“এবার বিদায় ‘তৃণউড’…” পালাবদলের হওয়া ঋদ্ধি সেনের গায়েও! হঠাৎ মন্তব্যে শোরগোল ফেললেন কৌশিক-পুত্র! টালিগঞ্জে পাপিয়ার জয়, বিজেপি জমানা শুরু হতেই বি’স্ফোরক বার্তা! টলিউড কি এবার রাজনীতির প্রভাবমুক্ত হবে, কী বললেন তিনি?

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর টলিপাড়ার একাধিক তারকা নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে খবর। শুধু বিজেপি ঘনিষ্ঠ মুখরাই নন, এতদিন ঘাসফুল ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অনেক শিল্পীকেও নতুন পরিস্থিতিকে স্বাগত জানাতে দেখা যাচ্ছে। এই বদলে যাওয়া আবহে টলিউডের ভবিষ্যৎ, শিল্পীদের কাজের পরিবেশ এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঠিক সেই সময়েই অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের একটি সমাজমাধ্যম পোস্ট ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর মন্তব্য ঘিরে এখন নেটমাধ্যমে চলছে জোর আলোচনা।

টলিপাড়ার রাজনীতি ও সংস্কৃতি নিয়ে এই মন্তব্য অনেকের নজর কেড়েছে। ফলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিনোদন জগতও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ঋদ্ধি সেন তাঁর পোস্টে লেখেন, “টলিউড নতুন রাজনৈতিক দলের সাথে কতটা এবং কিভাবে ঘনিষ্ঠ হবে সেটা আরেকটু সময় পেরোলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে তবে আপাতত যেটা ভাবতে ভালো লাগছে সেটা হলো বিদায় ‘তৃণউড’।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “সিনেমা এবং যেকোনো শিল্পমাধ্যমকে রাজনৈতিক দল থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার প্রতিরোধ অব্যাহত থাকা উচিত।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে শিল্পমাধ্যমকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার দাবি উঠে এসেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সরব থাকতে দেখা গিয়েছে ঋদ্ধিকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই সমর্থন জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ সমালোচনাও করেছেন। ফলে এই মন্তব্য ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেক দিন ধরেই টলিপাড়ায় কাজের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ শোনা যায়। ইন্ডাস্ট্রির একাংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে অনেক শিল্পী ও কলাকুশলীর সমস্যা হয়। ফেডারেশনের অনুমতি ছাড়া শুটিং করতে গেলে নানা বাধার মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরিচালক ও প্রযোজকদের একাংশ অতীতে এই বিষয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন। কাজের সুযোগ বণ্টন নিয়েও বারবার প্রশ্ন উঠেছে। ফলে সরকার বদলের পরে অনেকেই জানতে চাইছেন, এবার কি টালিগঞ্জে কাজের পরিবেশ বদলাবে? নতুন প্রশাসনের অধীনে ইন্ডাস্ট্রিতে স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা বাড়বে কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। এই কারণেই ঋদ্ধির পোস্টকে ঘিরে আগ্রহ আরও বেড়েছে। এদিকে টালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে অরূপ বিশ্বাসকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী। জয়ের পর তিনি বলেন, “আমি স্বপ্নের টালিগঞ্জ গড়ব। আমরা সব পরিকল্পনা করে ফেলেছি, সব বলব।

সব দিক থেকে কীভাবে টালিগঞ্জকে নতুনভাবে গড়ে তোলা যায় ব্যবস্থা করা হবে।” তাঁর এই মন্তব্যে টালিগঞ্জের উন্নয়ন এবং নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে। রাজনৈতিক লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে জয় পাওয়ার পর তাঁর বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ টালিগঞ্জ শুধু রাজনৈতিক কেন্দ্র নয়, বাংলার বিনোদন জগতেরও অন্যতম বড় কেন্দ্র। তাই এই এলাকার উন্নয়ন নিয়ে তাঁর প্রতিশ্রুতি নজর কেড়েছে। এখন দেখার, সেই পরিকল্পনা বাস্তবে কত দ্রুত রূপ পায়। পাপিয়া অধিকারী আরও বলেন, “টলিউডের শিল্পী কলাকুশলীরা কাজ করতে পারছেন না। আমার যে সব পরিকল্পনা রয়েছে সবাই কাজ করবে।”

আরও পড়ুনঃ রাজ্যে ফুটেছে পদ্মফুল, পালটি খেলেন কাঞ্চন মল্লিক? ভোটের টিকিট দেয়নি তৃণমূল, বঞ্চিত হয়ে নতুন সরকারের দরবারে কোন আকাঙ্ক্ষা মেটানোর আর্জি অভিনেতার? হাওয়া বদলাতেই, কী বললেন বিদায়ী বিধায়ক?

পাশাপাশি তিনি বলেন, “আপনারা চপ ভাজুন, ঘুগনি বিক্রি করুন। ঝালমুড়ি বিক্রি করুন। আমরা কিনব তবে দেখে নেব কাঁকড় আছে কিনা। হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করেছেন তা ফেরত দিয়ে দেবেন। নাহলে কীভাবে ফেরত দিতে হয় জানা আছে।” তাঁর এই কড়া মন্তব্যও ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে টলিউডকে নতুনভাবে গড়ার আশ্বাস, অন্যদিকে দুর্নীতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ, দুই মিলিয়ে বার্তা স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে টালিগঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন নজর সবার। আগামী দিনে এই ইন্ডাস্ট্রির ছবি কতটা বদলায়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

You cannot copy content of this page