বাংলাদেশের রাজনীতিতে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের কথা ঘুরপাক খাচ্ছে, কিন্তু আমাদের দেশের বিনোদন জগতেও কি মহিলাদের ক্ষমতা নিয়ে যথেষ্ট পরিবর্তন হয়েছে? যখন মহিলারা মহাকাশে গবেষণা করে, কিংবা শৃঙ্গ জয় করতে পারে, তখন তারা কি সমান অধিকার পায় না সমাজে, এমনকি বিনোদন জগতেও? অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, টলিউডের মতো ছোট পরিসরের শিল্পেও কি পুরুষতন্ত্রের প্রকোপ নেই? সম্প্রতি, টলিউডের কয়েকজন পরিচিত অভিনেত্রী তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, এবং বলছেন, এখনও নারীদের জন্য অনেক বাধা রয়েছে।
অপরাজিতা আঢ্য, যিনি টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী, দীর্ঘ তিন দশক ধরে এই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানালেন, “টলিউডে মহিলাদের জন্য অনেক জায়গা ছিল, আর তখন চরিত্রগুলি তাদের জন্য ভিন্নভাবে লেখা হতো। তবে, এখন পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। পুরুষ-নারী উভয়ের জন্য ষড়যন্ত্র এবং রাজনীতি থাকলেও, মেয়েরা অনেক সময় নানা বৈষম্যের শিকার হয়। অনেক সময় এমনও হয়েছে, কিছু পুরুষের জন্য আমি কাজ থেকে বাদ পড়েছি।” অপরাজিতা আরো বলেন, “এটা অবশ্যই মেনে নিতে পারি না, তবে কী করতে পারি? আমার নিজের লড়াইটাই আমি চালিয়ে যাচ্ছি।”
আরও পড়ুনঃ “আমার স্বামীকে টার্গে’ট করা হয়েছিল…আমারও কিছু হয়ে যেতে পারে” ১৮ দিন ধরে নিখোঁজ, টলিউড পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়! অবশেষে বি’স্ফোরক তথ্য সামনে আনলেন স্ত্রী মৌপিয়া! সন্দেহের তির কাদের দিকে?
রূপাঞ্জনা মিত্র, বাংলা টেলিভিশন এবং সিনেমার পরিচিত মুখ, এই প্রসঙ্গে বলেন, “মহিলাদের ক্ষমতা দিতে সমাজই ভয় পায়।” তিনি বলেন, “এটা শুধু টলিউডের সমস্যা নয়, সমাজে তো নারীদের জন্য সমান অধিকার দেওয়া হয় না।” রূপাঞ্জনা জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনি ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে ঘটে যাওয়া বৈষম্য দেখে নিশ্চয়ই অসন্তুষ্ট, তবে তার মতে, নারীদের লড়াই একেবারে ব্যক্তিগত। তিনি মনে করেন, “যে কোনও পেশায় নারীদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করতে হলে, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়।”
ঊষসী চক্রবর্তী, বামপন্থী আদর্শের একাধিক অভিনয় কাজ করা অভিনেত্রী, বলেন, “সমাজেই যদি পুরুষ-নারী সমান না হয়, তাহলে ইন্ডাস্ট্রিতে এর প্রভাব পড়বেই।” তিনি জানান, “কিন্তু আমি কখনও মনে করিনি যে, পুরুষদের কারণে কোনো লিঙ্গগত বৈষম্যের শিকার হয়েছি। তবে, কিছু ক্ষেত্রে নারীদের নির্যাতিত চরিত্রে দেখানো হলে টিআরপি বেড়ে যায়, এটা যেন একটা ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।” ঊষসী আরো বলেন, “এটা মানতেই হবে, বেশিরভাগ ধারাবাহিকেই ‘ফিমেল ডমিনেটেড’ চরিত্র থাকে। যদিও আমি মূলধারার ছবিতে কাজ করিনি, তবে টেলিভিশন খুবই গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।”
তিন অভিনেত্রীই উল্লেখ করেছেন যে, টলিউডে নারীদের জন্য একদিকে অনেক সুযোগ এবং সম্মান রয়েছে, তবে অন্যদিকে অনেক সময় পুরুষতন্ত্র তাদের পথপ্রদর্শক হয়ে দাঁড়ায়। তারা প্রত্যেকেই তাদের জায়গা তৈরি করতে কঠোর লড়াইয়ের কথা জানিয়েছেন, যা সাধারণত পুরুষদের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে থাকে। অপরাজিতা আঢ্য এবং রূপাঞ্জনা মিত্রের মতো অভিজ্ঞ অভিনেত্রীদের মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের জন্য আরও কাজ করতে হবে, যাতে তাদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা যায়।
শেষে, এই তিন অভিনেত্রী একযোগে বলেন, যে যতদিন পর্যন্ত সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত টলিউড বা অন্য কোনো ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে নারীরা পুরুষদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। তারা নিজ নিজ জায়গা থেকে সঠিক পরিবর্তন আনতে চান, যদিও তাদের লড়াই একান্তই ব্যক্তিগত। তবে, এই পরিবর্তন পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে কার্যকর হওয়ার জন্য সময় লাগবে, এমনটাই তাদের বিশ্বাস।






