টলিউড জুড়ে গত কয়েকদিন ধরে যে অস্বস্তি আর ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছিল, তারই মধ্যে আচমকা নতুন মোড়। অভিনেতা ‘রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Rahul Arunoday Banerjee) -এর মৃ’ত্যুকে ঘিরে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা শুধু একটি ঘটনাতেই আটকে থাকেনি, বরং পুরো ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে বড় আলোচনা তৈরি করেছে! এই প্রেক্ষিতেই আর্টিস্ট ফোরামের তরফে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছিল, যাতে শিল্পীদের সুরক্ষা নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
তবে, পরিস্থিতি একেবারে একরৈখিক ছিল না। একদিকে শুটিং বন্ধ রাখার কথা উঠছিল, অন্যদিকে বিভিন্ন মহল থেকে চাপও বাড়ছিল দ্রুত কাজ স্বাভাবিক করার জন্য। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিক বন্ধ হওয়ার খবর যেমন ছড়িয়ে পড়েছিল, তেমনই স্টুডিও পাড়ায় চলছিল একের পর এক বৈঠক। এর মাঝেই শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠছিল যে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাভাবিকভাবে কাজ করা সম্ভব নয়!
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই, মঙ্গলবার সকাল থেকে পালন করা হলো কর্মবিরতি। তবে, বিকেলে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, প্রিয়াঙ্কা সরকার, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, যীশু সেনগুপ্ত-সহ আরও অনেকে। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল, কীভাবে দ্রুত সুরক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করা যায় এবং একই সঙ্গে কাজও চালু রাখা যায়। কারণ, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকলে তার প্রভাব পড়ে বহু মানুষের জীবিকার উপর।
বৈঠকের পরেই বড় ঘোষণা করেন প্রসেনজিৎ। তিনি জানান, কর্মবিরতি আপাতত তুলে নেওয়া হচ্ছে এবং পরের দিন থেকেই শুটিং শুরু হবে। তবে, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে যে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে শুটিং ফ্লোরে শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে। শুধু তাই নয়, রাহুলের মৃ’ত্যুর ঘটনায় যাঁরা দায়ী বলে প্রমাণিত হবেন, তাঁদের সঙ্গে ভবিষ্যতে কাজ না করার কথাও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “লীনার চিত্রনাট্যের একটা লাইনও এদিক ওদিক করা যায় না, এতদিন ওনার কাজ করছি…” রাহুলের অকাল মৃ’ত্যুতে, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে বি’স্ফোরক তথ্য ফাঁস রেশমী সেনের! হাতে কাজ না থাকা সত্ত্বেও ম্যাজিক মোমেন্টসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ত্যাগ, ধারাবাহিক ছাড়লেন তিনিও!
এদিকে এই ঘটনার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে স্টুডিও চত্বর, সব জায়গাতেই একটাই দাবি জোরালো হয়েছে যে এবার অন্তত সত্যিটা সামনে আসুক! প্রতিবাদ মিছিল, থানায় অভিযোগ দায়ের, কর্মবিরতি সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন আর শুধুই একটি ব্যক্তিগত ক্ষতিতে আটকে নেই, বরং পুরো ইন্ডাস্ট্রির দায়িত্ববোধের পরীক্ষাও বটে। কাজ ফের শুরু হলেও, এই ঘটনার প্রভাব যে দীর্ঘদিন টলিউডে থেকে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।






