আজ, রবিবার শিল্পী সংগঠনগুলোর মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে গেল টলিউড টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে। যেখানে শিল্পীদের নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির মৃত্যুর পর কলাকুশলী এবং টেকনিশিয়ানদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ফেডারেশন, ইম্পা, আর্টিস্ট ফোরাম এবং প্রযোজক-চ্যানেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়। এই বৈঠকেই ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি এবং দেবের মধ্যে কিছু উত্তপ্ত আলোচনা হয়। দেব জানান, “৭২ ঘণ্টায় যারা ব্যান হয়ে আছেন তারা কাজে ফিরে আসবে, এবং প্রসেনজিৎদা তাঁদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাবেন।”
এদিন মিটিং শেষে দেব সমাজমাধ্যমে প্রসেনজিৎকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। এমনকি, নিজের ছবি ‘দেশু ৭’-এ অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে সুযোগ দিয়ে তিনি বেশ আলোচনায় আসেন। এই নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, “আমার সঙ্গে দেবের প্রায় প্রতিদিনই কথা হয়, কিন্তু আমি কখনোই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কাউকে সিদ্ধান্ত নিতে বলিনি।” প্রসেনজিৎ আরও বলেন, “রাহুলের মৃত্যুর পর যে মিটিং হয়েছিল, সেখানে দেব যখন ব্যান কালচারের কথা তোলে, আমি তখন বলেছিলাম, ‘এটা এখন সময় নয়, কয়েকদিন অপেক্ষা করি।'”
এদিন প্রসেনজিৎ সাফ জানিয়ে দেন, “সমাজমাধ্যমে পোস্ট করার আগে দেবের উচিত ছিল আমার অনুমতি নেওয়া।” তিনি বলেন, “আমার জন্য এটা অত্যন্ত খারাপ লেগেছে। যেহেতু আমাদের আর্টিস্ট ফোরামের কাজ হল শিল্পীদের কল্যাণ এবং সমস্যা সমাধান করা, তাই এই বিষয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল। আমি নিজে কখনো কোনো শিল্পীকে ব্যান করতে চাইনি, কারণ আমরা শুধু শাস্তি দিতে পারি, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী নয়।” প্রসেনজিৎ আরও বলেন, “আর্টিস্ট ফোরাম বা আমাদের দলের পক্ষ থেকে কখনো কাউকে নিষিদ্ধ করা হয়নি, আমরা শুধু নিয়ম ভাঙলে সাময়িক সাসপেন্ড করতে পারি।”
আরও পড়ুনঃ “আমার কণ্ঠ চলে গেল আজীবনের মতো” “উনি আমার জীবনের অমূল্য উপহার” আশা ভোঁসলে না থাকলে দেবশ্রী রায় হতে পারতাম না, সুরসম্রাজ্ঞীর প্রয়াণে আবেগঘন স্মৃতিচারণে অভিনেত্রী!
তিনি দেবের কাজের প্রতি কোনো বিরোধিতা করেননি, বরং তার কাজে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “অনির্বাণকে দেব তার ছবিতে কাজ দেওয়ায় আমি কিছুতেই বিরোধী হতে পারি না। তবে এক সময়, আমার পুজোর ছবির শুটিংও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সে সময় একটি নিয়ম মেনে চলতে হয়েছিল।” প্রসেনজিৎ আরও বলেন, “আমরা সবাই পরিবার। কিছু সিদ্ধান্ত একা নেওয়া সম্ভব নয়, সবাইকে নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এমনভাবে কাজ চলবে না যে, কেউ বলবে ‘এটা হবে’। আমাদের দলবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
শেষে প্রসেনজিৎ জানান, তিনি দেবের বিরুদ্ধে কোনো ক্ষোভ পোষণ করেন না। “দেবের সাথে কোনও রাগ নেই, আমি সবসময় তার কাজের প্রশংসা করি। তবে, আমি মনে করি, কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। কাজ না করলে, বসিয়ে দেওয়া যাবে না, কিন্তু নিষিদ্ধও করা যাবে না।” তিনি আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে বলেন, “আমরা সবার মতামত নিয়ে কাজ করতে চাই এবং শিল্পী সমাজের কল্যাণে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”






