বিনীতা চট্টোপাধ্যায়! টলিপাড়ায় কোন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছিলেন অভিনেত্রী? পালাবদলের পর গারোদের ওপারে টলিউড মা’ফিয়ারা, এবার কি তবে ফিরবে তিনি?
পুলিশ সূত্রে খবর, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র আইনের ধারাও যুক্ত হয়েছে মামলায়। এদিকে এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেতা তথা রাজনীতিক রুদ্রনীল ঘোষও। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে প্রত্যেককেই খুব অদ্ভুতরকমভাবে ব্যবহার করতেন, তাঁরা যদি তাঁর ইচ্ছা মতো ব্যবহৃত না হতেন, তাহলে তাঁদের কাজ কেড়ে নেওয়া হত। তিনি টেকনিশিয়ান হোন, কিংবা শিল্পী-প্রযোজক হোন!” রুদ্রনীলের এই মন্তব্যের পর বিতর্ক আরও বেড়েছে। স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তদন্তের অগ্রগতি এখন রাজ্য রাজনীতি ও বিনোদন মহলে সমানভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।






