প্রয়াত কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোসলে! ৯২ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগে, সঙ্গীত জগতের এক যুগের সমাপ্তি!

ভারতের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোসলে আর আমাদের মধ্যে নেই। ৯২ বছর বয়সে তিনি প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যু সঙ্গীত জগতের এক অমোঘ শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ না থাকলেও, শনিবার সন্ধ্যায় আচমকা তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। প্রথমে কিছু শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেন, পরে তাঁর হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সঙ্গীতপ্রেমী থেকে শুরু করে নানা মহলের মানুষ শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েন।

রবিবার সকালে তাঁর নাতনি, জ়নাই ভোসলে, এক সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। সেখানে তিনি জানান, আশা ভোসলে বেশ ক্লান্ত অনুভব করছেন এবং তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছে, যার কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি অনুরোধ করেন, এই সময়টায় সবাই যেন তাঁদের একান্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে। আশার পরিবারের সদস্যরা তখনো আশা করেছিলেন, শিল্পী খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আশা ভোসলের মৃত্যুতে সঙ্গীত জগতের এক যুগ শেষ হল। তিনি দীর্ঘ বছরের সঙ্গীত জীবনে ভারতের বিভিন্ন ভাষায় হাজার হাজার গান গেয়েছেন। তাঁর গানে মুগ্ধ হয়েছে কোটি কোটি মানুষ। ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘এক পরদেশী মেরা দিল লে গয়া’, ‘তুমসে মিলকে’ এবং ‘আজি রত নে’, এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গান এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। প্রতিটি গান যেন এক একটি জীবন্ত স্মৃতি হয়ে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে।

এ ছাড়া, আশা ভোসলে পেয়েছেন নানা পুরস্কারও। ২০০৮ সালে তিনি পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হন, ১৯৯৭ সালে গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন এবং দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারও পেয়েছেন। তাঁর সঙ্গীত যাত্রার দীর্ঘ সময় জুড়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে তিনি শুধু একটি দেশের সঙ্গীত শিল্পী নন, তিনি ছিলেন এক আন্তর্জাতিক মাপের গায়ক। তাঁর অসীম কৃতিত্ব সঙ্গীতের অনন্য ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন: “রাস্তার মাঝে পুরুষ পুলিশকর্মীরা আমার অন্ত’র্বাস ও স্যানি’টারি ন্যাপ’কিন সব ফেলে…” মধ্যরাতে নাকা চেকিংয়ে হেন’স্থার অভিযোগ শ্রীময়ী চট্টরাজের! ‘বিধ্বস্ত’ অবস্থায় ভিডিও করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ কাঞ্চন পত্নীর!

 

আশা ভোসলের প্রয়াণে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে ভারতীয় সঙ্গীত জগতে। তবে তাঁর গানগুলো, তাঁর কণ্ঠের অসাধারণতা ও সঙ্গীতের প্রতি গভীর ভালোবাসা আমাদের কাছে চিরকাল থাকবে। সঙ্গীতপ্রেমীরা তার গাওয়া প্রতিটি গানকে মেনে চলবেন, যেন তিনি এখনও জীবিত। তাঁর পরিবার এবং অনুরাগীদের প্রতি সমবেদনা জানাই। সঙ্গীতের এই কিংবদন্তি রূপে চিরকাল মনে থাকবে।

You cannot copy content of this page