“আমি ইচ্ছে করেই ভোটটা নষ্ট করেছি…ভোট দিয়ে কিচ্ছু হবে না, গণঅভ্যুত্থানের বিপ্লব দরকার” ছাত্রজীবনে নকশা’লপন্থী মনোভাব থেকে প্রথম নির্বাচনে যোগ দিয়েই ভোটের গুরুত্ব বোঝা, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে স্মৃতির পাতা উল্টালেন কবীর সুমন!

আগামীকাল বাংলায় প্রথম দফা বিধানসভা নির্বাচন, আর ভোটও কিন্তু এক ধরেন পুজোই! সেই নিয়ে সবার কমবেশি স্মৃতি থেকেই, ঠিক তেমনই গায়ক ও গীতিকার কবীর সুমন (Kabir Suman) তাঁর ভোটের স্মৃতি ভাগ করলেন সম্প্রতি। আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভোটের স্মৃতি মনে পড়লে একের পর এক ঘটনা চলে আসে। সিপিআইয়ের বিখ্যাত স্লোগান “ভোট দেবেন কিসে, কাস্তে ধানের শিসে” মনে পড়ে। সে সময় যখন পাড়ার বড়রা এসব স্লোগান বলতেন, ছোটরা তাদের পিছু নিতো। কবীর সুমনের মতে, এমন স্লোগানগুলো ছিল খুব আকর্ষণীয়।

এর মধ্যে এক ধরনের আবেগ ছিল, যা তাকে অনেক সময় ভাবিয়ে তোলে। কবীর সুমন আরও বলেন, তার জীবনে প্রথম ভোট দেওয়ার সময়টা ছিল বেশ অস্বস্তিকর। তিনি যখন প্রথম ভোট দিতে যান, তখন প্রবল চেঁচামেচি ও ধাক্কাধাক্কি ছিল বুথের সামনে। এতটাই উত্তেজনা ছিল, যে তিনি ভোট দিতে না গিয়ে ফিরে আসেন। তবে, সেই সময়ের ভোট নিয়ে তার একটা বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। তাঁর মনে হতো, ভোটের মাধ্যমে কখনও কোনো পরিবর্তন হবে না। বিপ্লবের ওপর তার বিশ্বাস ছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে সেই দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা পরিবর্তিত হয়।

তবে তখনও তিনি নির্বাচনে অংশ নিতেন না। তার পরিবারে রাজনীতি নিয়ে সবসময়ই আলোচনা হতো। বাবা-মায়ের মধ্যে রাজনৈতিক মতবিরোধ ছিল। তার বাবা ছিলেন কংগ্রেস সমর্থক, এবং মা ছিলেন সিপিআইএম সমর্থক। মাঝে মাঝে তাদের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা হতো, তবে এতে পরিবারের সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হয়নি। কবীর সুমন বলেন, তার বাড়িতে যখন এই রাজনৈতিক আলোচনা চলত, তখন তিনি কোনো পক্ষ নিতেন না। শুধু হাসতেন এবং পরিস্থিতি উপভোগ করতেন।

পরিবারের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, ভোটের বিষয়ে কোনো ঝগড়া বা অশান্তি ছিল না। তিনি আরও বলেন, তার নিজের মধ্যে ছাত্রজীবনে নকশালপন্থী মনোভাব ছিল। কিন্তু সে সময় ভোট বয়কট করার প্রবণতা ছিল তার। তার মনে হতো, নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তন সম্ভব নয়। পরিবর্তে, তিনি গণঅভ্যুত্থানের দিকে ঝুঁকেছিলেন। তবে সময়ের সাথে সাথে তার এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। প্রথম ভোট দেয়ার পর থেকেই, তিনি ভোটের গুরুত্ব বুঝতে শুরু করেন। তখনই তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেন এবং লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে শুরু করেন।

আরও পড়ুনঃ “আমি তো আর বাবার মতো রাফ অ্যান্ড টাফ হতে পারিনি…যতই ভালো কাজ করি না কেন, সব সময় তুলনা আসবেই” ফেলুদা নয়, ব্যোমকেশ হয়েও বাবা সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে তুলনা মেনে নিতে হয়? আক্ষেপ রয়ে গেছে গৌরব চক্রবর্তীর?

কবীর সুমন তার বাবার নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেন। তার বাবা একবার পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ভোটের বাক্স নিয়ে যখন তিনি বাড়ি ফিরলেন, তখন তার নাকে এক অদ্ভুত গন্ধ আসছিল, যা আজও মনে পড়ে। একটি ঘটনা তিনি মনে করেন, যখন তার বাবা ভোট দিতে গিয়েছিলেন। অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর, তার বাবা স্ট্যাম্প মারার সময় ভুল করে ভোটটি নষ্ট করে দেন। আশপাশের লোকেরা যখন এটা দেখে অবাক হয়, তখন তার বাবা হেসে বলেছিলেন, “আমি ইচ্ছে করেই ভোটটা নষ্ট করেছি।”

You cannot copy content of this page