মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বজুড়ে মাতৃদিবস পালিত হচ্ছে, আর এই বিশেষ দিনেই নিজের জীবনের এক গভীর ব্যক্তিগত অধ্যায় খুলে বললেন অভিনেত্রী লাবণী সরকার। মনোবীণা মিত্রের সঙ্গে কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর অভিনেতার জীবনে আসেন লাবণী। সেই সময় কৌশিকের আগের পক্ষের ছেলে সুস্নাতের বয়স ছিল মাত্র ১৩! লাবণী জানান, ওই কিশোরের উপস্থিতিই তাঁর ও কৌশিকের সম্পর্ককে অন্য মাত্রা দিয়েছিল। অভিনেত্রীর কথায়, “কৌশিক আর আমার বৈবাহিক সম্পর্কে জড়ানোর নেপথ্যে আমার ছেলে। ঘেঁটু আমাদের মাঝে না থাকলে হয়তো সম্পর্ককে এই ভাবে গড়ব বলে ভাবতামই না।” তিনি বলেন, সুস্নাতের ডাকনাম ঘেঁটু, আর তিনি নানা নামে ডাকলেও ছেলে সবসময় সাড়া দেয়।
লাবণী জানান, যখন তিনি প্রথম কৌশিকদের জীবনে আসেন, তখনই বুঝতে পেরেছিলেন ছেলেটির জীবনে একজন মায়ের প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর কথায়, “তখন ওর ১৩ বছর বয়স। যখন আমি ওদের জীবনে আসি। আমার আর ঘেঁটুর সম্পর্কের মাঝে কিন্তু কৌশিক নেই।” তিনি আরও বলেন, “১৩ বছরের শিশুকে যখন দেখেছিলাম, মনে হয়েছিল ওর জীবনে সত্যিই মায়ের দরকার।” অভিনেত্রীর মতে, শুধু রক্তের সম্পর্কই সব নয়। তাই কোনওদিন তিনি ভাবেননি যে নিজের সন্তান না হলে সম্পর্ক অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। বরং প্রথম থেকেই সুস্নাতকে আপন করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
নিজের সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন লাবণী। তিনি জানান, “রক্তের সম্পর্কই যে আসল, এই ভাবনায় আমি কোনও দিনই বিশ্বাসী নই। তাই কোনওদিনই মনে হয়নি, আবার নতুন কাউকে আনব।” তাঁর মনে বারবার এসেছে একটাই চিন্তা, “যে শিশু মায়ের আদর, ভালবাসা থেকে বঞ্চিত, তাকেই নিজের সবটা দিয়ে বড় করি।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “শুধুমাত্র আমার গর্ভজাত সন্তান নয় বলে নতুন কাউকে আনব, আবার তাকে বঞ্চিত করে দেব?” লাবণী জানান, তিনি কোনওদিন সমাজের বাঁধা পথে চলতে চাননি। তাই তাঁর জীবনও সাধারণ ছকের মতো এগোয়নি।
আরও পড়ুন: “ভালবাসার আরেক নাম অরুণোদয়…” “সবাই অভিনেতা রাহুলকে চিনত, কিন্তু আমি চাই মানুষ জানুক, ও কতটা ভালো মানুষ ছিল” মাতৃ দিবসে প্রয়াত ছেলেকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ মা শ্যামলী দেবীর!
মাতৃদিবস নিয়ে তাঁদের পরিবারে আলাদা কোনও অনুষ্ঠান হয়নি বলেও জানান অভিনেত্রী। তবে সম্পর্কের গভীরতা ছিল অন্য জায়গায়। লাবণীর কথায়, “আমরা কোনও দিন আলাদা করে মাতৃদিবস পালন করিনি। ১৩ বছর বয়স থেকে ছেলের আমার সঙ্গে একটা বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।” তিনি জানান, সুস্নাত সবসময় চাইত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি পাশে থাকুন। “ও সবসময় আমাকে বলে এসেছে, ওর সব সিদ্ধান্তে যেন আমি পাশে থাকি।” ছেলে মানুষ করার ক্ষেত্রে তিনি নিয়মের চেয়ে অনুভূতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, মাতৃত্ববোধ থেকেই তিনি ছেলেকে সৎ পথে নিজের মতো বড় হতে সাহায্য করেছেন।
এই সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে লাবণী কৃষ্ণের জীবনের উদাহরণও টানেন। তিনি বলেন, “কৃষ্ণের জীবনেও তো দুই মা ছিল। এক জন জন্মদাত্রী। আর অন্য জন যিনি কৃষ্ণকে বড় করেছিলেন।” সমাজে এমন সম্পর্ক নিয়ে অনেক আবেগ থাকলেও বাস্তবে তা নিয়ে সমালোচনা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এসব নিয়ে কখনও ভাবেননি অভিনেত্রী। আজ বহু বছর পরে তিনি বলেন, “অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছি আমরা। এখন ও-ই আমার বাবা। আমার বড় আশ্রয়ের জায়গা। আমি শুধু ওরই ‘মাম্মাম’।” শেষে আবেগঘন স্বীকারোক্তি, “১৩ বছরের শিশুটা আমাকে এত ভালবাসা দিয়ে আগলে না নিলে, হয়তো সম্পর্কগুলো এই ভাবে তৈরি হত না।”






