পর্দার প্রিয় মুখ হঠাৎ যখন রাজনীতির মঞ্চে উঠে আসেন, তখন দর্শকের প্রতিক্রিয়া সবসময় একরকম থাকে না। কেউ সমর্থন করেন, কেউ আবার প্রশ্ন তোলেন এই বদলের কারণ কী? দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের মাধ্যমে যাঁরা মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, তাঁদের নিয়ে মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেশি থাকে। তাই সেই পরিচিত মুখ যখন রাজনৈতিক প্রচারে নামেন, তখন আবেগ আর মতামতের মিশেলে তৈরি হয় নতুন বিতর্ক। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই জোরকদমে শুরু হয়েছে প্রচার।
উত্তর কলকাতার মানিকতলা কেন্দ্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ১১ এপ্রিল, শনিবার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পাণ্ডের সমর্থনে আয়োজিত হয় একটি বড় মিছিল ও রোড-শো। এই কর্মসূচিতে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। আর সেই মিছিলে প্রার্থীর পাশে দেখা যায় টলিউডের পরিচিত মুখ কোয়েল মল্লিককে। শ্রেয়া পাণ্ডে শুধু একজন প্রার্থী নন, তিনি প্রয়াত মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের কন্যা। ফলে এই কেন্দ্রের সঙ্গে তাঁর আবেগের যোগও রয়েছে। সেই কারণেই তাঁর প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মিছিলে কোয়েল মল্লিকের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।
সাধারণ মানুষও তাঁর ঝলক দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন। তবে মিছিলের উত্তেজনার মাঝেই অন্য ছবি ধরা পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কোয়েল মল্লিককে ঘিরে শুরু হয়েছে কটাক্ষ। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন তিনি রাজনীতিতে এলেন? কেউ কেউ সরাসরি মন্তব্য করেছেন “আগে কোয়েলকে পছন্দ করতাম, কিন্তু এখন আর না।” “আচ্ছা বলুন তো একে জিতিয়ে কি করবেন ? এ হাত নাড়ানো ছাড়া আর কোন কাজই করবে না। দেব যেমন কাজের লোক স্পষ্ট বক্তা, কাজ করে। কিন্তু এরা তো কিছুই করবে না।
যেমন মিমি করেনি নুসরাত করেনি সায়ন্তিকা করেনি এও করবে না।” এই ধরনের প্রতিক্রিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, অভিনেত্রীর রাজনৈতিক উপস্থিতি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে নিজের আচরণ, কাজ আর ব্যক্তিত্ব দিয়ে দর্শকের মন জয় করেছেন। সেই জায়গা থেকেই হঠাৎ রাজনীতির ময়দানে নামা অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত লেগেছে। ফলে তৈরি হয়েছে দ্বন্দ্ব, একদিকে প্রিয় অভিনেত্রী, অন্যদিকে রাজনৈতিক পরিচয়। এই ঘটনার পর আবারও সেই পুরনো প্রশ্ন সামনে এসেছে তারকারা যখন রাজনীতিতে নামেন, তখন কি তাঁদের আগের ইমেজ ধরে রাখা সম্ভব, নাকি নতুন পরিচয়ই বদলে দেয় সব সমীকরণ?






