রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জীর আকস্মিক মৃত্যু যেন এখনও মেনে নিতে পারছে না টলিপাড়া। ঘটনার পর থেকেই শিল্পী মহলে চলছে তীব্র সমালোচনা, ক্ষোভ আর একের পর এক প্রশ্ন। কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, কেউ সরাসরি সরব হচ্ছেন নিরাপত্তা নিয়ে। ধীরে ধীরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এক ধরনের আন্দোলনের আবহ, যেখানে উঠে আসছে কাজের পরিবেশ, শিল্পীদের নিরাপত্তা এবং মানসিক চাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।
এই ঘটনার পর থেকেই অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী নিজেদের অভিজ্ঞতা সামনে আনছেন। বাইরে থেকে বিনোদন জগতকে যতটা রঙিন মনে হয়, বাস্তবে তার ভেতরে লুকিয়ে থাকে চাপ, অনিশ্চয়তা আর ঝুঁকি। দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিক চাপ নিয়ে কাজ করতে হয় শিল্পীদের। কখনও বিপজ্জনক দৃশ্য, কখনও দীর্ঘ সময়ের শুটিং, সব মিলিয়ে ঝুঁকি নিয়েই এগোতে হয়। এই মৃত্যু যেন সেই অন্ধকার দিকগুলোকে আরও স্পষ্ট করে সামনে এনে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্র সরাসরি মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা ভুল ধারণা আছে, অনেকে মনে করেন অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাজ মানেই নেশা করে এসে শুটিং করা। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। রাহুলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মৃত্যুর পর থেকেই অনেকেই বলছেন হয়তো তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন, তাই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই শুটিংয়ের কিছু দৃশ্য সামনে এসেছে, যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিলেন। পাশাপাশি পোস্টমর্টেম রিপোর্টেও জানা গিয়েছে, তাঁর শরীরে কোনও নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রমাণ মেলেনি।
কাঞ্চনার কথায়, সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হল, যে মানুষটি আর নেই, তাকেই নিয়ে ভুল কথা বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, “খুব খারাপ লাগে, কারণ সে এসে সত্যিটা বলতে পারছে না।” রাহুলকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন বলেই তাঁর দাবি, তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল মানুষ ছিলেন। এখানেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, যাঁরা রাহুলকে কাছ থেকে চিনতেন না, তাঁরাও যখন শোক প্রকাশ করছেন, এবং অভিনেত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, যাঁর গল্পে কাজ করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা, তাঁর কাছ থেকে সেই প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না কেন? অর্থাৎ অভিনেত্রী সরাসরি লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের দিকেই আঙুল তুলেছেন।
অভিনেত্রী আরও তীব্র ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি পোষ্য প্রাণী মারা গেলেও মানুষ কষ্ট পায়, সেখানে একজন শিল্পী মৃত্যুতে এমন নির্লিপ্ততা কীভাবে সম্ভব? অভিনেত্রী, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যাপারে সরাসরি বলেন “উনি এখন স্ক্রিপ্ট গোছাতে ব্যস্ত, কখন কি বলবেন সেটাই সাজাচ্ছেন তিনি”, এই সময় অন্তত একবার এসে দাঁড়ানো যেত পরিবারের পাশে। কাঞ্চনার কথায়, এই নীরবতাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে রাহুলের মৃত্যু শুধু শোকের নয়, বরং টলিপাড়ার ভেতরের বহু অজানা দিককে সামনে এনে দিল নতুন করে তা বোঝাই যাচ্ছে।






