“ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে আরও একটা ইন্ডাস্ট্রি….সবাই সুযোগ পায় না’’ “আমরা একই সময় কাজ শুরু করেছি, বিট্টু ‘প্রেম আমার’এর মতো হিট সিনেমা দিয়েও কিছু করতে পারেনি’’ টলিউডের রাজনীতির জেরে কাজ না পাওয়ার আক্ষেপের মাঝেই সহকর্মী সোহম চক্রবর্তীর উত্থান টেনে প্রশ্ন তুললেন মাস্টার রিন্টু!

একসময় বাংলা সিনেমার অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন শিশুশিল্পী রিন্টু দে (Rintu Dey) যাকে দর্শকরা ‘মাস্টার রিন্টু’ নামেই বেশি চিনতেন। আশির দশকের শেষ থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন। “আমার সঙ্গী”, “আশা ও ভালবাসা”-এর মতো ছবিতে তার অভিনয় আজও অনেকের মনে দাগ কেটে আছে। বড় বড় তারকা যেমন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জী বা তাপস পালের সঙ্গেও তিনি কাজ করেছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই উজ্জ্বল ক্যারিয়ার যেন ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যায়।

তবে পর্দার এই সাফল্যের আড়ালে ছিল এক কঠিন বাস্তব। বড় হওয়ার পর শিশুশিল্পী থেকে নায়ক বা চরিত্রাভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি রিন্টু। ফলে ধীরে ধীরে কাজ কমতে থাকে, আর একসময় তিনি প্রায় পুরোপুরি ইন্ডাস্ট্রি থেকেই হারিয়ে যান। একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, জীবনের একটা দীর্ঘ সময় তাকে চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে কাটাতে হয়েছে। এমনও দিন গেছে যখন ঠিকমতো খাওয়াও জোটেনি। এখন তিনি আলোচনার কেন্দ্র থেকে দূরে, খুব সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং মাঝে মধ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যায়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের কেরিয়ার নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন মাস্টার রিন্টু। তিনি জানান, যখন তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেন, ঠিক একই সময়েই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করেছিল ‘বিট্টু’ অর্থাৎ সোহম চক্রবর্তী (Soham Chakraborty)। রিন্টুর কথায়, “আমরা একই সময় থেকে কাজ শুরু করেছি, কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে এমন একটা সিস্টেম আছে যেখানে সবাই সমান সুযোগ পায় না।” এছাড়াও তিনি জানিয়েছিলেন কাজ হয়ে গেলে তিনি আর স্টুডিও পাড়াতে ঘুরতোনা যেটা বিট্টু করতো। তিনি ইঙ্গিত দেন, কারও ক্যারিয়ার এগিয়ে যায়, আবার কেউ পিছিয়ে পড়ে এটা শুধু প্রতিভার উপর নির্ভর করে না।

আরও পড়ুন: “বিবাহ জিনিসটা আসলে পুরুষ মানুষের তৈরি, যাতে না আমার সঙ্গী অন্য কারোর সঙ্গে সহ’বাস করতে পারে” নিজে তিনবার বিয়ে করেও, হঠাৎ দাম্পত্য নিয়ে বি’স্ফোরক অপর্ণা সেন! তাহলে কি আজও বংশপরম্পরা আর সম্পত্তি রক্ষার প্রথাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে সমাজ, কি বললেন অভিনেত্রী?   

রিন্টু আরও বলেন, সোহম আজ টলিউডে প্রতিষ্ঠিত নায়ক হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন, “প্রেম আমার” এর মত হিট সিনেমা দিয়েছেন, কিন্তু সেই পথটা সবার জন্য এক ছিল না। তাঁর কথায়, “ও জায়গা পেয়েছে, কাজ করেছে, হিট ছবিও দিয়েছে কিন্তু তবুও একটা জায়গায় গিয়ে ও কিছুই করতে পারেনি।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা বা সফল হওয়া মানেই সব দিক থেকে পূর্ণতা পাওয়া নয়। একইসঙ্গে নিজের আক্ষেপের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি লড়াই করেছিলাম, কিন্তু আমাকে সেভাবে নায়ক হিসেবে প্রমোট করা হয়নি।”

এরপরই তিনি আরও স্পষ্ট করে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের কথা তুলে ধরেন। রিন্টুর বক্তব্য, “ইন্ডাস্ট্রির ভেতরেও একটা আলাদা ইন্ডাস্ট্রি আছে,” যেখানে সুযোগ বণ্টন, প্রমোশন বা কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক অদৃশ্য প্রভাব কাজ করে। তাঁর মতে, এই অদৃশ্য চাপ ও লবিংয়ের কারণেই অনেক প্রতিভাবান শিল্পী হারিয়ে যান, আর কিছু মুখ বারবার সামনে আসে। তাঁর এই মন্তব্য টলিউডের অন্ধকার দিক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে এবং প্রশ্ন তুলেছে, সত্যিই কি প্রতিভার মূল্যায়ন হচ্ছে, নাকি পর্দার আড়ালে অন্য কোনও খেলা চলছে?

You cannot copy content of this page