“নোং’রা লোক, আমাকে নানান ভাবে…” “বাড়িতে বউ-বাচ্চা রেখে অভিনেত্রীদের সঙ্গে…” মুখ খুললেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী! টেন্ট মিডিয়ার কর্ণধার সুশান্ত দাসের বিরুদ্ধে ‘এক্সপ্ল’য়েটেশন’-এর গুরুতর অভিযোগ! ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর পর বিপাকে এই প্রযোজনাও?

টলিউডের চলমান পরিস্থিতি এখন খুবই জটিল, আর সেই জটিলতা নিয়ে যখন কিছু পুরনো, অভিজ্ঞ শিল্পীরা তাঁদের নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা ভাগ করেন, তখন তা নাড়া দিতে বাধ্য। এদিন বাংলা টেলিভিশনের এক অভিনেত্রী তাঁর জীবনের ‘অন্ধকার’ অধ্যায়ের কথা তুলে ধরেছেন, যে যে পড়েছেন সেই পোস্টের লেখা, প্রায় প্রত্যেকের মনেই দাগ কেটেছে। দীর্ঘ সময়ের কঠিন অভিজ্ঞতা চেপে রাখার পর এ যেন আত্মমুক্তির চেষ্টা। এখানে শুধু নিজের দুঃখের কথা নয়, বরং গোটা ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকার দিকগুলোর ওপর আলো ফেলাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য!

অভিনেত্রী নিজেই বলেছিলেন, যে শিল্পের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল, সেই শিল্পের মধ্যেই কতটা অমানবিক পরিস্থিতি তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে, সেটা এখন শুধু নিজের গল্প নয়, বরং একাধিক উঠতি শিল্পীর গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। টলিউডের নামী প্রোডাকশন হাউসগুলোর মধ্যে যেগুলি শিল্পী সমর্থন বা সম্মানের বদলে তাঁদের জন্য এক প্রকার শোষণমূলক পরিবেশ তৈরি করেছে, সে বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। যেখানে ‘কর্মবিরতি’ এবং ‘প্রতিবাদ’ কেবল কিছু মানুষের জন্য, সেখানে শিল্পী হিসেবে যারা নতুন, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন।

তবে এটাই মুখ্য নয়! তাঁর অভিযোগ, টেন্ট মিডিয়ার প্রোডাকশন হাউসের কর্ণধার সুশান্ত দাস, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাগত জীবনে বারবার হস্তক্ষেপ করেছেন, কখনও বা সম্মতি ছাড়া এমন কিছু করতে বাধ্য করেছেন, যা তাঁর আত্মসম্মানকে আঘাত করেছে। এমনকি তাঁর পরিবারকেও মিথ্যে কথা বলে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। একজন শিল্পী যখন শুটিংয়ের জন্য প্রস্তুত, তখন এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যেখানে তিনি শূন্যতার মধ্যে পড়ে যান এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার শিকার হন, তখন তার স্বপ্নের ক্ষয় হয়।

অভিনেত্রীর কথায়, “দীপ জ্বেলে যাই খ্যাত প্রোডিউসার সুশান্ত দাসের মতো মানুষদের আসল মুখটা সবাই জানুক। বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান রেখে, ইন্ডাস্ট্রির ক্ষমতা ব্যবহার করে, একের পর এক অভিনেত্রীর সঙ্গে নোংরা খেলা চালিয়ে যাওয়া…যার হাত ধরে আজ অনেক সিরিয়ালের নায়িকা , নায়িকা হয়েছেন। কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে কী আছে, তা অনেকেই জানেন। আমাকে নানা দিক থেকে এক্সপ্লয়েট করেছিলেন…অনেক মেয়েই এই নোংরামি সহ্য করতে না পেরে সরে গেছে, আমি নিজে চোখে দেখেছি।”। অনেকেই সরে যায়, কিন্তু শিল্পী হিসেবে নিজের পরিচিতির পাশে দাঁড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ!

আরও পড়ুনঃ “যোগ্যতা থাকলে অন্য প্রোডাকশন হাউস খোঁজো, নাটক না করে” “এতদিন পক্ষপাতিত্ব ছাড়া কোনও কাজ পেয়েছো?” ব্যান লীনার ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’, বন্ধ ‘চিরসখা’! ভিভানের ‘বেকার ভাতা’ পোস্টের জবাবে রানা সরকারের তীব্র প্রতিক্রিয়া! ‘ফেভারিটিজম’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি তো’প দাগলেন প্রযোজক!

তাই অভিনেত্রীর কথায়, এখানে কাজ পাওয়ার জন্য শুধু ট্যালেন্টই যথেষ্ট নয়, বরং এক ধরনের আপস বা সমঝোতার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। অনেক শিল্পী জানেন না, কোথায় অডিশন হচ্ছে, কিভাবে কাজ পাবেন? তাদের কাছে এই পেশাটাই যেন এক মুছে যাওয়া স্বপ্নের মতো। অথচ এই ইন্ডাস্ট্রিতে খুব সহজেই যদি সঠিক পথে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যেত, তাহলে অনেক নতুন প্রতিভা সবার সামনে আসত। অবশেষে, অভিনেত্রী তাঁর পোস্টে অন্যান্য শিল্পীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন, যাতে অন্য কেউ সেই পথে না হাঁটে।

You cannot copy content of this page