রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর ১৪ দিন কেটে গেছে। ৭ এপ্রিল আর্টিস্ট ফোরাম ও ফেডারেশন সদস্যরা টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় প্রথম বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা, কলাকুশলী এবং প্রযোজকরা। বৈঠকে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল শিল্পীদের নিরাপত্তা। এক সপ্তাহ পর ফের বৈঠক হয় এবং সেখানেও এই বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, ভরত কল সহ আরও অনেক শিল্পী। প্রসেনজিৎ জানালেন, অভিনেতা ও কলাকুশলীরা ভোট দিয়ে নির্ধারণ করেছেন, তারা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ প্রযোজনা সংস্থার দুই কর্ণধারের সঙ্গে কাজ করতে চান কিনা। এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ শিল্পী কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন, কারণ রাহুলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তারা আতঙ্কিত।
প্রসেনজিৎ আরও জানান, আর্টিস্ট ফোরামের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রযোজক জুটির বিরুদ্ধে যদি কেউ কাজ করতে চান, তাতে কোনো বাধা নেই। তবে, যতদিন না তারা নির্দোষ প্রমাণিত হচ্ছে, ততদিন তাদের সঙ্গে কাজ করতে রাজি হচ্ছেন না অধিকাংশ শিল্পী। এই পরিস্থিতিতে, টলিউডে এখনো কোনো ধরনের ‘ব্যান’ বা ‘বয়কট’ করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও সেটা হবে না, এমনটাই জানিয়েছেন প্রসেনজিৎ। তবে, কিছু ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষত, ‘চিরসখা’ এবং ‘কনে দেখা আলো’-র মত সিরিয়ালের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, কারণ এই দুটি সিরিয়ালের প্রযোজক সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’।
এই বিষয়ে প্রসেনজিৎ বলেন, “যতদিন না ওই প্রযোজক জুটি নিজেদের নির্দোষ প্রমাণিত করতে পারছেন, ততদিন নতুন কাজ বা এই ধারাবাহিকগুলোর সম্প্রচার কার্যত বন্ধ হতে পারে।” তবে তিনি এও বলেন যে, প্রযোজনা সংস্থার পরিবর্তন হলে, এই ধারাবাহিকগুলোর ভবিষ্যত আরও আশাপ্রদ হতে পারে। তার মানে, যদি প্রযোজনা সংস্থা অন্য কোনও হাতে চলে যায়, তবে সিরিয়ালগুলোর সম্প্রচার অব্যাহত রাখা সম্ভব হতে পারে। প্রসেনজিৎ আরও জানান, ইতিমধ্যে ওই দুটি ধারাবাহিকের অভিনেতারা আর্টিস্ট ফোরামের সঙ্গে এই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তা নিয়ে সংগঠন চিন্তাভাবনা করছে।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় আরও বলেন, শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নতুন আদর্শ পরিচালন পদ্ধতি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) তৈরি করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শিল্পী-কলাকুশলীদের কাজের পরিবেশ আরও নিরাপদ হতে পারে। তবে, তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, আর্টিস্ট ফোরাম কাউকেই কাজ দিতে বাধ্য নয়। তারা শুধু নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারে এবং সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে। এটা স্পষ্ট যে, টলিউডের শিল্পী-কলাকুশলীরা বর্তমানে একত্রিত হয়ে এই সমস্যার সমাধান চাচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।
আরও পড়ুন: “ফেলুদা হওয়া তো আর এই জন্মে হলো না” বাবা সব্যসাচী চক্রবর্তী, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পর সেরা ফেলুদা! তাঁরই ছেলে হয়েও, কেন সেই চরিত্রে অভিনয় করা হলো না গৌরব চক্রবর্তীর? সফল ব্যোমকেশের পরও কোন অপূর্ণতার আক্ষেপ প্রকাশ অভিনেতার?
এদিকে, ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর প্রযোজক জুটি লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী করার পাশাপাশি শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। সম্প্রতি প্রিয়াঙ্কা সরকার, রাহুলের স্ত্রী, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে এখনো রাহুলের মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হয়নি। এই ঘটনায় টলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং শিল্পীরা নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে এগিয়ে আসছেন।






