“আমায় অন্ত’র্বাস খুলে দেখাতে হয়েছে ওদের” “আমার বিয়ের গয়না আত্মসাৎ করে, আমাকেই চোর প্রমাণ করতে চায়” শ্বশুরবাড়িতে ফের পাইলট স্বামী প্রবাহর দ্বারা হেন’স্থার অভিযোগে সরব দেবলীনা নন্দী! নিজের জিনিস ফেরত আনতে গিয়ে চরম আপত্তিকর পরিস্থিতির শি’কার গায়িকা!

জনপ্রিয় নেটপ্রভাবী তথা গায়িকা ‘দেবলীনা নন্দী’ (Debolina Nandy) এবং তাঁর স্বামী পাইলট ‘প্রবাহ নন্দী’র (Prabaha Nandy) দাম্পত্য জীবন এখন কার্যত ভাঙনের মুখে। আইনি বিচ্ছেদের পথে এগোচ্ছেন দুজনেই। বছরের শুরুতেই গায়িকার আ’ত্মহ’ত্যার চেষ্টা ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল সামাজিক মাধ্যমে। হাসপাতাল থেকে ফিরে আসার পর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে বলে জানা যায়। এরপর রাজারহাটের ফ্ল্যাট ছেড়ে নিজের বাপের বাড়িতে চলে যান দেবলীনা। সম্প্রতি নিজের জিনিসপত্র ফেরত আনতে গিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যে পরিস্থিতির মুখে পড়েন, তা নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি।

পুলিশের উপস্থিতিতে জিনিসপত্র উদ্ধার করলেও অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গায়িকা। গত চার মাস ধরে অনেক চেষ্টা করেও নিজের জিনিস ফেরত পাননি বলে কিছুদিন আগেই অভিযোগ করেছিলেন দেবলীনা। তারপর একটি ভিডিওতে তার মাও ক্ষোভ উগরে দিয়েছিল। গত বুধবার চন্দননগরের শ্বশুরবাড়িতে পুলিশ নিয়ে উপস্থিত হন দেবলীনা নন্দী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দিদিও। আইনি প্রক্রিয়া মেনে নিজের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ফেরত নিতে যান তিনি। পরে একটি ভিডিও বার্তায় পুরো ঘটনার কথা জানান গায়িকা। সেখানে তিনি বলেন, সব জিনিস তিনি ফেরত পাননি।

বিশেষ করে বিয়ের সময় শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে দেওয়া সোনার হার ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি জানিয়েছিলেন যে কোনও গয়না বিয়ের পরে তিনি পরতে পারেননি, কারণ ব্যক্তিগত স্বার্থে তার সব গয়না বন্ধক দিয়ে দিয়েছিল শ্বশুরবাড়ির লোকেরা, তাও তাকে না জানিয়ে! এদিন এইসব গয়না ছাড়াও, পাশাপাশি নিজের কেনা কিছু আসবাবপত্রও সেখানে রয়ে গেছে বলে জানান দেবলীনা। পুরো প্রক্রিয়াটি যে সহজ ছিল না, তা-ও স্পষ্ট করেন তিনি।

দেবলীনার অভিযোগ অনুযায়ী, জিনিসপত্র হস্তান্তরের সময় তাঁকে মানসিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে দাবি করেন তিনি। বিশেষ করে একটি ব্যাগ নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। তাঁর কথায়, সেই ব্যাগে শুধু তাঁর অন্তর্বাস ছিল। তবুও পরিবারের সদস্যরা জোর দেন ব্যাগটি খুলে দেখাতে হবে। এই ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁকে বাধ্য করা হয় নিজের ব্যক্তিগত জিনিস দেখাতে। পরিস্থিতি নিয়ে তিনি গভীর অপমানবোধ করেছেন বলে জানান।

এই প্রসঙ্গে দেবলীনা আরও বলেন, “আমাকে অন্তর্বাস খুলে খুলে দেখাতে হয়েছে ওদের। আমার দেওর, আমি নিজের ভাই মনে করতাম, মুখ টিপে হাসছিল এইসব দেখে!” এই ঘটনার পর তিনি প্রশ্ন তোলেন, আসল হেনস্থার শিকার কে হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে তিনি জিনিসপত্র ফেরত নিতে সক্ষম হন। তবে পুরো অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে আঘাত দিয়েছে বলে জানান গায়িকা।

আরও পড়ুনঃ “ভারতবর্ষে অভিনেত্রী হওয়ার জন্য যা লাগে, তার কিছুই আমার নেই, ছোট চোখ, বোঁচা নাক” জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রীর আত্মসমালোচনায় অবাক নেটপাড়া! নিজেকে নিয়ে কেন এমন মন্তব্য করলেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী? চেহারা নিয়ে কি আক্ষেপ রয়েছে তাঁর?

এর আগেও দেবলীনা জানিয়েছিলেন, শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের প্রাপ্য জিনিসপত্র পেতে সমস্যা হচ্ছিল। এমনকি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। রাজারহাটের ফ্ল্যাট থেকে কিছু জিনিস উদ্ধার করতে পারলেও চন্দননগরের বাড়ির জিনিস আটকে ছিল বলে দাবি করেন তিনি। বছর দেড়েক আগে বিয়ে হওয়া এই দম্পতির সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও জটিল হয়েছে বলে জানা যায়। অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া ও পুলিশের সাহায্যে নিজের জিনিসপত্র ফেরত পেলেও, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্ষোভ থেকেই গেল গায়িকার।

You cannot copy content of this page