থিয়েটার জগতের এক অমূল্য রত্ন হারালেন। সম্রাট ঘটক, দীর্ঘ ২৫ বছরের নাট্যসঙ্গী, চলে গেলেন আমাদের মাঝে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী এবং নাট্যকার ব্রাত্য বসু শোকস্তব্ধ। নাট্যদুনিয়ার এই শোকাবহ মুহূর্তে ব্রাত্য বসু সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে এক হৃদয়স্পর্শী চিঠি লিখেছেন, যেখানে তিনি নিজের দীর্ঘ বন্ধুত্ব ও সম্রাটের সঙ্গে কাটানো অমূল্য সময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন। ব্রাত্য জানালেন, সম্রাট ঘটক শুধু তার মঞ্চের সহযোদ্ধা ছিল না, বরং এক আবেগী বন্ধু, যার স্মৃতি আজীবন তার মধ্যে বেঁচে থাকবে।
ব্রাত্য বসু তার চিঠিতে লেখেন, “সম্রাট ছিল মৃদুভাষী, নম্র এবং সজ্জন। তবে তার মধ্যে এক অদ্ভুত নৈরাজ্যবাদও ছিল। তার চরিত্রে ছিল এক ধরনের অলৌকিক সংবেদন, যা তাকে অবশেষে একধরনের বিচ্ছিন্নতা ও নিঃসঙ্গতার দিকে ঠেলে দিয়েছিল।” ব্রাত্য আরও বলেন, সম্রাট ছিল অদ্ভুত এক মানসিক গভীরতার অধিকারী। তার চিন্তাধারা এবং জীবনবোধ তাকে মঞ্চে অনন্য করে তুলেছিল। সম্রাটের অভিনয় শুধু চরিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, তিনি তার প্রতিটি চরিত্রের মাধ্যমে নিজের এক টুকরো জীবনকে প্রকাশ করতেন।
আরও পড়ুনঃ ৪০ বছর পর প্রকাশ্যে এল, উত্তম কুমারের জীবনের সেই চাপা সত্যি! পর্দার মহানায়ক নন, বাস্তবের ‘অদেখা’ উত্তম কুমার! কী কারণে এতদিন এত ‘বড় কথাটা’ মানুষের চোখের আড়ালে রাখা হয়েছিল? জানলে চমকে যাবেন!
“ব্রাত্যজন” মঞ্চে সম্রাটের উপস্থিতি ছিল অবিচ্ছেদ্য। তার অভিনয়ে ছিল এক ধরনের জাদু, যা দর্শকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলত। ব্রাত্য তার লেখায় উল্লেখ করেছেন, সম্রাট বিভিন্ন নাটকে যেমন “শহর ইয়ার”, “হেমলাট”, “কৃষ্ণগহ্বর” এবং “রুদ্ধসঙ্গীত”-এ অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। শুধু মঞ্চেই নয়, ব্রাত্য পরিচালিত ছবিতে যেমন “তারা”, সেখানে সম্রাটের অভিনয় ছিল অবিস্মরণীয়। ব্রাত্য জানালেন, সম্রাটের সাথে একসঙ্গে পৃথিবীর নানা প্রান্তে নাট্যসঙ্গী হয়ে তারা অভিনয় করেছেন, যেমন দিল্লি, লন্ডন, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।
প্রিয় বন্ধু সম্রাটের মৃত্যুতে ব্রাত্য বসু নিজের শোককে মঞ্চে তুলে ধরার পাশাপাশি, সম্রাটের কাজ ও অবদান নিয়ে একটি গভীর উপলব্ধি প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আমার ভেতরে বহু বন্ধু মারা গেছেন, কিন্তু সম্রাট, তোমার মতো এমন এক বন্ধু, যার স্মৃতি কখনও মুছে যাবে না। তুমি সবসময় আমার ভেতরে বেঁচে থাকবে, তোমার সেই হাসিমুখ, তোমার সেই আত্মবিশ্বাসী চরিত্র।” শোকের এই মুহূর্তে, ব্রাত্য বসু জানালেন যে সম্রাটের প্রতি তার এই গভীর শ্রদ্ধা কখনোই ম্লান হবে না।
ব্রাত্য বসু আরও বলেন, “সম্রাটের অভিনয় শুধুমাত্র নাটকের দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, তার ব্যক্তিত্বের ভেতরেও ছিল এক গভীর কৌতুকবোধ, যা তার অভিনয়কে আরও বিশেষ করে তুলেছিল।” সম্রাট ছিল এক জীবন্ত মঞ্চ, যার চিরস্থায়ী স্থান ব্রাত্যজনের মঞ্চে এবং সবার হৃদয়ে থাকবে। বন্ধুর শোক কাটিয়ে, ব্রাত্য বসু তার লেখায় জানিয়েছেন, সম্রাট আজীবন তার সাথে থাকবে, কোনো এক অপরিচিত আলো ও অন্ধকারের মধ্যে।






