টলিউডে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অকাল প্রয়াণ যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না সহকর্মীরা। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তাঁর চলে যাওয়া শুধু পরিবার নয়, পুরো বাংলা বিনোদন জগতকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। শুটিং সেটে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন নিরাপত্তা, গাফিলতি, এবং দায়িত্ববোধ নিয়ে। এই শোকের আবহেই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
রাহুলের মৃত্যু নিয়ে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। তিনি বলেন, “কেন যে ও জলে-টলে নামতে গেল, সেটাই আমি বুঝতে পারছি না।” অনেকের মতে, এই মন্তব্যে সহানুভূতির অভাব স্পষ্ট, বরং দায় চাপানোর সুরই বেশি প্রকট। যখন একদিকে শোকাহত ইন্ডাস্ট্রি, তখন এই ধরনের ‘ক্যাজুয়াল’ প্রতিক্রিয়া আরও ক্ষোভ বাড়িয়েছে।এই প্রসঙ্গেই কিছুদিন আগেই মুখ খোলেন অভিনেত্রী মৈত্রেয়ী মিত্র।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি লেখেন, এই ধরনের মন্তব্য “অশ্রদ্ধাপূর্ণ”। তাঁর বক্তব্য, রাহুল নিজের ইচ্ছায় বা বেপরোয়া মনোভাবে জলে নামেননি, বরং কাজের প্রয়োজনে তাঁকে তা করতে হয়েছিল। পুরো ঘটনা না জেনে এমন মন্তব্য করা উচিত হয়নি বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর পোস্টে স্পষ্ট ক্ষোভ, একজন প্রয়াত শিল্পীর প্রতি অন্তত ন্যূনতম সম্মান দেখানো প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গেই এবার মুখ খোলেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি। সম্প্রতি তিনি সরাসরি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়-এর নাম নিয়েই তীব্র কটাক্ষ করেন।
তাঁর বক্তব্য, “আমি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো এতটা বিজ্ঞ নই যে সব বিষয়ে মন্তব্য করব।” এই একটি বাক্যেই স্পষ্ট হয়ে যায় তাঁর ক্ষোভের গভীরতা। স্বস্তিকার মতে, একজন মানুষ মৃত্যুর মতো সংবেদনশীল ঘটনায় কথা বলার আগে অন্তত বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা থাকা উচিত। শুধু পরিচিত মুখ বা প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়াই যথেষ্ট নয়, সংবেদনশীলতা এবং সহানুভূতিও সমান জরুরি। এরপর আরও কড়া সুরে অভিনেত্রী বলেন, একজন বড় মাপের খেলোয়াড় হিসেবে শুটিংয়ের খুঁটিনাটি না জানা স্বাভাবিক।
কিন্তু সেই অজ্ঞতা নিয়েই প্রকাশ্যে মন্তব্য করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি স্পষ্ট করে দেন, রাহুলের মৃত্যু কোনও ব্যক্তিগত বেপরোয়া সিদ্ধান্তের ফল নয় বরং কাজের প্রয়োজনে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা। তাই এই ধরনের মন্তব্য শুধু তথ্যভিত্তিক ভুল নয়, বরং একজন প্রয়াত শিল্পীর প্রতি অসম্মানও বটে। তাঁর কথায়, “একটা মানুষ মারা গেছে, সেখানে অন্তত সহানুভূতি তো দেখানো উচিত।” অভিনেত্রী সপাটে জবাব দিয়ে বলেন, “সৌরভ হয়েই এসি ফ্লোরের নন ফিকশনের শুটিং করেন।
আরও পড়ুন: টলিউডে ব্যান কালচারের দিন শেষ! আগামী ৭২ ঘণ্টায় কাজে ফিরছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য ও ঋদ্ধি সেন সহ বাকিরা! রাহুল অরুণোদয় মৃ’ত্যুর প্রতিবাদের প্রভাব, ব্যান শিল্পীদের কাজে ফেরাতে আলোচনা শুরু!
টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে শ্যুটিং-ফুটিং কীভাবে হয়-টয় এটা ওঁনার জানার কথা নয় উনি এত বড়মাপের স্টার যে ওঁনার অসুবিধা টসুবিধাগুলো হওয়ার কথা নয়! কোটি কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে কাজ করবেন, উনি যা চাইবেন তাই দেওয়া হবে।” স্বস্তিকা শেষে বলেন, গোটা বিষয়টা ওনার ভাবনার বাইরে। এমনকি ‘আরজি কর’ নিয়ে তো পরিস্থিতিতেও নাকি এই ধরণের মন্তব্য করেতে দেখেছিলেন, বলে নিন্দাও করেন তিনি! আপনারাও কি অভিনেত্রীর কথার সঙ্গে সহমত?






