‘চক্ষুলজ্জা নেই? দুদিন আগে পর্যন্ত তৃণমূলের পায়ের তলায় পড়ে থাকতো, এখন সব কটা বিজেপি!’, ভোট মিটতেই টলিপাড়ায় রং বদলের হুড়োহুড়ি দেখে কটা’ক্ষ শ্রীলেখার

পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে যেমন চর্চা শুরু হয়েছে, তেমনই টলিপাড়াতেও দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক। তৃণমূলকে কার্যত পিছনে ফেলে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পথে বিজেপি এগিয়ে গিয়েছে বলে ফলাফলে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় শূন্যে থাকার পর এ বছর একটি আসন জিততে পেরেছে সিপিএমও। এই ফল প্রকাশের পর বহু পরিচিত মুখের অবস্থান বদল নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। ঠিক সেই সময় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র একটি বিস্ফোরক পোস্ট করেন। সেখানে তিনি সরাসরি নাম না করলেও একাংশ অভিনেতা অভিনেত্রীদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর পোস্ট ঘিরে রাতারাতি শুরু হয় জোর চর্চা। ভোট-পরবর্তী এই মন্তব্য এখন নেটমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল।

শ্রীলেখা তাঁর পোস্টে লেখেন, “অভিনেতা অভিনেত্রীদের চক্ষু লজ্জা বলে কিছুই নেই। দুদিন আগে তৃণমূল ধামাধারী ছিল যারা, ভোটের রেজাল্ট বেরোতে না বেরোতেই উল্টো সুর?” এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। আরও লেখেন, “চোখ দিয়ে কি সব করে… ইত্যাদি বলা পাবলিকগুলোর কি মান সম্মান অপমান বোধটুকু নেই?” অভিনেত্রীর অভিযোগ, অনেকেই পরিস্থিতি বুঝে মত বদল করছেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কেউ যদি এত দ্রুত পাল্টে যান, তা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেন না। তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, “এত নির্লজ্জ হয় কি করে, সবটাই নাটক, সিরিয়াল, সিনেমা মনে করে এরা।” পোস্টের ভাষা থেকেই বোঝা যায় তিনি যথেষ্ট ক্ষুব্ধ ছিলেন।

এরপর শ্রীলেখা আরও লেখেন, “আরে একটু সবুর করো। মানুষের চরিত্র বলে কিছুই নেই?” পরে তিনি স্পষ্ট করেন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি কিছু বলছেন না। তাঁর কথায়, “চরিত্র বলতে আমি তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বলছি না, যা খুশি করুক কিন্তু একটা সততা তো থাকবে। এরা কি, কারা? ছি!” রাজনৈতিক মত পাল্টানো নিয়ে তাঁর মূল আপত্তি সততা ও স্থির অবস্থান নিয়ে। একই সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও পরিষ্কার করেন অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, “সিপিএম শূন্যতে ছিলাম, ১-এ আছি, আগামীতেও থাকবো। তফাৎ ছিল, আছে, থাকবে আমৃত্যু।” এই অংশটি নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলাদা করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শ্রীলেখার পোস্টে কারও নাম উল্লেখ না থাকলেও নেটমাধ্যমে অনেকেই মনে করছেন তিনি রূপাঞ্জনা মিত্রকে ইঙ্গিত করেছেন। কারণ বিজেপির জয়ের পর রূপাঞ্জনা একাধিক পোস্ট করেন, যেখানে তাঁর বক্তব্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর স্পষ্ট ছিল বলে অনেকে দাবি করছেন। ফলে শ্রীলেখার মন্তব্য সেই দিকেই গিয়েছে বলে জল্পনা বাড়ে। যদিও এ বিষয়ে শ্রীলেখা সরাসরি কোনও নাম নেননি। তাই বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে অনুমানের স্তরেই রয়েছে। তবুও পোস্ট প্রকাশের পর দুই অভিনেত্রীকে ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক ফলাফলের পর টলিপাড়ার এই মতবদলই এখন আলোচনার কেন্দ্র।

আরও পড়ুনঃ হাইভোল্টেজ ভোটে ব্যপক পরাজয়, মমতা তোষন করেও হালে পানি পেলেন না রাজ! হেরে যাওয়া স্বামীকে ‘সুপারহিরো’ তকমা স্ত্রী শুভশ্রীর!

শুধু রূপাঞ্জনা নন, আরও একাধিক তারকার পোস্ট নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। গতরাতে অভয়ার মাকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গিয়েছে মিমি চক্রবর্তীকেও, যদিও বর্তমানে তিনি তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত নন। বিজেপির জয়ের পর যশ দাশগুপ্ত ও রোহন ভট্টাচার্যও সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানান। অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় কাজের জায়গায় “ব্যান কালচার” নিয়ে সরব হন। অন্যদিকে প্রযোজক রানা সরকার দীঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে পোস্ট করেন। ফলে ভোটের ফলের পর রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি বিনোদন জগতেও অবস্থান, মতামত ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে জোর চর্চা চলছে। শ্রীলেখার পোস্ট সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

You cannot copy content of this page