দুঃসংবাদ! ভোটের ফলাফল নিয়ে উচ্ছ্বাস, সব আনন্দ থামিয়ে দিল মর্মা’ন্তিক সড়ক দুর্ঘ’টনা! প্রাণ গেল জনপ্রিয় অভিনেতার! গুরুতর আ’হত স্ত্রী, হাসপাতালে লড়ছেন মৃ’ত্যুর সঙ্গে! শোকে স্তব্ধ ইন্ডাস্ট্রি!  

ভোটের ফল ঘিরে চারদিকে যখন উত্তেজনা, ঠিক সেই সময়ই সামনে এল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার খবর। পরিবারের সঙ্গে গাড়িতে বেরিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়েন দক্ষিণের জনপ্রিয় এক অভিনেতা। পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। আচমকা সংঘর্ষের জেরে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভিতরে থাকা দু’জনই গুরুতর জখম হন। ঘটনাস্থল থেকেই দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই খবরে মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় অনুরাগী মহল। ভোটের ফলের আলোচনার মাঝেই এই দুর্ঘটনা নতুন করে শোকের আবহ তৈরি করেছে। পরিবার সূত্রেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর চিকিৎসকরা দু’জনকেই দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনেন। জানা গিয়েছে, অভিনেতার শরীরে ভিতরে মারাত্মক আঘাত লাগে। তাঁর স্ত্রীরও গুরুতর চোট রয়েছে এবং পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছে বলে জানা যায়। বিকেলের দিকে চিকিৎসকেরা অভিনেতাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিনোদন জগতে নেমে আসে শোকের ছায়া। দম্পতির রাজশ্রী এস নায়ার নামে এক কন্যা রয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। পরিবার ও অনুরাগীরা এখন শোকের মধ্যেই সময় কাটাচ্ছেন। বহু মানুষ সামাজিক মাধ্যমে সমবেদনা জানিয়েছেন।

প্রয়াত এই অভিনেতা হলেন মালয়ালম ছবির পরিচিত মুখ সন্তোষ। ১৯৮২ সালে ‘ইথু ন্যাঙ্গালুদে কথা’ ছবির মাধ্যমে তাঁর অভিনয়জীবন শুরু হয়েছিল। তারপর দীর্ঘ চার দশকের কেরিয়ারে তিনি ১০০-রও বেশি ছবিতে কাজ করেন। কখনও খলনায়ক, কখনও পার্শ্বচরিত্র, আবার কখনও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে তিনি নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বড় নায়ক না হয়েও দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। পর্দায় স্বাভাবিক অভিনয়ের জন্য আলাদা পরিচিতি পেয়েছিলেন সন্তোষ। মালয়ালম চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। সহকর্মীরাও তাঁর কাজের স্মৃতি তুলে ধরছেন।

সন্তোষের অভিনীত একাধিক ছবি আজও দর্শকের মনে রয়েছে। পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের সঙ্গে ‘খাকি’ ছবিতে তাঁর কাজ প্রশংসিত হয়েছিল। মোহনলালের সঙ্গে ‘নাত্তুরাজাভ্যু’ ছবিতেও তিনি নজর কেড়েছিলেন। এছাড়াও ‘রানওয়ে’, ‘দ্য টাইগার’-এর মতো জনপ্রিয় ছবিতে তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ। নানা ধরনের চরিত্রে সহজ অভিনয়ই ছিল তাঁর শক্তি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বর্তমানে তাঁর অভিনীত শেষ ছবি ‘মোহিনীআট্টম’ সিনেমা হলে চলছে। আগামী ৮ মে ছবিটি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই ডিজিটাল মুক্তি আর দেখে যেতে পারলেন না অভিনেতা।

তিরুবনন্তপুরমের এক শিক্ষিত পরিবারে বড় হয়ে ওঠেন সন্তোষ। তাঁর বাবা ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং মা ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। বাবা-মা কর্মসূত্রে ইথিওপিয়ায় থাকতেন বলে ছোটবেলায় তিনি দাদু-ঠাকুমার কাছেই মানুষ হন। সেখান থেকেই তাঁর বেড়ে ওঠা ও জীবনের শুরু। সাধারণ জীবনযাপন এবং নিরহঙ্কার স্বভাবের জন্য ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর আলাদা সম্মান ছিল। মালয়ালম চলচ্চিত্র জগত আজ এক দক্ষ শিল্পীকে হারাল। দক্ষিণ ভারতের বহু তারকা ও অসংখ্য অনুরাগী তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর স্মৃতি রয়ে যাবে অসংখ্য ছবির মধ্যেই।

You cannot copy content of this page