পর্দার সামনে যাঁদের দেখে আমরা মুগ্ধ হই, তাঁদের জীবনের পেছনের গল্পটা অনেক সময়ই থেকে যায় অজানা। আলো, ক্যামেরা, অ্যাকশনের ঝলকানির আড়ালে লুকিয়ে থাকে কঠিন পরিশ্রম, ঝুঁকি আর কখনও কখনও প্রাণঘাতী বিপদও। সম্প্রতি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জীর মৃত্যুর পর আবারও সামনে আসছে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির এই অন্ধকার দিক। একের পর এক শিল্পী তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন, যেখানে উঠে আসছে শুটিং করতে গিয়ে নানা দুর্ঘটনার কথা যা সাধারণ দর্শক কখনও কল্পনাও করতে পারেন না।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই মুখ খুললেন অভিনেত্রী দোলন রায়। তিনি জানালেন, তাঁর স্বামী তথা বর্ষীয়ান অভিনেতা দীপঙ্কর দে একসময় শুটিং করতে গিয়ে বড়সড় দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিলেন। ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন ঘটে সেই ঘটনা। দোলন রায়ের কথায়, বাইরে থেকে সবকিছু যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে সেটার সঙ্গে মেলে না। শুটিং সেটে অনেক সময়ই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা শিল্পীদের জন্য মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
অভিনেত্রীর কথায় জানা যায়, তিস্তা নদীর ধারে শুটিং চলছিল। সেই সময় হঠাৎ করেই একটি বড় বোল্ডার এসে পড়ে দীপঙ্কর দে-র পিঠের উপর। ঘটনাটি এতটাই গুরুতর ছিল যে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ডাক্তার জানিয়ে দেন, তখন তাঁর বয়স প্রায় ৬০ হওয়ায় বড় ধরনের অপারেশন করা সম্ভব নয়। শুটিংয়ের মধ্যেই শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা করেই ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁকে। পরে বাড়িতে ফিরে প্রায় দু’মাস সম্পূর্ণ বিছানায় বিশ্রামে থাকতে হয়েছিল।
দোলন রায় আরও জানান, দীপঙ্কর দে-র শারীরিক গঠন একটু শক্তপোক্ত হওয়ায় হয়তো বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছিল। কিন্তু তাঁর জায়গায় যদি কোনও রোগা বা দুর্বল শিল্পী থাকতেন, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, শুটিং সেটে কতটা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের। বাইরে থেকে যেটা শুধু বিনোদন মনে হয়, তার পেছনে লুকিয়ে থাকে বাস্তবের কঠিন লড়াই।
শুধু এই ঘটনাই নয়, দোলন রায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কোভিড-১৯-এর পর থেকে কিছু কিছু জায়গায় অন্তত ফার্স্ট এইড বক্স রাখা হচ্ছে। কিন্তু আগে সেই ন্যূনতম ব্যবস্থাটুকুও থাকত না। অর্থাৎ, কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে সঠিক চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যেত না। এই সমস্ত অভিজ্ঞতা সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠছে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে কি যথেষ্ট ভাবা হচ্ছে? নাকি এখনও অনেক কিছু বদলানো বাকি, যা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে?






