আজ অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে তার সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেছেন তার সহ-অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক। দীর্ঘ ৫০ বছরের বন্ধুত্বে গড়া এক অসাধারণ সম্পর্কের কথা ভাগ করেছেন তিনি। রঞ্জিত মল্লিক বলেন, মৌসুমীর সঙ্গে তার প্রথম কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৮১ সালে ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ ছবির মাধ্যমে। তারপর একের পর এক অসংখ্য ছবিতে তাদের জুটি দর্শকরা উপভোগ করেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘বিধিলিপি’, ‘বন্দিনী’, এবং ‘শতরূপা’। মৌসুমী চমৎকার প্রতিভার অধিকারিণী ছিলেন, এবং তার অভিনয়ের সহজাত গুণগুলো তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
রঞ্জিত মল্লিক জানান, মৌসুমীর অভিনয়ের ব্যাপারে যা তাকে সবচেয়ে মুগ্ধ করেছে তা হলো তার ‘কমিক টাইমিং’। তিনি বলেন, “মৌসুমী যেমন হাস্যরসাত্মক চরিত্রে পারদর্শী, তেমনি সিরিয়াস চরিত্রেও সে অনবদ্য। আমি অনেক অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করেছি, কিন্তু মৌসুমীর মতো ‘কমিক টাইমিং’ আর কোনো অভিনেত্রীর মধ্যে দেখা যায়নি।” ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ ছবিতে উত্তমকুমারের বিপরীতে মৌসুমীর অভিনয় দেখে রঞ্জিত মল্লিক তখন ভীষণই চমকে গিয়েছিলেন। মৌসুমী অভিনয়ের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন মনে করতেন না।
আরও পড়ুন: দীর্ঘ ২৩ দিন পর, অবশেষে খোঁজ মিলল পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়ের! কী অবস্থায় আছেন তিনি? এতদিন কেন যোগাযোগ করেননি? কী জানালেন স্ত্রী মৌপিয়া?
তার অভিনয় ছিল একেবারে স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক। রঞ্জিত মল্লিক আরও বলেন, মৌসুমী খুবই নিষ্ঠাবান ও পরিশ্রমী ছিলেন শুটিংয়ের প্রতি। তার ব্যক্তিগত জীবনেও ছিল একরকম প্রাণবন্ততা। “এটা ঠিক যে মৌসুমী কখনও গুরুগম্ভীর ছিল না, তবে সে ছিল অত্যন্ত বুদ্ধিমতী,” বলেন রঞ্জিত। শুটিংয়ের সময় মৌসুমী তার সহকর্মীদের সঙ্গে দারুণভাবে মেলামেশা করত। অভিনেতা, টেকনিশিয়ান বা অন্য কেউ, সবাইকে সমান গুরুত্ব দিত। শুটিংয়ের মাঝে তারা অনেক মজার সময় কাটিয়েছেন, যা এখনো স্মৃতির পাতায় উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।
মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পুত্রবধূ হওয়ার পরেও নিজের জায়গায় অটুট ছিলেন। রঞ্জিত মল্লিক একবার ১৯৮৮ সালে হেমন্তদা, তার স্ত্রী এবং মৌসুমীকে নিজের গলফ গার্ডেনের বাড়িতে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এই সময়েই একটি ঘটনা ঘটেছিল, যখন মৌসুমী হেমন্তদাকে নলেন গুড় খেতে দেয়নি। কারণ, তার স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে মৌসুমী জানতেন যে, হেমন্তদার মধুমেহ ছিল। রঞ্জিত মল্লিক এটিকে একটি দুঃখজনক মুহূর্ত হিসেবে মনে করেন।
তবে মৌসুমীর যত্নশীল মনোভাব দেখে তার প্রতি শ্রদ্ধা বেড়েছিল। মৌসুমী এবং রঞ্জিত মল্লিকের শেষ কাজ ছিল ‘নাটের গুরু’ ছবিতে, যেখানে তারা স্বামী-স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এ ছবিতে কোয়েল মল্লিকের টলিউডে অভিষেক হয়েছিল এবং মৌসুমী তাকে অভিনয়ের নানা পরামর্শ দিয়েছিলেন। কোয়েলকে কীভাবে চরিত্রে নিজেকে প্রকাশ করবে, কোন দৃশ্যে কেমন অনুভূতি দেখাতে হবে, এসব ব্যাপারে মৌসুমী তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলেন।
এই সম্পর্কের গভীরতা এবং মৌসুমীর পরিশ্রমী মনোভাবের প্রশংসা করেন রঞ্জিত মল্লিক। সম্প্রতি, তারা আবার একসঙ্গে কাজ করেছেন ‘আড়ি’ ছবিতে। তবে শুটিংয়ের সময় তাদের দেখা হয়নি। রঞ্জিত মল্লিক মৌসুমীর সুখী ও শান্তিপূর্ণ জীবন কামনা করে তার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি আশা করেন, মৌসুমী যেন আরও অনেক বছর প্রাণবন্ত, হাস্যোজ্জ্বল এবং সুস্থ থাকেন।






