অকালে হারিয়েছেন ভাই সম অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়কে! এবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায়ের মা! ভেঙে পড়েছেন অভিনেতা

গতকালই মাতৃ বিয়োগ হয়েছে অভিনেত্রী সুদীপ্তা-বিদীপ্তার। আর এবার অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায়-এর ব্যক্তিগত জীবনে এখন চরম দুশ্চিন্তার সময়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তাঁর মা। প্রথমে মূত্রনালিতে সংক্রমণ ধরা পড়লেও, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং রক্তে সংক্রমণ তৈরি হয়। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, ২২ মার্চ তড়িঘড়ি তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। এই আকস্মিক পরিস্থিতি অভিনেতাকে ভীষণভাবে মানসিকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।

ঠিক সেই সময়েই কাজের সূত্রে অসমে ছিলেন সাহেব। ২২ মার্চ বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন, পরিবারের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ। বাড়িতে চিকিৎসক, স্ত্রীর উদ্বিগ্ন মুখ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত চাপের। অভিনেতা জানান, তাঁর মা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছিলেন এবং নিজে কোনও কিছু করার অবস্থায় ছিলেন না। চিকিৎসকদের পরামর্শে আর দেরি না করে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যাতে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়।

২২ মার্চ থেকে শুরু করে টানা কয়েকদিন ধরে বাড়ি আর হাসপাতালের মধ্যে ছুটে বেড়াচ্ছেন সাহেব। এই কঠিন সময়ের মধ্যেই আরও এক বড় ধাক্কা আসে, যখন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আকস্মিক মৃত্যুর খবর পান। এই শোক এবং উদ্বেগ মিলিয়ে অভিনেতা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, সেই মুহূর্তে তাঁর মাথা ঠিক মতো কাজ করছিল না।

তবে দীর্ঘ চিকিৎসার পর এখন কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন তাঁর মা। যদিও এখনও শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক নয় এবং ভীষণ দুর্বলতা রয়েছে, তবুও চিকিৎসকেরা আশাবাদী। সাহেব জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সমস্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ইতিমধ্যেই বাড়িতে রাখা হয়েছে, যাতে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেই বাড়িতেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া যায়। পরিবারের সবাই এখন তাঁর দ্রুত আরোগ্যের অপেক্ষায়।

আরও পড়ুনঃ “ইন্ডাস্ট্রি এখন রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে চলছে” অকপট অপর্ণা সেন! “যাঁর অভিনয়ের সঙ্গে দূর দূরান্ত পর্যন্ত সম্পর্ক নেই, তিনি কীভাবে টলিউড ফেডারেশনের শীর্ষে?” বর্ষীয়ান অভিনেত্রী, পরিচালিকার প্রশ্নবাণে বিদ্ধ স্বরূপ বিশ্বাস!

এদিকে শনিবার রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যুর বিচার চেয়ে আয়োজিত পদযাত্রায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল সাহেবেরও। কিন্তু মায়ের হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার সম্ভাবনা থাকায় তিনি হয়তো সেই কর্মসূচিতে থাকতে পারবেন না। তবুও, তিনি জানিয়েছেন যে, শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকতে পারলেও মানসিকভাবে তিনি সবসময় বন্ধুর পাশে রয়েছেন। এই কঠিন সময়েও দায়িত্ব এবং সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছেন অভিনেতা।

You cannot copy content of this page