ফের মানবিকতার নজির গড়লেন দেব! হঠাৎ শারীরিক অবনতি, জরুরিকালীন চিকিৎসায় সাহায্য করে এক টেকনিশিয়ানের স্ত্রীয়ের জীবন বাঁচালেন সাংসদ-অভিনেতা! টলিউডের মানবিক মুখকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসার ঢেউ!  

টলিউডে কাজের ব্যস্ততা, রাজনীতির দায়িত্ব, সবকিছুর মাঝেও মানবিকতার এক আলাদা দৃষ্টান্ত গড়ে চলেছেন দেব। পর্দার বাইরেও যে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়াতে জানেন, তার আরও এক প্রমাণ পাওয়া গেল টলিউড ইন্ডাস্ট্রির ভেতর থেকে। এক টেকনিশিয়ান পরিবারের কঠিন সময়ে তাঁর হস্তক্ষেপ যেন শুধু সমস্যার সমাধানই নয়, নতুন করে ভরসা জোগাল গোটা ইন্ডাস্ট্রিকেই।

ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন সিনেমাটোগ্রাফার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য রানা দাসগুপ্ত। হঠাৎ করেই তাঁর স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু সেই সময় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের অভাব। সরকারি এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের সুবিধা পেলে চিকিৎসার বড় অংশটাই সামাল দেওয়া সম্ভব, কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতায় কার্ড হাতে পেতে দেরি হচ্ছিল। সেই দেরিই ক্রমশ বাড়িয়ে দিচ্ছিল উদ্বেগ।

ঠিক এই পরিস্থিতিতেই সামনে আসেন দেব। কয়েকদিন আগেই টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে তিনি স্বাস্থ্যসাথী কার্ড তৈরির একটি বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করেছিলেন, যেখানে বহু টেকনিশিয়ান এই সুবিধা পান। সেই উদ্যোগের মধ্যেই রানা দাসগুপ্তর সমস্যার কথা তাঁর কানে পৌঁছয়। আর দেরি না করে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি দেখেন এবং দ্রুত রানা দাসগুপ্তর স্ত্রীর জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ব্যবস্থা করে দেন।

আরও পড়ুনঃ “মেয়েদের নির্যা’তিতা হিসেবে দেখানো হলে, সেই ধারাবাহিকের টিআরপি বেশি” “ক্ষমতার নিরিখে পিছিয়ে, অনেকে মেয়েদের সুযোগ নিতে চায়” টলিউডে এখনও পুরুষতন্ত্রের ছাপ? লড়াই করেই জমি নিতে হয় নায়িকাদের, কী বলছেন অপরাজিতা আঢ্য, রূপঞ্জনা ও ঊষসী?

এর ফলে পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। আর সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হয় রোগীকে। চিকিৎসকেরা দ্রুত অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন এবং তা সফলভাবেই সম্পন্ন হয়। বর্তমানে রানা দাসগুপ্তর স্ত্রী অনেকটাই সুস্থ। পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়াই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের আওতায় হওয়ায় আর্থিক দিক থেকেও বড় চাপ পড়েনি পরিবারের উপর, যা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় স্বস্তি।

এই অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রানা দাসগুপ্ত। তিনি প্রকাশ্যে দেব ও তাঁর টিমকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, এমন সুবিধা যেন প্রতিটি টেকনিশিয়ান পায়, সেটাই তাঁর কামনা। তাঁর কথায়, বিপদ কখনও জানিয়ে আসে না তাই এই ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়ানো জরুরি। আর এই ঘটনার পর আবারও স্পষ্ট হল, তারকা পরিচয়ের বাইরেও দেব একজন সংবেদনশীল মানুষ, যিনি প্রয়োজনে নীরবে পাশে দাঁড়াতে জানেন।

You cannot copy content of this page