বুধবার সকালে সংবাদ মাধ্যমের ফোনে প্রথম জানাতে পারেন তিনি, কৃষ্ণনগর আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। শ্রীজাতর (Srijato) কথায়, খবরটা শুনে আমি বেশ অবাক হয়ে গিয়েছিলাম, কারণ কোন ঘটনা বা কারণে এমন কিছু ঘটতে পারে, তা ভাবতেই পারছিলাম না। তখনই আমার মনে এ প্রশ্নও জেগেছিল, খবরটা সত্যি কি না। কারণ, থানার পক্ষ থেকে তখনো আমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ হয়নি। তবে, একাধিক ফোনকলের পর আমি নিশ্চিত হয়ে যাই যে, এ খবরটা সত্যি। বর্তমানে আঞ্চলিক থানার কাছে পরোয়ানা পৌঁছানোর অপেক্ষায় আছি। সুতরাং, এখন গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি কোনো সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়।
এটা অত্যন্ত বিস্ময়কর যে, ২০১৯ সালে একটি মামলার ভিত্তিতে ২০২৬ সালে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে। ওই সময় থেকে এতটা দেরি হয়ে গেলেও, পরোয়ানার খবর এসে পৌঁছেছে। এমনকি, চলতি বছরের শুরুতেই কৃষ্ণনগর আদালত থেকে সমন এসেছিল, তবে আমি বা আমার পরিবার এ বিষয়ে অবগত ছিলাম না। এমন কোনো সমন আমাদের হাতে আসেনি, যা আমরা গুরুত্ব দিতাম। একে একে ঘটনার নানা দিক খোলসা হওয়ার পর, আমি বুঝতে পারছি যে, এটি একটি পুরনো মামলার অংশ। তবে, যেভাবে সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে বিষয়টি প্রচারিত হয়েছে, তা নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনও এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য দিয়েছে। তারা দাবি করেছে, গ্রেফতারি পরোয়ানার খবর ভুয়ো। তবে, এই ধরনের তথ্য প্রকাশের পর, আমি নিজে থেকে কেন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করব, সে বিষয়টি পরিষ্কার নয়। আসলে, আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যখন খবরটি ভাইরাল হয়ে গেছে, তখন নির্বাচন কমিশন কেন এত দ্রুত এই মন্তব্য করল। এতে এক ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে, যা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে আরো জটিল করে তুলতে পারে। নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে যে কোনো সদর্থক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, জনমনে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
বিভ্রান্তির পরিপ্রেক্ষিতে, পরিবারেও আজ একটা অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় নয় বছর আগে, আমার একটি লেখার কারণে সারা দেশে উত্তাল পরিস্থিতি হয়েছিল। সেই সময়ও আমরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলাম। এই নতুন ঘটনা যেন ওই পুরনো অধ্যায়েরই একটা নতুন পর্ব। হয়তো এই মামলাও আমার কোনো লেখা সংক্রান্ত হতে পারে। একদিকে যেমন প্রমাণিত হতে পারে, এটি একটি পুরনো কাব্যগ্রন্থের প্রভাব, অন্যদিকে মনে হচ্ছে, রাষ্ট্র এত বছর পরেও আমাদের কবিতার ছায়া থেকে বের হতে পারছে না। এটি বিশেষভাবে আমাকে ভাবাচ্ছে, এবং আমার মনে একটা গভীর প্রশ্ন সৃষ্টি করছে।
আরও পড়ুনঃ “আমি ইচ্ছে করেই ভোটটা নষ্ট করেছি…ভোট দিয়ে কিচ্ছু হবে না, গণঅভ্যুত্থানের বিপ্লব দরকার” ছাত্রজীবনে নকশা’লপন্থী মনোভাব থেকে প্রথম নির্বাচনে যোগ দিয়েই ভোটের গুরুত্ব বোঝা, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে স্মৃতির পাতা উল্টালেন কবীর সুমন!
সবশেষে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমার কাছে একটি প্রশ্ন রয়ে গেছে। যদি রাষ্ট্র এমনভাবে কবিদের প্রতি আচরণ করে, তাহলে কি আমাদের রাষ্ট্র আদর্শ রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? প্লেটো বলেছিলেন, আদর্শ রাষ্ট্রে কবির স্থান নেই। তার কথায় যদি বিশ্বাস করি, তাহলে আমাদের সমাজ কি আদর্শ রাষ্ট্রের দিকে চলতে শুরু করেছে? এটি শুধু আমার নয়, সবার ভাবনা হওয়ার মতো একটি বিষয়।






