“আমি তো আর বাবার মতো রাফ অ্যান্ড টাফ হতে পারিনি…যতই ভালো কাজ করি না কেন, সব সময় তুলনা আসবেই” ফেলুদা নয়, ব্যোমকেশ হয়েও বাবা সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে তুলনা মেনে নিতে হয়? আক্ষেপ রয়ে গেছে গৌরব চক্রবর্তীর?

টেলিভিশনের পরিচিত মুখ গৌরব চক্রবর্তী সম্প্রতি মনের এবং অজানা অনেক ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্রে তার কাজ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “যখন পরিচালক অরিত্র সেন আমাকে ব্যোমকেশের চরিত্রে অভিনয় করার প্রস্তাব দেন, তখন আমি একটু চিন্তিত ছিলাম। আমি তাকে বলেছিলাম, কেন আমি আবার এই চরিত্রে অভিনয় করব, সেটা আমাকে বোঝাতে হবে। কিন্তু পরে যখন তার সঙ্গে আলোচনা করি, তার দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। তিনি মূল গল্পটি নিয়ে একদম সরে যেতে চাননি, যা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছিল।”

গৌরব আরও যোগ করেছেন, “ব্যোমকেশের যে সব পুরোনো রূপগুলো ছিল, সেগুলো থেকে সরে গিয়ে নতুন কিছু করার পক্ষে আমি নই।” গৌরবের কাছে ফেলুদা চরিত্রটি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। তিনি একাধিকবার জানিয়েছেন, তার উচ্চতার কারণে কখনো এই চরিত্রের অফার পাননি, যদিও অনেকেই মনে করেন যে এই চরিত্রে তার অভিনয় করা উচিত ছিল। তবে তিনি নিজে বলেন, “এটা ঠিক যে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার ছিলেন না, তবুও তিনি ফেলুদা চরিত্রে অসাধারণ ছিলেন। মাঝে-মাঝে এই বিষয়ে মন খারাপ হলেও আমি বুঝতে পারি, হয়তো এটা ভালোই হয়েছে।

কারণ আমার বাবা ফেলুদা চরিত্রে এত সফলভাবে অভিনয় করেছেন, যে আমি যতই ভালো কাজ করি না কেন, সবসময় তুলনা চলে আসত। আর আমি বাবার মতো রাফ অ্যান্ড টাফ নই।” ফেলুদা চরিত্রের প্রস্তাব কখনো এলে গৌরব কি করবেন, সে বিষয়ে তার ভাষ্য ছিল, “যদি কখনো ফেলুদা চরিত্রে অভিনয়ের অফার আসে, তবে সেটা সত্যিই একটা বড় সিদ্ধান্ত হবে। আমি জানি না, তবে সম্ভবত সেই লোভ সামলাতে পারব না।” এছাড়াও, গৌরব সত্যবতী চরিত্রে ঋদ্ধিমা ঘোষের অভিনয় নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, “আমি গোটা এক বছর ঋদ্ধিমাকে সত্যবতী হিসেবে দেখেছি, আর আমি স্বীকার করি যে আমি তার প্রতি কিছুটা বায়াসড। সত্যবতী বললে, আমার মাথায় প্রথম যে নাম আসে, তা হল ঋদ্ধিমা।” বাংলা সিনেমার সেফ জোন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গৌরব বলেন, “এটা ঠিক যে, বাংলা ছবির নির্মাতারা রহস্যধর্মী গল্পগুলো বেশি করেন, আর দর্শকরাও এই ধরনের গল্প পছন্দ করেন। একটা সময় ছিল যখন ফেলুদা চরিত্রটা সিনেমায় আনার জন্য প্রযোজকরা খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। আমি নিজে সেই সময়টা দেখেছি। তবে যখন ঝুঁকি নিয়ে ফেলুদা ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ “যে অবস্থায় ওকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, তাতে…” হাসপাতালে ভর্তি সুদীপ সরকার, ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী অনিন্দিতা রায়চৌধুরী! শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়ানক ইনফে’কশন, যথেষ্ট গুরুতর জানিয়েছেন চিকিৎসকরা! এখন কী অবস্থা অভিনেতার?

তখন বক্স অফিসে একেবারে ঝড় উঠেছিল।” গৌরব মনে করেন, সেই সময়ের পর থেকেই রহস্যধর্মী সিনেমা তৈরির প্রতি আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর টালিগঞ্জের অনেকেই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। গৌরব এই বিষয়ে বলেন, “এটা এমন একটা বিষয়, যেটি আমরা কখনোই আশা করিনি। রাহুলদা ছিল আমার পরিবারের সদস্য। এখন যারা ন্যায়বিচারের দাবি করছেন, তাদের সঙ্গে আমি একমত। তবে, আসল বিষয় হলো, এই ঘটনার এত দিন পরেও প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বিবৃতি দেওয়া হয়নি। আমি শুধু চাই, যেন সঠিক ন্যায়বিচার পাওয়া যায়।”

You cannot copy content of this page