টলিউডের পরিচিত মুখ জিতু কমল (Jeetu Kamal) বরাবরই সমাজমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। ছোট পর্দা হোক বা বড় পর্দা, বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মনে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। সম্প্রতি তিনি কাজ করছেন জি বাংলা জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’, যা শুরু হওয়ার পর থেকেই একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছে। প্রথমেই সহ-অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া রায় (Ditipriya Roy) এর সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য প্রকাশ্যে আসে। সেই ঝামেলা এতটাই বাড়ে যে শেষ পর্যন্ত দিতিপ্রিয়াকে ধারাবাহিকটি ছেড়ে দিতে হয়েছিল। ফলে শুরু থেকেই এই সিরিয়ালকে ঘিরে উত্তেজনা ও বিতর্কের আবহ তৈরি হয়।
এই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই টলিউডে নেমে আসে শোকের ছায়া। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জীর (Rahul Arunoday Banerjee) এর অকাল মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে গোটা বিনোদন জগৎ। শুধু শোকই নয়, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুটিং সেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বহু শিল্পী প্রতিবাদে সরব হন এবং সেফটি সিকিউরিটি নিয়ে কড়া অবস্থান নেওয়ার দাবি তোলেন। সেই প্রতিবাদী কণ্ঠগুলির মধ্যে নজর কাড়েন জিতু কমলও।
এরপর নিজের মতো করেই প্রতিবাদ জানান জিতু। তিনি নিজের ছবিতে মালা পরিয়ে রাহুলের স্মৃতিকে তুলে ধরে প্রতিবাদ জানান, যা দ্রুত ভাইরাল হয়। কিন্তু সেখান থেকেই নতুন বিতর্কের সূচনা। এই একই ধারাবাহিকের আরেক অভিনেত্রী পায়েল দে তাঁর এই পদক্ষেপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা করেন। আর তারপর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জিতুর অনুগামীরা পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেন, যা ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত আক্রমণের দিকে চলে যায়।
সবচেয়ে বিতর্কিত দিকটি সামনে আসে এক নেটিজেনের মন্তব্যে। ‘রিংকি দেবনাথ’ নামে এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী লেখেন, “আপনার ফল ভোগ করবে আপনার ছেলে, রাহুল দার মতো জলে ডুবে যখন মারা যাবে তখন বুঝবেন।” এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, কোনও মতভেদ বা তর্ক থাকতেই পারে, কিন্তু একজন ছোট শিশুকে জড়িয়ে এমন অভিশাপ বা মৃত্যু কামনা করা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে প্রশ্ন উঠেছে,ফ্যান হওয়া কি শুধুই অন্ধ সমর্থন, নাকি তারও একটা সীমা থাকা উচিত?

আরও পড়ুনঃ “আদর্শ রাষ্ট্রে কবির কোনও জায়গা হয় না, আমারও কি তবে আদর্শ রাষ্ট্র হওয়ার দিকে এগোচ্ছি?” ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘা’ত, আদালতের গ্রেফ’তারি পরোয়ানা! ১০ বছর পুরনো কবিতার ছায়া এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে রাষ্ট্রকে? প্লেটোর উক্তি আউড়িয়ে, প্রশ্ন করলেন কবি শ্রীজাত!
পুরো ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল, সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার কতটা সংবেদনশীল হওয়া দরকার। একজন অভিনেতাকে সমর্থন করা বা তাঁর পাশে দাঁড়ানো অবশ্যই স্বাভাবিক, কিন্তু সেই সমর্থন যদি মানবিকতার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে তা আর সমর্থন থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে বিদ্বেষ। জিতু কমলের এই বিতর্কে তাঁর কিছু অনুগামীর আচরণ যে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে গোটা ফ্যান সংস্কৃতিকেই, তা বলাই যায়। একজন শিল্পীর ভক্ত হওয়া ভালো, কিন্তু তার জন্য যদি মানবিকতা হারিয়ে যায়,তাহলে সেই সমর্থনের কোনও মূল্য থাকে না।






