বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর এক নতুন জল্পনার কেন্দ্রে উঠে এলেন টলিউড তারকা জিৎ। ভোট দেওয়ার দিন থেকেই তাঁকে ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। পরে সমাজমাধ্যমে নতুন বিজেপি সরকারকে শুভেচ্ছা জানান অভিনেতা। এরপর রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘদিন নিজেকে অরাজনৈতিক বলেই পরিচয় দিয়েছেন জিৎ। তাই রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁকে দেখে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল বাড়ে। অনেকের প্রশ্ন, তবে কি এবার সক্রিয় রাজনীতিতে আসছেন অভিনেতা? এই নিয়েই দিনভর আলোচনা চলে বিভিন্ন মহলে। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনার জবাব নিজেই দিলেন জিৎ।
লিখিত বার্তায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি। শপথ অনুষ্ঠানে শুধু জিৎ নন, উপস্থিত ছিলেন একাধিক পরিচিত মুখও। সংগীতশিল্পী অজয় চক্রবর্তী, নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী মমতাশঙ্কর, অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত এবং অভিনেত্রী পায়েল সরকারকে দেখা যায় অনুষ্ঠানে। পাশাপাশি ছোটপর্দার একাধিক শিল্পীও হাজির ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কৌশিক চক্রবর্তী, কৌশিক রায়, ঋষি চক্রবর্তী, অনুষ্কা চক্রবর্তী-সহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানে তারকাদের উপস্থিতি ঘিরে আলাদা উন্মাদনা তৈরি হয়। নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে বিনোদন জগতের এতজনকে একসঙ্গে দেখে নজর কাড়ে সেই আয়োজন।
তবে সবার নজর সবচেয়ে বেশি ছিল জিতের দিকেই। কারণ তাঁর রাজনৈতিক নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে আগেও বহুবার আলোচনা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের তরফে অভিনেতার কাছে জানতে চাওয়া হয়, রাজনৈতিক মঞ্চে উপস্থিত থাকার কারণ কী। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারীর মাধ্যমে জিৎ একটি লিখিত বার্তা পাঠান। সেখানে তিনি বলেন, “জয়ী দল এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তাঁকে সম্মান জানিয়ে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছি। একই সঙ্গে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছি।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেন, এটি ছিল সৌজন্যমূলক উপস্থিতি।
আরও পড়ুন: “এই কষ্ট ভীষণ তীব্র…” মায়ের মৃ’ত্যুর পর প্রথম মাতৃদিবস, আবেগে ভাসলেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী! কান্নাভেজা পোস্টে ফুটে উঠল গভীর শূন্যতা!
কোনও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে যাননি। আমন্ত্রণ পেয়েই সম্মান রেখে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বলে জানান অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য সামনে আসতেই অনেক জল্পনা কিছুটা থামে। অনুষ্ঠানে জিতের পোশাকও আলাদা করে নজর কাড়ে। সাদা পাঞ্জাবি-চোস্তের সঙ্গে গেরুয়া উত্তরীয় পরে তিনি অনুষ্ঠানে পৌঁছন। মঞ্চে পা রাখতেই উপস্থিতদের মধ্যে সাড়া পড়ে যায়। বহু দর্শক ও অনুরাগী তাঁর ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রচারে তাঁকে দেখা যায়নি। সেই কারণেই তাঁর এই উপস্থিতি নিয়ে নানা ব্যাখ্যা শুরু হয়। কেউ মনে করেন এটি ভবিষ্যতের ইঙ্গিত, কেউ বলেন এটি শুধুই সৌজন্য। তবে অভিনেতার তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজনৈতিকভাবে কোনও নতুন সিদ্ধান্তের সঙ্গে এই উপস্থিতির সম্পর্ক নেই।
তিনি আগের মতোই নিজের অবস্থানে রয়েছেন। জিৎ আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, এমন ঘটনা এই প্রথম নয়। তিনি জানান, ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময়ও তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তখনও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং তিনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলেন। সেই উদাহরণ টেনে তিনি বোঝাতে চান, সরকার বদলালেই তাঁর অবস্থান বদলায় না। সব পক্ষের আমন্ত্রণকে সম্মান জানিয়েই তিনি অনুষ্ঠানে যান। তাই তাঁর বর্তমান উপস্থিতিকে রাজনৈতিক রং না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন অভিনেতা। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, আজও তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর বক্তব্যের পর জল্পনার আবহে অনেকটাই ইতি পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।






